

রাজপথজুড়ে ক্রোধে ফেটে পড়া উত্তাল জনস্রোত। হাতে প্রিয় নেতার ছবি, মুখে আকাশবিদীর্ণ করা স্লোগান—আমরা মরব, তবু দাসত্ব মানব না। এক সময়ের প্রবল ক্ষমতাধর নেতার আকস্মিক বন্দিদশা আর বিদেশি শক্তির আগ্রাসনে ফুঁসে উঠেছে দেশটির আপামর জনতা।
লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে গত বুধবার এমনই এক নাটকীয় ও সংঘাতময় দৃশ্যের অবতারণা হয়।
গত ৩ জানুয়ারি ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী ও এর আশপাশের সামরিক-বেসামরিক এলাকায় এক অতর্কিত ও বিধ্বংসী সামরিক অভিযান চালায় মার্কিন বাহিনী। সেখান থেকেই দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে বন্দি করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়।
এই ঘটনার প্রতিবাদে কারাকাসের রাজপথে নেমে আসেন হাজার হাজার মানুষ। বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল মাদুরোর ছবি এবং তাদের প্রতীকী সুপারহিরো সুপার বিগোতে ও সুপার সিলিতার পুতুল। এদিকে ঘটনার পর ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক হুমকি পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
ট্রাম্প সরাসরি ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি ভেনেজুয়েলা চালাবেন। এমনকি ডেলসি রদ্রিগেজ যদি তার কথামতো না চলেন, তবে তাকে মাদুরোর চেয়েও ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
তবে মার্কিন এই আধিপত্য মেনে নিতে নারাজ ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষ। মিছিলে অংশ নেওয়া এক নারী হুংকার দিয়ে বলেন, আমরা একটি গণতান্ত্রিক দেশ। ট্রাম্প আমাদের শাসন করতে পারবেন না। আমরা প্রয়োজনে জীবন দেব, তবু আমেরিকার কলোনি হবো না।
মন্তব্য করুন