কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৯:১৯ পিএম
আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১০:৪৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

অবৈধপথে ইউরোপযাত্রাই মৃত্যুযাত্রা হলো ২০ বাংলাদেশির!

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

উন্নত জীবনের আশায় অনেকেই নিজ দেশ ছেড়ে পাড়ি জমান বিদেশে। অনেকেই আবার দারিদ্র্যকে জয় করার স্বপ্ন নিয়ে দেশ ছাড়েন। অনেকে মনে করেন ইউরোপে গেলেই ভাগ্য ফিরবে। বৈধ পথে নানা জটিলতা ও আর্থিক দৈন্যতার জন্য অবৈধ পথকেই বেছে নেন বেশিরভাগ মানুষ। এজন্য অনেকেই দালালের খপ্পরে পড়ে বিপজ্জনক পথে পা বাড়ান।

অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ও বিভিন্ন দেশের ঝুঁকিপূর্ণ সীমানা পাড়ি দিয়ে ইউরোপযাত্রার সময় অসংখ্য মানুষ জীবন হারাচ্ছেন, নিখোঁজও হচ্ছেন। তেমনি এক মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হলেন হতভাগ্য ২০ বাংলাদেশি যুবক।

লিবিয়া থেকে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে প্রাণ হারিয়েছেন তারা। তাদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত না হলেও ধারণা করা হচ্ছে, নিহত সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। লিবিয়ার ভূমধ্যসাগরের উপকূলবর্তী তীর থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশি একটি সূত্র।

গতকাল শনিবার ত্রিপোলিতে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাস জানিয়েছে, ২০টি মৃতদেহ এরই মধ্যে আজদাদিয়ায় দাফন করা হয়েছে, যা ব্রেগা থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। মৃতদেহগুলো প্রায় পচে-গলে যাচ্ছিল বলেই দাফন করা হয়েছে। মৃতদের কারও কাছেই নাম-ঠিকানার কোনো নথিপত্র পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় রেড ক্রিসেন্ট ধারণা করেছে, তারা সবাই বাংলাদেশি নাগরিক।

জানা গেছে, গত ২৪ জানুয়ারি লিবিয়া উপকূল থেকে ভূমধ্যসাগরে হয়ে একটি নৌকা ইতালির উদ্দেশে রওনা দেয়। ওই নৌকায় অনেক বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন। নৌকাটি ডুবে গিয়ে লাশ ভেসে আসে লিবিয়া উপকূলে। ওই নৌকায় ঠিক কতজন বাংলাদেশি ছিলেন, তা এখনো জানা যায়নি।

প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ এশিয়া ও আফ্রিকা থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ইউরোপে ঢোকার চেষ্টা করেন। এক্ষেত্রে বেশিরভাগের গন্তব্য থাকে স্পেন, ইতালি কিংবা গ্রিসের উপকূল। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানের অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশীও এ পথ বেছে নেন। কঠোর আইন, জীবনের ঝুঁকি, অনিশ্চয়তা এসব বিপত্তি জেনেও অবৈধভাবে ইউরোপ যাত্রা ঠেকানো যাচ্ছে না কিছুতেই। ফলে এ যাত্রা যেন হয়ে উঠছে মৃত্যুফাঁদ।

ছোটো ছোটো নৌকায় ঝুকিপূর্ণ এসব সমুদ্রপথ পাড়ি দিতে গিয়ে প্রায় সময়ই দুর্ঘটনার শিকার হন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। গণমাধ্যমে এসব দুর্ঘটনার খবর আমরা প্রতিনিয়তই দেখি। তারপরেও এটা থামছে না। বাংলাদেশি অনেক তরুণও এই ঝুঁকিপূর্ণ পথে পা বাড়াচ্ছেন।

অভিবাসন নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলো বলছে, এই মৃত্যুফাঁদ থেকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ফেরাতে প্রয়োজন ব্যাপক সচেতনতা। তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিই পারে এ ধরনের পরিণতি এড়াতে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিএসএফের হাতে আটক বাংলাদেশির মৃত্যু 

মাদুরোকে অপহরণ, যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে ইরানে

নারীর গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার

তারেক রহমানের সঙ্গে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট নেতাদের বৈঠক

জবির ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

চলন্ত ট্রেনের হুক ছিঁড়ে দুই বগি বিচ্ছিন্ন

আরও ৩ দেশকে পতনের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

নীলফামারীতে আ.লীগের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদান

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

‘জুলাইযোদ্ধা’ তাহরিমার ২ দিনের রিমান্ড

১০

ওএমআর মেশিনে নানা ত্রুটি, হাতে ভোট গণনার দাবি ছাত্রদল প্যানেলের

১১

বাংলাদেশের ‘পক্ষে’ দাঁড়িয়ে বিসিসিআইকে তুলাধুনা করলেন কংগ্রেস নেতা

১২

মারা গেলেন দক্ষিণ কোরিয়ার কিংবদন্তি অভিনেতা 

১৩

ডিসি অফিসে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে হেনস্তার অভিযোগ

১৪

দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজ থেকে ৪৪ পর্যটক উদ্ধার

১৫

দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আজ ঈশ্বরদীতে 

১৬

এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ‘অতীব জরুরি’ নির্দেশনা

১৭

ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের / বিশ্বকাপের ‘নতুন সূচি প্রস্তুত করছে’ আইসিসি!

১৮

ডিএনসিসিতে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল 

১৯

ভূরাজনৈতিক সংকট / ভেনেজুয়েলা উত্তেজনায় সতর্ক উত্তর কোরিয়া

২০
X