তোশাখানা দুর্নীতি মামলায় তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রধান ইমরান খানকে। আদালতের রায়ের পর একই দিন শনিবার তাকে লাহোরের জামান পার্কের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে মাত্র তিন মাসের মধ্যে দু’বার গ্রেপ্তার হলেন তিনি।
গত মে মাসে আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তারের পর ইমরান-সমর্থকরা দেশের বিভিন্ন সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেন। রাজপথে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভবনে আগুন দিয়ে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করেছিলেন ইমরানের সমর্থকেরা।
কিন্তু এবারের চিত্র সম্পূর্ণ আলাদা। গত শনিবার তাকে লাহোরের বাসা থেকে গ্রেপ্তারের পর তেমন কোনো বিক্ষোভ করেনি পিটিআই-সমর্থকরা। পাকিস্তানে শনিবার রাতটিও অন্যান্য দিনের মতোই ছিল।
আরও পড়ুন : কারাগারে হুমকির মুখে ইমরান খানের জীবন : পিটিআই
এখন দুর্নীতির মামলায় ইমরানকে তিন বছরের সাজা কাটাতে হবে। বর্তমানে তিনি পাঞ্জাবের অ্যাটক কারাগারে বন্দি আছেন। এমনটা হলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনেও অংশ নিতে পারবেন না তিনি।
পরিস্থিতি যখন এমন, তখন অনেক রাজনীতি বিশ্লেষক বলছেন, এবারের জেলেই ইমরানের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ হচ্ছে। এমনটা বলার পেছনে তারা যুক্তি দিচ্ছেন, গ্রেপ্তারের আগে সমর্থকদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়েছিলেন ইমরান। তবে তার এই আহ্বানে তেমন সাড়া দেননি সমর্থকরা।
এ ছাড়া এক সময় সেনাবাহিনীর সহায়তায় ক্ষমতায় গেলেও গত বছর পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে হেরে সরকার থেকে বিদায় নেওয়ার পর সেনাবাহিনীর দুর্নাম করতে শুরু করেন ইমরান। একসময়ের মধুর সম্পর্ক রূপ নেয় তিক্ততায়।
তবে এখানেই ইমরানের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাচ্ছে না বলেও মনে করেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক। এমন ধারার বিশ্লেষকদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইমতিয়াজ গুল। তিনি ইসলামাবাদভিত্তিক থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের প্রধান।
ইমতিয়াজ গুল বলছেন, দেশের সুপ্রিম কোর্টের আদেশে ইমরানের ভাগ্য ফিরতে পারে। সুপ্রিম কোর্ট চাইলে তার সাজা বাতিল করে দিতে পারেন। এরই মধ্যে ইমরানের দল পিটিআই ইসলামাবাদের আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিলের কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ইমরান খানের বিরুদ্ধে কোনো জোরালো মামলা নেই। কারিগরি ভুলের কারণে তিনি এ সাজা পেয়েছেন।
মন্তব্য করুন