নেপালে ভয়াবহ ভূমিধসে নদীতে ছিটকে পড়েছে দুটি যাত্রীবাহী বাস। ৬৩ জন যাত্রীসহ বাস দুটি এখনো নিখোঁজ রয়েছে। সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, ভোরের দিকে বাসগুলো মহাসড়ক দিয়ে যাচ্ছিল। তখন ভূমিধসের সময় বাসগুলো রাস্তা থেকে ছিটকে নিচের উত্তাল নদীতে পড়ে যায়। এরপর প্রবল স্রোতে ভেসে যায় সেগুলো।
নেপালের স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খবর পেয়েই তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। বাস দুটির খোঁজে ত্রিশূলি নদীতে তল্লাশি অভিযান চলছে। তবে অবিরাম বৃষ্টির জেরে নিখোঁজ বাসগুলোর সন্ধান পেতে নাজেহাল হতে হচ্ছে উদ্ধারকারীদের।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, নেপালের মদন-আশ্রিত মহাসড়কে ত্রিশূলি নদীসংলগ্ন এলাকায় এই ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ৩টার দিকে যখন ভূমিধস হয় তখন বাস দুটি ওই স্থান দিয়ে যাচ্ছিল। ভূমিধসের ফলে বাসদুটি নিচের নদীতে ছিটকে পড়ে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বাস দুটিতে চালকসহ মোট ৬৩ জন যাত্রী ছিলেন।
রিপোর্ট অনুযায়ী, দুটি বাসই ত্রিশূলি নদীতে ভেসে গেছে। বাস দুটির খোঁজে নদীতে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। তবে বাসদুটি এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। প্রবল বৃষ্টিপাতের মধ্যে ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধারকাজ।
এরই মধ্যে দুর্ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে সামাজিক মাধ্যমে বার্তা দিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দাহাল ‘প্রচণ্ড’। যাত্রীদের খোঁজে তল্লাশি চালাতে ও উদ্ধারের জন্য সকল সরকারি সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তিনি লেখেন, দেশের বিভিন্ন অংশে বন্যা ও ভূমিধসে বহু সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির খবরে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। আমি প্রশাসনসহ সরকারের সকল এজেন্সিকে নির্দেশ দিয়েছি যাতে যত দ্রুত সম্ভব যাত্রীদের খুঁজে বের করা হয় এবং উদ্ধার করা হয়।
নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে নেপালে বৃষ্টিজনিত ঘটনায় কমপক্ষে ৬২ জন নিহত এবং ৯০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে থেকে ভূমিধসে ৩৪ জন এবং টানা বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যায় ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তারা।
মন্তব্য করুন