কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:১২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

দ্বিতীয় মেয়াদে কানাডার প্রধানমন্ত্রী হতে যাওয়া কে এই মার্ক কার্নি

মার্ক কার্নি। ছবি : সংগৃহীত
মার্ক কার্নি। ছবি : সংগৃহীত

টানা চতুর্থবারের মতো কানাডার সাধারণ নির্বাচনে জয় পেয়েছে লিবারেল পার্টি। সব কিছু স্বাভাবিক থাকলে ক্ষমতাসীন দলটির প্রধান নেতা মার্ক কার্নি আবারও দেশটির প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। খবর রয়টার্সের।

৬০ বছর বয়সী মার্ক কার্নি গত মাসে জাস্টিন ট্রুডোর স্থলাভিষিক্ত হয়ে লিবারেল পার্টির নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সাধারণ নির্বাচনে তার দলের জয়ের মাধ্যমে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে কানাডার সরকারপ্রধান হতে যাচ্ছেন।

ট্রুডো জানুয়ারিতে প্রায় এক দশক ক্ষমতায় থাকার পর জনপ্রিয়তা হারিয়ে পদত্যাগ করেন। কার্নি প্রথম ব্যক্তি যিনি আইনপ্রণেতা না হয়ে বা মন্ত্রিসভার কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়াই কানাডার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।

সাধারণ সময়ে, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার অভাব লিবারেল পার্টির নেতা হিসেবে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা অসম্ভব ছিল। কিন্তু কানাডার টালমাতাল পরিস্থিতিতে ট্রুডোর থেকে কার্নির দূরত্ব এবং উচ্চ-প্রোফাইল ব্যাংকিং ক্যারিয়ার তার পক্ষে সুবিধা হয়ে দাঁড়ায়।

কার্নির জন্ম ১৯৬৫ সালে কানাডার উত্তর-পশ্চিম টেরিটরিজের ফোর্ট স্মিথে এবং তিনি আলবার্টায় বেড়ে ওঠেন। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক এবং অক্সফোর্ড থেকে স্নাতকোত্তর ও ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ব্যাংক অব কানাডা (২০০৮-২০১৩) এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর (২০১৩-২০২০) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, যা তাকে আর্থিক সংকট মোকাবিলায় দক্ষ নেতা হিসেবে পরিচিত করেছে।

রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা না থাকলেও কার্নির অর্থনৈতিক দক্ষতা এবং সংকট মোকাবিলার অভিজ্ঞতা তাকে এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে কানাডার নেতৃত্ব দিতে সক্ষম করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তাই দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় তিনি কী কার্যকর পদক্ষেপের নেবেন সে দিকে তাকিয়ে রয়েছে পুরো বিশ্ব।

এর আগে মার্চের মাঝামাঝিতে দলের সদস্যদের ভোটে লিবারেল পার্টির নতুন নেতা বাছাই হয়। এতে মার্ক কার্নি ১ লাখ ৩১ হাজার ৬৭৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিনা ফ্রিল্যান্ড পেয়েছেন ১১ হাজার ১৩৪ ভোট। কানাডার রাজনৈতিক ব্যবস্থায় হাউস অব কমন্সের সবচেয়ে বড় দল হিসেবে যিনি লিবারেল পার্টির প্রধান হবেন, দেশটির প্রধানমন্ত্রীও হন তিনি। সে হিসেবে ট্রুডোর বাকি সময়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পান কার্নি।

কার্নি হার্ভার্ড এবং অক্সফোর্ডের স্নাতক। তিনি ১৯৮৮ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর এবং ডক্টরেট উভয় ডিগ্রি অর্জন করেন।

কার্নি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইস হকি দলে গোলরক্ষক হিসেবে খেলেছিলেন। রিডার্স ডাইজেস্ট কানাডায় প্রকাশিত ২০১১ সালে কার্নির একটি প্রোফাইলের তথ্য বলছে, তিনি ইংরেজি সাহিত্য এবং গণিত অধ্যয়ন করতে চেয়েছিলেন কিন্তু কানাডিয়ান-আমেরিকান অর্থনীতিবিদ জন কেনেথ গ্যালব্রেথের বক্তৃতা শুনে অর্থনীতিতে তার গভীর আগ্রহ তৈরি হয়।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৮ হাজার ১০০ কোটির টুর্নামেন্টের লড়াই শুরু

ওমরাহ পালনে ইচ্ছুকদের জন্য বড় দুঃসংবাদ

আগামীর বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে : টুকু

৩২ আসন নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের নতুন বার্তা

জামায়াত আমিরের সঙ্গে সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের সাক্ষাৎ

অবশেষে ভারতের ভিসা পেলেন ইংল্যান্ডের তিন ক্রিকেটার

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় নজর কেড়েছে জেএমজি ফার্নিচার

তারেক রহমানের সহধর্মিণীকে ছবি দেখাচ্ছেন জুলাই শহীদের মা 

ফের বিশ্ব মঞ্চে ফিরছে বিটিএস

১০

ছাত্রদলের নির্বাচন অফিস ঘেরাও নিয়ে শিবির সেক্রেটারির স্ট্যাটাস

১১

জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব দেখা যাচ্ছে এখনই

১২

ইসির কাঠগড়ায় দ্বৈত নাগরিকত্ব

১৩

আর্টেমিস-২ মিশন / ৫০ বছর পর চাঁদে মানুষ পাঠাতে প্রস্তুত নাসা

১৪

পাম্পে শ্রমিক হত্যার অভিযোগ, ‘সুজন যুবদলের কেউ নয়’

১৫

আইসিএমএবি’র নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত

১৬

গাজার জন্য গঠিত বোর্ড অব পিসে আমন্ত্রণ পেলেন যারা

১৭

লামিন বনাম রিয়াল: স্পেন শিবিরে বাড়ছে অস্বস্তি

১৮

রক্ত লাগলে রক্ত দেব: সারজিস

১৯

‘বিএনপি ক্ষমতায় এলে জুলাই যোদ্ধাদের দেখাশোনার জন্য বিশেষ বিভাগ খুলবে’

২০
X