সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩৩
কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২৫, ০৯:১৪ এএম
আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৫, ০৯:৫২ এএম
অনলাইন সংস্করণ

জনগণকে গাজার পক্ষে রাস্তায় নামতে দিচ্ছে না আলজেরিয়া সরকার

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

আলজেরিয়ার সরকার রাজধানী আলজিয়ার্সে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এক বৃহৎ সংহতি-মিছিল আয়োজনের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করেছে। এই মিছিল আয়োজনের আবেদন করেছিল কয়েকটি রাজনৈতিক দল, যার মধ্যে ছিল র‍্যালি ফর হোপ ফর আলজেরিয়া, ওয়ার্কার্স পার্টি ও মুভমেন্ট অব সোসাইটি ফর পিস। সরকারের এ সিদ্ধান্ত দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

আলজেরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশ সীমিত ও বন্ধ স্থানে অনুষ্ঠিত হলেই ভালো। তারা জনসমাবেশ বা রাস্তায় বিক্ষোভকে অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি হিসেবে দেখছে। মূলত, ২০১৯ সালের ‘হিরাক আন্দোলন’-এর স্মৃতি এখনো তাজা। সে সময় বিপুলসংখ্যক মানুষ রাস্তায় নেমে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদেল আজিজ বুতেফলিকাকে পদত্যাগে বাধ্য করেছিল। বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদেল মাদজিদ তেববুনের শাসনামলেও সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ঠেকাতে কঠোরতা অব্যাহত রয়েছে।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা আন্তর্জাতিক কূটনীতির মাধ্যমে ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।জাতিসংঘে প্রস্তাব উত্থাপন, মুসলিম বিশ্বে জনমত তৈরি ও বিভিন্ন সম্মেলনে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে বক্তব্য রেখেছে। তাদের মতে, জনগণের আলাদাভাবে রাস্তায় নামার দরকার নেই। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি সরকারের এক ধরনের রাজনৈতিক কৌশল, যাতে অভ্যন্তরীণ সমালোচনা ও সংগঠিত আন্দোলনের ঝুঁকি এড়ানো যায়।

গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আলজেরিয়ায় মাত্র দুটি প্রো-প্যালেস্টাইন জনসভা আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রথমটি ২০২৩ সালের ১৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিল। দ্বিতীয়টি হয় ২০২৫ সালের এপ্রিলে, তাতে মাত্র এক হাজারের মতো মানুষ উপস্থিত ছিল। এরপর থেকে বড় কোনো সমাবেশ আয়োজনের অনুমতি আর পাওয়া যায়নি।

এই নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশে নতুন করে জনরোষের সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সাংবাদিক ও বিশ্লেষকরা। আলজেরিয়ার রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলি বুখলেফ মন্তব্য করেছেন, ২০১৯ সালের আন্দোলনের আগুন এখনো পুরোপুরি নিভে যায়নি। সরকার সংহতির নামে যেকোনো জনসমাগমকে সরকারবিরোধী প্ল্যাটফর্মে রূপ নেয়ার আশঙ্কায় অনুমতি দিতে চাইছে না।

এদিকে প্রতিবেশী দেশ মরক্কো ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, সেখানেও বড় বড় ফিলিস্তিনপন্থি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মরক্কোর মিডিয়া এই সুযোগে আলজেরিয়ার ‘মতপ্রকাশের দমননীতির’ সমালোচনায় সরব হয়েছে। তাদের মতে, আলজেরিয়া আন্তর্জাতিক ফোরামে ফিলিস্তিনের পক্ষে দাঁড়ালেও নিজের মাটিতে সংহতির কণ্ঠস্বরকে দমন করছে।

তথ্যসূত্র : মিডলইস্ট আই

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৪ শতাধিক, মোট বৈধ প্রার্থী দাঁড়াল যত

জবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করল ছাত্রদল

তসলিমা নাসরিনসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা

তারেক রহমানের সঙ্গে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের নেতাদের সাক্ষাৎ

২১ জানুয়ারির মধ্যেই ঠিক হবে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভাগ্য

এশিয়ান টিভির ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন

সুষ্ঠু নির্বাচন এবং গণতন্ত্র পুনর্গঠনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা অপরিসীম

নাহিদ ইসলাম ও নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারীর শোকজের জবাব দিল এনসিপি

তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত চট্টগ্রাম : নোমান

১০

৩৭ বছর পর নিউজিল্যান্ডের ‘ভারত’ জয়

১১

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত

১২

১৫ প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করল ডিএনসিসি

১৩

রাউজান-রাঙ্গুনিয়ার অগ্নিকাণ্ড ষড়যন্ত্র উন্মোচনে পুরস্কৃত পুলিশ কর্মকর্তারা

১৪

বিএনপি সরকার গঠন করলে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াবে : ডা. শাহাদাত

১৫

নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের ৭ দফা নির্দেশনা বিএনপির

১৬

ভোটকেন্দ্রে যাওয়াই গণতন্ত্র রক্ষার একমাত্র পথ : ইশরাক হোসেন

১৭

পুরস্কার ভাগাভাগি নিয়ে মাচাদোকে নোবেল ফাউন্ডেশনের বার্তা

১৮

নারী ক্ষমতায়িত হলে জাতির ভবিষ্যৎ বদলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে : জাইমা রহমান

১৯

জম্মু কাশ্মীরে গোলাগুলি, ভারতের ৭ সেনা আহত

২০
X