

সিরিয়ার আলেপ্পো শহরের শেখ মাকসুদ এলাকায় সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়েছে। এ নিয়ে একে অপরকে দোষারোপ করছে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) ও সিরীয় সরকারি সেনাবাহিনী।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে এসডিএফ-ঘনিষ্ঠ অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী আসায়িশ দাবি করে, শেখ মাকসুদে চলমান সংঘর্ষ নিয়ে সিরীয় সরকার মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। তারা স্পষ্ট করে জানায়, এই এলাকায় সংঘর্ষে পিকেকে (কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি)-র যোদ্ধারা জড়িত—এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এসডিএফের দাবি, শেখ মাকসুদে যারা লড়াই করছে তারা স্থানীয় বাসিন্দা, যারা নিজেদের পরিবার, ঘরবাড়ি ও সম্মান রক্ষার জন্য প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। সিরীয় সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের সাবেক শাসকগোষ্ঠী বা পিকেকে সদস্য হিসেবে তুলে ধরে বেসামরিক এলাকায় হামলাকে ন্যায্যতা দিতে চাইছে বলেও অভিযোগ করা হয়। সহিংসতার জন্য সিরীয় সরকার ও তাদের মিত্রদের পুরোপুরি দায়ী করে এসডিএফ।
অন্যদিকে, সিরীয় সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে। সেনাবাহিনীর অপারেশন কমান্ড জানায়, উত্তেজনা কমাতে তারা একটি সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছিল, যাতে এসডিএফ যোদ্ধারা অস্ত্রসহ শেখ মাকসুদ ছেড়ে যেতে পারে। তবে তাদের অভিযোগ, এসডিএফ সেই প্রস্তাব ভঙ্গ করে তিনবার সরিয়ে নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত বাসে হামলা চালিয়েছে এবং সামরিক অবস্থানে গোলাবর্ষণ করেছে।
সিরীয় সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, এসব হামলায় তিনজন সেনা নিহত এবং ১২ জনের বেশি আহত হয়েছেন। তারা আরও জানায়, বারবার সময়সীমা লঙ্ঘন ও গোলাবর্ষণের কারণে সব আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। এরপরই শেখ মাকসুদ এলাকায় অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতেই আলেপ্পোতে সিরীয় সরকারি বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত এসডিএফের মধ্যে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। নতুন সরকারে কুর্দি প্রশাসন ও সামরিক কাঠামো একীভূত করার আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার মধ্যেই এই সহিংসতা শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
মন্তব্য করুন