কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৫২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

গাজা শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করল যুক্তরাষ্ট্র-মিসর-কাতার-তুরস্ক

গাজা শান্তি সম্মেলনে বিশ্ব নেতারা। ছবি : সংগৃহীত
গাজা শান্তি সম্মেলনে বিশ্ব নেতারা। ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ দুই বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় শান্তির এক নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। সোমবার (১৩ অক্টোবর) মিসরের পর্যটননগরী শারম আল শেখে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে গাজা শান্তি চুক্তির গ্যারান্টি ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছে ৪টি দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, কাতার ও তুরস্ক। এই ঘোষণার মাধ্যমে দেশগুলো গাজা চুক্তির স্থায়িত্ব, বাস্তবায়ন ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

সম্মেলনে উপস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ দিনটিকে ‘মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে এক অসাধারণ দিন’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘আজ আমরা কেবল একটি চুক্তি নয়, বরং একটি নতুন ভবিষ্যতের ভিত্তি রচনা করছি। গাজার মানুষ বহু বছরের যন্ত্রণা ও ধ্বংসের পর অবশেষে শান্তির ছোঁয়া পাবে।’

চুক্তি স্বাক্ষরের আগে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ‘এই ঘোষণাপত্রে যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন, প্রশাসনিক কাঠামো, মানবিক সহায়তা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার স্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকবে। আমরা নিশ্চিত করব—এই চুক্তি টিকে থাকবে।’ তিনি দুবার পুনরাবৃত্তি করে বলেন, ‘এটি স্থায়ী হবে, এটাই আমাদের অঙ্গীকার।’

এর আগে গাজায় জিম্মি ও বন্দি বিনিময়ের কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প এক ব্যতিক্রমী সফরে ইসরায়েল পৌঁছান। সেখানে তিনি ইসরায়েলি পার্লামেন্টে ভাষণ দেন এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ‘ধৈর্য, স্থিরতা ও নেতৃত্বের’ প্রশংসা করেন। এরপরই তিনি সরাসরি শারম আল শেখে গাজা শান্তি সম্মেলনে যোগ দেন।

ইসরায়েলের সংসদে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘৭ অক্টোবর থেকে আজ পর্যন্ত ইসরায়েল এমন এক যুদ্ধে লিপ্ত ছিল, যার বোঝা কেবল এক গর্বিত ও দৃঢ় জাতিই বহন করতে পারে। এই ভূখণ্ডের মানুষ বছরের পর বছর ভয়, ক্ষতি ও বেদনার মধ্য দিয়ে গেছে—আজ অবশেষে তারা শান্তির স্বপ্ন দেখতে পারবে।’

ট্রাম্পের মতে, এই চুক্তি শুধু ইসরায়েলের জন্য নয়, ফিলিস্তিনিদের জন্যও এক নতুন সূচনা। তিনি বলেন, ‘গাজা, রামাল্লা, জেরুজালেম—যেখানেই মানুষ আছে, তারা যেন নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারে। এতদিন ধরে চলা এক বেদনাদায়ক দুঃস্বপ্নের এখন অবসান ঘটল।’

চুক্তির আওতায় যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা, প্রশাসনিক সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে নিরাপত্তা ব্যবস্থার রূপরেখা তৈরি হবে। স্বাক্ষরকারী দেশগুলো গাজার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং নতুন করে সহিংসতা প্রতিরোধে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

দীর্ঘ সংঘাত, রক্তপাত ও ধ্বংসের পর এই শান্তি চুক্তি গাজার মানুষকে নতুন আশার আলো দেখিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল একে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়বদল হিসেবে দেখছে। তবে এই শান্তি কতটা স্থায়ী হবে—তা নির্ভর করবে সব পক্ষের আন্তরিকতা ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের ওপর।

কালবেলা/এমএ
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সেই জামায়াত এমপির বিয়ের তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি

জুলাই আন্দোলনে শহীদ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ‘পূর্ণাঙ্গ তালিকা’ প্রকাশ করল সাআস

যুক্তরাজ্যে বেকারত্ব বেড়ে ৪.৯ শতাংশ

চট্টগ্রামে স্ত্রী হত্যা মামলায় স্বামীর যাবজ্জীবন

মধ্যপ্রাচ্যে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়াতে নাগরিকদের পরামর্শ মালদোভার

সিলিমপুর আবাসিক এলাকা এড়িয়ে সড়ক নির্মাণের পরামর্শ সিডিএর

নতুন হামলায় মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস

৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা, অভিযুক্ত আটক

৬ দশকের পুরোনো ঈদগাহ দখলে নিলেন প্রভাবশালী

‘মোড়কের পেছনে লুকোচুরি বন্ধ হোক, সামনে আসুক সত্য’

১০

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর আগ্রহ নেই ইসরায়েলের: স্মোট্রিচ

১১

ইউনিফর্ম পরে আ.লীগের মনোনয়ন জমা: অতিরিক্ত ডিআইজিকে বাধ্যতামূলক অবসর

১২

আসিয়ানের বৈঠকে যোগ দিতে ম্যানিলায় রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

১৩

ঢাবির দুই অনুষদে নতুন ভারপ্রাপ্ত ডিন নিয়োগ

১৪

ফিলিস্তিনি চিকিৎসকের মুক্তির দাবিতে ইসরায়েলিদের বিক্ষোভ

১৫

গায়ানায় ফেরি ডুবিতে মৃত্যু ২৭, নিখোঁজ ৮৩

১৬

ময়মনসিংহে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ৩

১৭

নিজ ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

১৮

ইস্তাম্বুলের পথে পথে ডোনার কাবাব

১৯

এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্যাস সংকটের আশঙ্কা

২০
X