কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:১৯ পিএম
আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:২৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এবার একজন নারীকে চাইছে নেপালের জেন-জি

নেপালের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি। ছবি : সংগৃহীত
নেপালের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি। ছবি : সংগৃহীত

নেপালের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মোড় এসেছে। বিক্ষোভ-সহিংসতার মুখে পদত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি। তার পদত্যাগের পর আগামী সরকার নিয়ে নতুন আলোচনায় সরব হয়ে উঠেছে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়া জেনারেশন-জি।

প্রথমদিকে তারা কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চেয়েছিল। কিন্তু আন্দোলনকারীদের ডাকে সাড়া দেননি তিনি। তাই এবার বিক্ষোভকারীরা দৃষ্টি ঘুরিয়েছেন অন্যদিকে। মঙ্গলবার রাতে প্রায় পাঁচ হাজার তরুণের অংশগ্রহণে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে তারা দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কির নাম প্রস্তাব করেন।

একজন বিক্ষোভকারী নেপালি গণমাধ্যমকে বলেছেন—‘বালেন্দ্র শাহ আমাদের আহ্বানে সাড়া দেননি। তাই আমরা অন্য বিকল্প নিয়ে আলোচনা করেছি। বেশিরভাগই সুশীলা কার্কির নামকে সমর্থন দিয়েছেন।’

সুশীলা কার্কির পাশাপাশি আলোচনায় উঠে এসেছে আরও কয়েকজনের নাম। তাদের মধ্যে রয়েছেন— বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের প্রধান কুলমান ঘিসিং, তরুণ রাজনৈতিক মুখ সাগর ঢাকাল ও ধারানের মেয়র হার্কা সামপাং।

এছাড়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় ইউটিউবার ‘র‌্যান্ডম নেপালি’-র নামও প্রস্তাব করেন কয়েকজন। তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অন্যরা দায়িত্ব নিতে রাজি না হলে তবেই তিনি এগোতে প্রস্তুত।

যদিও বিক্ষোভকারীরা সুশীলা কার্কির নাম চূড়ান্তভাবে প্রস্তাব করেছেন, তবে তার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ এতটা সহজ নয়। তাকে প্রথমে সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগদেলের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। এরপর প্রেসিডেন্টের অনুমতি পেলে তবেই তিনি অন্তর্বর্তী নেতৃত্বে আসতে পারবেন।

এদিকে, কেপি শর্মা অলির পদত্যাগের পর থেকেই দেশজুড়ে সহিংসতা বেড়ে গেছে। ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট, সুপ্রিম কোর্টসহ একাধিক সরকারি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটে। এমনকি বিক্ষোভকারীদের দেওয়া আগুনে এক সাবেক প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী প্রাণ হারান। সব মিলিয়ে এ আন্দোলনে এখন পর্যন্ত ২৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

নেপালের তরুণ প্রজন্ম এখন পুরোনো রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করে নতুন নেতৃত্ব চাইছে। সুশীলা কার্কির নাম সামনে আসা শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, নারীর ক্ষমতায়নের দিক থেকেও একটি ঐতিহাসিক মোড় ঘোরানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। আন্দোলনকারীদের এই দাবি প্রমাণ করছে—তারা শুধু সরকার পতন নয়, বরং একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করতে চায়।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তির কারণে ক্ষুব্ধ ইসরায়েলি ডানপন্থিরা

জয়পুরহাটে হাট-বাজারে মাছ ধরার চাঁই বিক্রির ধুম

যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বিধ্বস্তে ১২ আরোহীর মৃত্যু

পার্থকে সভাপতি করে আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তির খবরে কমেছে তেলের দাম

শীর্ষে ওঠার লড়াইয়ে তিউনিশিয়ার বিপক্ষে এগিয়ে সুইডেন

পুষ্টিগুণে ভরপুর দেশি ফল ডেউয়া

শেষ মুহূর্তে গোল, জয় দিয়েই আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু

যে দলগুলোর সঙ্গে সবচেয়ে বেশি গোল খেয়েছে আর্জেন্টিনা

আরব সাগরে আটকে পড়া ১৪ ভারতীয় নাবিককে উদ্ধার করল যুক্তরাষ্ট্র

১০

নতুন ইউনিয়ন পেল শিবগঞ্জ উপজেলা

১১

এইচএসসি ২০২৬ / নকলমুক্ত পরীক্ষা নিশ্চিতে কেন্দ্রে চলবে কড়া নজরদারি

১২

অটোরিকশার চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে প্রাণ গেল শিক্ষিকার

১৩

নতুন ইরান চুক্তি জেসিপিওএর চেয়ে বেশি ভালো হবে না : ওবামা

১৪

স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যাচেষ্টা, পাষণ্ড স্বামী গ্রেপ্তার

১৫

সিলেটে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, শনাক্ত ২৭

১৬

বেনজীরকে দেশে পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশকে চিঠি দিল আমিরাত

১৭

 শান্তি চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে স্বাক্ষর

১৮

সোমবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ

১৯

দিল্লির বিমানবন্দর থেকে ফেরত আসছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

২০
X