কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৯:৩৫ এএম
আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪, ১০:৫৭ এএম
অনলাইন সংস্করণ

এক ভবনেই বাস পুরো শহরের মানুষের

এক ভবনেই বাস পুরো শহরের মানুষের
বেগিচ টাওয়ার। ছবি : সংগৃহীত

গোটা শহরের মানুষ বাস করে মাত্র একটি ভবনে। বিচ্ছিন্ন এই শহরেও রয়েছে বাজার, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও স্কুল থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো। আর এত সব পরিষেবা পাওয়া যায় শহরের একমাত্র ভবনটিতেই, যেখানে বাসিন্দারা থাকেন। হোয়িটিয়ার নামের ব্যতিক্রমী এই শহরটি অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য আলাস্কায়। সিবিএস নিউজ, উইকিপিডিয়াসহ বিভিন্ন মাধ্যমে শহরটির বর্ণনা উঠে এসেছে।

শহরের একমাত্র ভবনটিকে ডাকা হয় বেগিচ টাওয়ার নামে। এটি ১৯৫৩ সালে নির্মাণ করা হয়। শহরটির বয়সও এর ভবনের কাছাকাছি। শুধু একটি ভবনেই গোটা শহর অবস্থান করায় হোয়িটিয়ারকে বলা হয় ভার্টিক্যাল টাউন। অতীতে এটি কোনো শহর ছিল না। স্নায়ুযুদ্ধের সময় এই ভবনটি ছিল একটি সেনা ব্যারাক। স্নায়ুযুদ্ধ শেষে সেনারা সেখান থেকে সরে গেলে একটিকে বেসামরিক বাসভবনে পরিণত করা হয়। এরপর করিডোর এবং লিফটের মাধ্যমে পুরো বিল্ডিংকে সংযুক্ত করা হয়েছে।

১৪ তলা বিশিষ্ট বেগিচ টাওয়ারে মোট ১৫০টি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। ২০২০ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২৭২ জন মানুষ এখানে বসবাস করছে। আবাসিক সুবিধার পাশাপাশি এই ভবনে পোস্ট অফিস, জেনারেল স্টোর, লন্ড্রি, চার্চ, থানা, কনফারেন্স রুম এবং ইনডোর প্লেগ্রাউন্ডেরও ব্যবস্থা রয়েছে ভবনটিতে।

এই শহরের ভেতরে প্রবেশ করার একটাই রাস্তা, যা মূলত ৪ কিলোমিটার লম্বা একটি টানেল। রাত সাড়ে ১০টার পর বন্ধ করে দেওয়া হয় টানেলটি। শহরটিতে একটি এয়ারফিল্ড থাকলেও ১৯৬৪ সালে ভূমিকম্পের পর এটি ব্যবহারযোগ্য নেই। উপকূলীয় শহর হওয়ার কারণে শহরটির একটি বন্দর থাকলেও শীতকালে কিংবা আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে নৌপথে চলাচল ও বাসিন্দাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।

হোয়িটিয়ারের ৪ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ টানেলটি নর্থ আমেরিকার সর্ববৃহৎ যৌথ রেল ও হাইওয়ে টানেল। প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে রেল আসা যাওয়া করে টানেলটি দিয়ে, সে সময় অন্যান্য যানবাহন চলাচল বন্ধ। রাত সাড়ে ১০টায় টানেলের গেট বন্ধ করার পর আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে পরবর্তী দিন সকালে আবার টানেলের গেট খোলা হয়।

আলাস্কার আবহাওয়া সারা বছরই খারাপ থাকে। কঠিন আবহাওয়ার হাত থেকে বাঁচতে এই বেগিচ টাওয়ারে মানুষ বসবাস করে। হোয়িটিয়ারের আবহাওয়া এতোই খারাপ থেকে যে শীতকালে এর তাপমাত্রা নেমে আসে মাইনার ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ঘণ্টায় ৯৬ কিলোমিটার বেগে বাতাস ও ৬ মিটার তুষারপাত হয়। এ কারণে এই ভবন ছেড়ে লোকজন অন্য কোথাও যান না।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা, ১০ জনের যাবজ্জীবন

পাবলিক বা ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার কতটা নিরাপদ? জানুন

যে জায়গায় কখনোই স্মার্টফোন চার্জ দেওয়া উচিত নয়

নালায় মিলল বস্তাবন্দি অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ

বিজয় আমাদের হয়ে গেছে, এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতা : নুর

ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্ধারণ করবে গণভোট : আলী রিয়াজ

ইরানে ৩ দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা

৪ দেশের বাংলাদেশ মিশনের প্রেস সচিবকে অব্যাহতি

নীরব ঘাতক থাইরয়েড ক্যানসার, এই ৬ লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হোন

যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর বার্তা

১০

ভারতে বাংলাদেশে খেলার পরিবেশ নেই : আসিফ নজরুল

১১

গণতন্ত্র রক্ষায় খালেদা জিয়া দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব : চসিক মেয়র

১২

নির্বাচনের ট্রেন ট্রাকে উঠে গেছে : বদিউল আলম

১৩

গার্মেন্টস শ্রমিকদের ‘রহস্যজনক’ অসুস্থতা, হাসপাতালে ভর্তি শতাধিক

১৪

রংপুরের হ্যাটট্রিক হার

১৫

পলকের প্রিজনভ্যানে ডিম নিক্ষেপ

১৬

প্রথম দেশ হিসেবে স্টারলিংকও অচল করে দিল ইরান

১৭

স্পিরিট পানে প্রাণ গেল ৩ জনের

১৮

নির্বাচনী জনসভায় পুলিশের অনুমতি নিয়ে নতুন নির্দেশনা

১৯

নতুন জরিপে উঠে এলো বিএনপি-জামায়াতের ভোট কত শতাংশ

২০
X