

ভারতের চন্দ্রযান-৩ চাঁদের নতুন ছবি পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির মহাকাশ সংস্থা ইসরো। আজ সোমবার (৭ আগস্ট) চন্দ্রযান-৩-এর তোলা চাঁদের প্রথম ছবি প্রকাশ করেছে ইসরো। খবর বিবিসি।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় মহাকাশযান চাঁদের যত কাছাকাছি যাচ্ছে চাঁদের পৃষ্ঠতলের গর্তগুলো তত বড় হচ্ছে।
এর আগে গত শনিবার চন্দ্রযান-৩ চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করে বলে জানিয়েছিল ইসরো।
গত ১৩ জুলাই স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৩৫ মিনিট ১৭ সেকেন্ডে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে এ মহাকাশযানের সফল উৎক্ষেপণ হয়। ঐতিহাসিক এ মুহূর্তের সাক্ষী হতে সেদিন ভারতের শতকোটি মানুষের চোখ ছিল টেলিভিশন আর সোশ্যাল মিডিয়ায়। আগ্রহ নিয়ে নজর রাখেন বিশ্বের অন্যান্য মহাকাশ গবেষণা সংস্থার বিজ্ঞানীরাও।
আরও পড়ুন : চাঁদের কক্ষপথে ভারতের চন্দ্রযান-৩
এই অভিযান সফল হলে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ভারত চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে একটি রোবটযান নামাতে সক্ষম হবে। চাঁদের ওই অংশ সম্পর্কে এখনো খুব কমই জানে মানুষ। চন্দ্রযান-৩-এর ল্যান্ডার আগামী ২৩ বা ২৪ আগস্ট চাঁদে অবতরণ করবে বলে আশা করছেন ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর বিজ্ঞানীরা। এর আগে শুধু যুক্তরাষ্ট্র, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীনের মহাকাশযান নিরাপদে চাঁদের মাটিতে নামতে পেরেছে।
চাঁদে পৌঁছানোর চেষ্টায় এর আগে দুটি অভিযান চালিয়েছে ভারত। ২০০৮ সালে প্রথম অভিযানে চন্দ্রযান-১ পৌঁছেছিল চাঁদের কক্ষপথে। চাঁদের ভূপৃষ্ঠের গঠন ও পানির উপস্থিতি নিয়ে বড় পরিসরে গবেষণা চালানো হয় সে সময়। দিনের বেলায় চাঁদে যে একটি বায়ুমণ্ডল সক্রিয় থাকে, ওই গবেষণাতে তা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়। ২০১৯ সালের দ্বিতীয় অভিযান আংশিকভাবে সফল হয়েছিল। চন্দ্রযান-২-এর অরবিটার আজও চাঁদের চারপাশ প্রদক্ষিণ করছে এবং তথ্য পাঠাচ্ছে। কিন্তু এর ল্যান্ডার অবতরণের সময় শেষ মুহূর্তের জটিলতায় চাঁদের মাটিতে বিধ্বস্ত হয়।
ইসরোর প্রধান শ্রীধরা পানিকার সোমনাথ বলেন, আগের অভিযানের তথ্য তারা খুব সতর্কতার সঙ্গে বিশ্লেষণ করে এবারের অভিযানের জন্য প্রস্তুত হয়েছিলেন, যাতে চন্দ্রযান-৩ কোনো জটিলতায় না পড়ে।