সম্প্রতি বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন রাশিয়ার ভাড়াটে সেনা ওয়াগনারের প্রধান ইয়েভগিনি প্রিগোজিনসহ শীর্ষ নেতারা। এর ফলে দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। এর মধ্যেই কড়া বার্তা দিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
ওয়াগনারের সেনাদের রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনতে এ কড়া বার্তা দেন পুতিন। আগে গত জুনে তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে দলটি। যদিও এক দিনের মাথায় বেলারুশের প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কোর মধ্যস্থতায় তা বাতিল করেন প্রিগোজিন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, রাশিয়ার প্রতি আনুগত্য প্রকাশের হলফনামায় ওয়াগনার সেনাদের স্বাক্ষরের নির্দেশ দিয়েছেন পুতিন। এর মাধ্যমে এ সেনাদলকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর নিয়ন্ত্রণে আনার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার (২৫ আগস্ট) এ সংক্রান্ত একটি ডিক্রিও জারি করা হয়েছে।
ক্রেমলিনের ওয়েবসাইটে এ ডিক্রি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযানে যারা প্যারামিলিটারি হয়ে কাজ করছেন অথবা সহায়তা করছেন তাদের বাধ্যতামূলকভাবে রাশিয়ার প্রতি আনুগত্যের হলফনামায় স্বাক্ষর করতে হবে। এসব যোদ্ধাকে অবশ্যই রাশিয়ার প্রতি আনুগত্য দেখাতে হবে। এ ছাড়া তাদের কমান্ডার ও ঊর্ধ্বতনের নির্দেশনা কঠোরভাবে মানতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, রাশিয়ার মস্কোর টিভের অঞ্চলে একটি বেসরকারি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১০ আরোহী নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে টিভের অঞ্চলের কুজেনকিনো গ্রামের কাছে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিধ্বস্ত হওয়া ওই বিমানে রাশিয়ার ভাড়াটে সেনাদল ওয়াগনার গ্রুপের প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোজিনও ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে রুশ বিমান বাহিনী।
মস্কোর এই বিমান বিধ্বস্তের ঘটনার পেছেনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের হাত থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেছেন, ‘(রাশিয়ায়) কী ঘটেছে, তা আমি জানি না। তবে আমি আশ্চর্য হয়নি। রাশিয়ায় এমন কিছু ঘটে না, যেখানে পুতিনের হাত নেই।’
মন্তব্য করুন