কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৪, ১০:৩৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

পুতিনকে বাঁচাতে নিজের সর্বনাশ ডেকে আনছেন সৌদি যুবরাজ?

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লামিদির পুতিন ও সৌদি যুবরাজ। ছবি : সংগৃহীত
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লামিদির পুতিন ও সৌদি যুবরাজ। ছবি : সংগৃহীত

বয়সে তরুণ হলেও বিশ্বের বাঘা বাঘা নেতাদের ঘোল খাইয়ে যাচ্ছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ক্ষমতায় তার বাবা থাকলেও আসলে সৌদি আরবের পুরো নিয়ন্ত্রণ এখন তার হাতেই। তাই অসুস্থ বাবার হয়ে সব সিদ্ধান্ত নেন যুবরাজ মোহাম্মদ। সৌদি আরবের ভবিষ্যৎ এই নেতা, দেশটিকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখছেন, তার অংশ হিসেবে বেশ কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। তার নেওয়া এমনই এক পদক্ষেপে সরাসরি লাভবান হচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর থেকেই পশ্চিমাদের তোপের মুখে রয়েছেন পুতিন। তার দেশের ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে, রাশিয়ার অর্থনীতিকে চাপে ফেলেছে পশ্চিমারা। বিশেষ করে, দেশটির তেল ও গ্যাস রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা মস্কোর অর্থনীতির ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। ঠিক সেই মুহূর্তে ‘বন্ধু’ পুতিনের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মত ঠিক এমনই।

মার্কিন গণমাধ্যম ব্লুমবার্গ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অপরিশোধিত তেল রপ্তানি কমিয়ে দিয়েছে সৌদি আরব। গেল কয়েক বছরের মধ্যে এত অল্প পরিমাণ তেল কখনও রপ্তানি করতে দেখা যায়নি রিয়াদকে। দেশটি সদ্য শেষ হওয়া জুন মাসে দিনপ্রতি প্রায় ৫৬ লাখ ব্যারেল করে তেল রপ্তানি করেছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় বিশ্ব একেবারে থমকে গিয়েছিল। তখন পড়ে গিয়েছিল তেলের বাজারও। অথচ তখনও দিনপ্রতি প্রায় ৫৩ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল রপ্তানি করেছে সৌদি আরব।

পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেককে নিয়ে তেল উৎপাদনের পরিমাণ কমানোয় নেতৃত্ব দিচ্ছে সৌদি আরব। দেশটি এই দলে রাশিয়াকেও ভিড়িয়েছে। তেলের উৎপাদন কমিয়ে দাম সমন্বয় করতেই এমন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে রিয়াদ। তবে সৌদি আরব রেকর্ড পরিমাণ তেল উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ায় আখেরে লাভবান হয়েছে রাশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। বিশ্লেষকরা মনে করেন, মস্কো ও আবুধাবিকে বাড়তি সুবিধা দিতেই এমনটা করেছে সৌদি আরব।

গেল মে মাসে ওপেক প্লাসের মিটিংয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়। এর ফলে আগামী বছর থেকে প্রতিদিন অতিরিক্ত ৩ লাখ ব্যারেল করে তেল উৎপাদন করতে পারবে দেশটি। আবার পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাজারে প্রবেশাধিকার হারিয়েছে রাশিয়া। তবে সৌদি আরবের প্রচলিত তেলের বাজার এখন কার্যত মস্কোর দখলে। এপ্রিলে রাশিয়ার রপ্তানি করা অপরিশোধিত তেলের ৪৮ শতাংশই কিনেছে চীন। ভারত কিনেছে ২৫ শতাংশ।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর একটি সৌদি আরব। দ্রুত তেলের উৎপাদন বাড়ানোর মতোও সক্ষমতা রয়েছে দেশটির। ২০২২ সালের মার্চ মাসে রাশিয়ার সঙ্গে ‘দামযুদ্ধে’ জড়িয়ে উৎপাদন বাড়িয়ে দিয়েছিল সৌদি আরব। তখন তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল। তেলের দামের সঙ্গে ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয় খুব ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। তবে নিজেদের ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়নে সৌদি আরবকে তেল নির্ভরতা বের করে আনতে চাইছেন যুবরাজ মোহাম্মদ।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাজনীতি হবে মানুষের সেবা ও দেশের উন্নয়নের জন্য : হাবিব

অভিবাসন দমনে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করল মিনেসোটা

‘নারী অবমাননার’ বিতর্কে যশের ‘টক্সিক’

মাথার খুলি খুলে রাখা হয়েছে হুজাইফার

তীব্র উত্তেজনার মধ্যে পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ করল ইরান

জিয়া পরিষদ টেলিটক শাখার দোয়া মাহফিল / খালেদা জিয়ার আদর্শ অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে

আগামী নির্বাচন হবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা নির্ধারণের নির্বাচন : সালাহউদ্দিন 

আমদানিতে শুল্ক কমাল, কত কমতে পারে মোবাইলের দাম?

ইরানে বাড়ি বাড়ি তল্লাশিতে মিলল মার্কিন অস্ত্র ও বিস্ফোরক

গুলিবিদ্ধ শিশু হুজাইফাকে পাঠানো হচ্ছে ঢাকায়

১০

লিভার সুস্থ রাখতে যে সবজি হতে পারে আপনার দৈনন্দিন বন্ধু

১১

শাকসু নির্বাচন নিয়ে সর্বশেষ যা জানা গেল

১২

অবিলম্বে মার্কিন নাগরিকদের ইরান ছাড়ার সতর্কবার্তা

১৩

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত

১৪

প্রেম করছেন নোরা ফাতেহি, প্রেমিক কে?

১৫

অতীতে কারা দায়মুক্তি দিয়েছিলেন? জুলাই যোদ্ধাদের কী হবে

১৬

ইরানের বিরুদ্ধে জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান হিউম্যান রাইটস ওয়াচের

১৭

অবশেষে কমতে শুরু করেছে স্বর্ণের দাম

১৮

হাজার কোটির সম্পত্তি ফিরে পেলেন সাইফ

১৯

মাঠে কৃষকদের সঙ্গে কাজ করলেন নুরুদ্দিন অপু

২০
X