বেশ কয়েক দিন ধরে কোনো কারণ ছাড়াই লোকচক্ষুর আড়ালে চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লি শংফু। তার এমন হাঠাৎ অন্তর্ধানে পশ্চিমা গণমাধ্যম বলছে, লি শংফুর বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে এবং তাকে চাকরিচ্যুত করা হবে। এমনকি তাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন এক শীর্ষ রাষ্ট্রদূত। পশ্চিমা গণমাধ্যমের এমন খবরে চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর অন্তর্ধান নিয়ে জল্পনা আও বাড়ল।
কয়েক সপ্তাহ আগে ৬৫ বছর বয়সী লির ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুরের প্রতিরক্ষা নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের কথা ছিল। তবে সেগুলো তিনি করেননি। সবশেষ গত ২৯ আগস্ট তাকে বেইজিংয়ে আফ্রিকান দেশগুলোর সঙ্গে একটি নিরাপত্তা ফোরামের দেখা গিয়েছিল।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, লির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত চলছে। সম্ভবত তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, লিকে চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে। এর আগে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসও খবর দিয়েছিল, লির বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে।
এক এক্সবার্তায় জাপানে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রাহম ইমানুয়েল বলেন, ‘প্রথমত, প্রতিরক্ষামন্ত্রী লি শাংফুকে তিন সপ্তাহের মধ্যে দেখা যায়নি। দ্বিতীয়ত, ভিয়েতনাম সফরে তিনি ছিলেন না। এখন তিনি সিঙ্গাপুরের নৌপ্রধানের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত বৈঠকে অনুপস্থিত। তাহলে কি তাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে?
তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। লির বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেছেন, তিনি এ বিষয়ে অবগত না।
চীনে কারণ ছাড়াই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিখোঁজ হয়ে যাওয়া নতুন কিছু নয়। প্রায়ই দেখা যায়, কোনো কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপরাধ তদন্ত করায় তিনি হঠাৎ করে নিখোঁজ হয়ে যান। আবার অনেক সময় দেখা যায়, অন্তর্ধানের কয়েক দিন পরে তারা আবার জনসম্মুখে ফিরে আসেন।
এমনকি শি জিনপিং প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে প্রায় ১৪ দিন লোকচক্ষুর আড়ালে ছিলেন। এ সময় তার স্বাস্থ্যগত বিষয় ও কমিউনিস্ট পার্টির ভেতরে ক্ষমতার দ্বন্দ্বের বিষয়টি সামনে এসে পড়ে।
মাত্র কয়েক মাস আগেই চীনের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পদে রদবদল করেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তার আগে এক মাসের বেশি সময় নিখোঁজের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিন গ্যাংকে অপসারণ করে চীনা সরকার।
মন্তব্য করুন