কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:২৬ পিএম
আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:২৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

এক সন্তানের দুই জন্ম—মায়ের সাহস আর চিকিৎসার মিরাকল!

দশ সপ্তাহ বয়সে শিশু রাফার্টি আইজ্যাক (মাঝে) বাবা-মা লুসি (বামে) এবং অ্যাডাম (ডানে) -র কাছে বিশেষভাবে অলৌকিক আনন্দের- কারণ তাদের সন্তান দুবার জন্মগ্রহণ করেছিল। ছবি : সংগৃহীত
দশ সপ্তাহ বয়সে শিশু রাফার্টি আইজ্যাক (মাঝে) বাবা-মা লুসি (বামে) এবং অ্যাডাম (ডানে) -র কাছে বিশেষভাবে অলৌকিক আনন্দের- কারণ তাদের সন্তান দুবার জন্মগ্রহণ করেছিল। ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে ঘটেছে এক নজিরবিহীন ও চমকপ্রদ চিকিৎসা-ঘটনা, যেখানে একটি শিশু দুবার জন্মগ্রহণ করেছে—একবার চিকিৎসার প্রয়োজনে এবং পরবর্তীতে প্রকৃত অর্থে পৃথিবীর আলো দেখেছে।

বিরল এই অভিজ্ঞতা পেরিয়ে আসা মা লুসি জন র‍্যাডক্লিফ ও তার সন্তান র‍্যাফার্টি আইজ্যাক এখন সুস্থ এবং এই সাফল্যের জন্য চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতায় ভরপুর।

শনিবার (১৯ এপ্রিল) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি মেইল তাদের প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩২ বছর বয়সী লুসি যখন তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা, তখন একটি নিয়মিত আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষায় ধরা পড়ে তার ডিম্বাশয়ের ক্যানসার। চিকিৎসকরা জানান, সন্তান জন্মের পর চিকিৎসা শুরু করলে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল, যা লুসির জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলত।

গর্ভাবস্থার ইতোমধ্যে কয়েকমাস পার হয়ে যাওয়ায় সাধারণ পদ্ধতিতে সার্জারি করা ছিল অসম্ভব। এই কঠিন পরিস্থিতিতে শল্যচিকিৎসক ড. সোলেইমানি মাজেদের নেতৃত্বে একদল চিকিৎসক একটি জটিল এবং উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতির সিদ্ধান্ত নেন। বিশ্বজুড়ে যেটি হাতে গোনা কয়েকবারই সম্পন্ন হয়েছে।

‘প্রথম জন্ম’ – চিকিৎসার প্রয়োজনে শিশুর শরীর বাইরে আনা : অক্টোবরে, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে লুসির জরায়ু ও গর্ভস্থ শিশুকে তার শরীর থেকে অস্থায়ীভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়, যাতে ক্যানসার অপসারণ করা সম্ভব হয়। সফলভাবে অস্ত্রোপচারের পর, জরায়ু পুনরায় স্থাপন করা হয় লুসির দেহে।

‘দ্বিতীয় জন্ম’ – পৃথিবীতে আগমন : এরপর লুসি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং কয়েক মাস পরে, জানুয়ারিতে শিশুটি প্রকৃতপক্ষে ভূমিষ্ঠ হয়। শিশুটির নাম রাখা হয় র‍্যাফার্টি আইজ্যাক। জন্মের পরপরই এই দম্পতি সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে তাদের জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসক ড. মাজেদকে ধন্যবাদ জানান। আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন চিকিৎসক নিজেও।

লুসি বলেন, আল্ট্রাসাউন্ডের আগে তিনি ক্যানসারের কোনো লক্ষণ টের পাননি। তাই এভাবে সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার সুযোগ পাওয়াটাকে তিনি ভাগ্য হিসেবে দেখছেন। লুসি ও তার স্বামী অ্যাডাম বিশ্বাস রেখেছিলেন চিকিৎসকদের ওপর এবং সেই বিশ্বাসই তাদের এক অভাবনীয় জয় এনে দেয়।

অ্যাডাম বলেন, এত সংগ্রামের পর যখন আমরা র‍্যাফার্টিকে কোলে নিই, সেটি ছিল আমাদের জীবনের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর প্রায় সাত হাজার নারী ডিম্বাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হন, যাদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের ক্ষেত্রেই রোগ ধরা পড়ে দেরিতে। ফলে বছরে প্রায় চার হাজারের বেশি নারী এ রোগে মৃত্যুবরণ করেন। লুসির মতো ঘটনা তাই শুধুই বিরল নয়, বরং চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক অসাধারণ দৃষ্টান্তও বটে।

এই গল্প কেবল একটি শিশুর ‘দুবার জন্মের’ ঘটনা নয়—এটি একজন মায়ের সাহস, একজন চিকিৎসকের নিষ্ঠা এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক যুগান্তকারী সফলতার প্রতীক।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আব্দুল হাদীর জন্মদিনে আজ প্রচার হবে বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র

২০২৭ সালের হজের প্রাক-নিবন্ধন শুরু, আবেদন শেষ কবে

‘এক ছাতার নিচে মিলবে সাভারের সব ভূমিসেবা’

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর জন্য ৬০০ কেজি আম পাঠাল বাংলাদেশ

প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার পরও ইজারাবিহীন বাজারে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ 

ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ

নামাজরত মাকে কুপিয়ে হত্যা: ছেলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

সা ক্ষা ৎ কা র / গাইবান্ধার ঘটনায় উসকানি ও গভীর ষড়যন্ত্রের গন্ধ আছে : ইসলামী আন্দোলন মহাসচিব

পরীক্ষানিরীক্ষা করানো কি চিকিৎসকের অক্ষমতার প্রমাণ? চিকিৎসা বিজ্ঞান কী বলে?

নতুন ৩ উপজেলা ও এক থানার অনুমোদন

১০

ঢাবির নারী শিক্ষার্থীদের বড় সুখবর দিলেন ডাকসু ভিপি

১১

পূর্বাচলকে ঢাকায় যুক্ত করার সিদ্ধান্ত, নিকার সভায় অনুমোদন

১২

সংগীতাঙ্গন মাতানো মুগ্ধ এখন ‘নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট’ হওয়ার অপেক্ষায়

১৩

শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ

১৪

বিশ্বকাপের আয়োজক দেশে নৌকা ডুবি, ৬ জনের মৃত্যুর শঙ্কা

১৫

পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে প্রাণ গেল স্বামী-স্ত্রীর

১৬

সিলেটে হামে এক শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৭৪

১৭

সীমান্তে পিলারের পাশে পড়ে ছিল নারীর মরদেহ

১৮

বাবার সঙ্গে স্কুলে যাচ্ছিল কুশল, পথে বাসচাপায় প্রাণ গেল

১৯

বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ: ১১ বছর পর প্রধান আসামির যাবজ্জীবন

২০
X