

ঘাড়ের ব্যথা এখন খুবই পরিচিত একটি সমস্যা। দীর্ঘ সময় মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার, ভুল ভঙ্গিতে বসে কাজ করা কিংবা ঠিকমতো বিশ্রাম না নেওয়ার কারণে অনেকেই এই ব্যথায় ভোগেন। শুরুতে হালকা অস্বস্তি মনে হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি তীব্র হয়ে উঠতে পারে এবং দৈনন্দিন কাজেও বাধা সৃষ্টি করে।
ভালো খবর হলো, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কিছু সচেতনতা ও সঠিক যত্ন নিলেই ঘাড়ের ব্যথা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
ঘাড়ের ব্যথা সবার ক্ষেত্রে একরকম হয় না। কারও ব্যথা হালকা, কারও আবার এতটাই তীব্র হয় যে, মাথা ঘোরানো বা সোজা করে তাকানোও কষ্টকর হয়ে পড়ে।
-ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া
-ঘাড় নড়াতে অসুবিধা হওয়া
-এক জায়গায় চাপ দিলে ব্যথা বাড়া
-ঘাড় থেকে কাঁধ, মাথা বা হাতে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া
-হাত বা আঙুলে ঝিনঝিনি বা অবশভাব
-ঘাড়ের ব্যথার সঙ্গে মাথাব্যথা হওয়া
হাত দুর্বল হয়ে যাওয়া বা অবশভাব দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
ঘাড়ের ব্যথার পেছনে কয়েকটি সাধারণ কারণ বেশি কাজ করে।
-পেশির টান ও চাপ
-দীর্ঘ সময় ভুল ভঙ্গিতে বসে কাজ করা
-মোবাইল নিচু করে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকা
-ভুলভাবে ঘুমানো
-হঠাৎ ভারী কাজ বা ব্যায়াম করা
-আঘাত (দুর্ঘটনা, পড়ে যাওয়া বা খেলাধুলার সময় ঘাড়ে আঘাত লাগলে ব্যথা হতে পারে।)
-অন্য রোগের প্রভাব
-রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস
-ডিস্ক সরে যাওয়া
-ঘাড়ের অস্টিওআর্থ্রাইটিস
-স্পাইনাল স্টেনোসিস
কিছু ক্ষেত্রে ঘাড়ের ব্যথা হৃদরোগ বা মেনিনজাইটিসের লক্ষণও হতে পারে। ঘাড়ের ব্যথার সঙ্গে যদি বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, জ্বর বা প্রচণ্ড মাথাব্যথা থাকে, তাহলে তা জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
হালকা ব্যথা হলে প্রথমে ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে।
-শুরুর দিকে বরফ সেঁক দিলে ব্যথা ও ফোলা কমে
-কয়েক দিন পর গরম সেঁক উপকার দিতে পারে
-প্রয়োজনে প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেন খাওয়া যেতে পারে
-কয়েক দিন ভারী কাজ এড়িয়ে চলা ভালো
-ধীরে ধীরে ঘাড়ের হালকা ব্যায়াম ও স্ট্রেচিং করা
-সোজা হয়ে বসা ও দাঁড়ানোর অভ্যাস গড়ে তোলা
-এক ভঙ্গিতে দীর্ঘ সময় বসে না থাকা
ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নেক ব্রেস বা কলার ব্যবহার করা ঠিক নয়।
ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা ঘরোয়া উপায়ে না কমলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক এক্স রে, এমআরআই বা রক্ত পরীক্ষা করতে পারেন।
চিকিৎসার মধ্যে থাকতে পারে
-ব্যথানাশক ওষুধ
-ফিজিওথেরাপি
-পেশি শিথিলকারী ওষুধ
-ইনজেকশন বা বিশেষ থেরাপি
-জটিল ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার
কিছু বিকল্প চিকিৎসা যেমন ম্যাসাজ বা আকুপাংচার উপকার দিতে পারে, তবে অবশ্যই প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে করাতে হবে।
-এক সপ্তাহের বেশি সময় ব্যথা থাকলে
-হঠাৎ তীব্র ব্যথা শুরু হলে
-ঘাড়ে ফুলে যাওয়া বা গাঁট দেখা দিলে
-জ্বর, বমি বা গিলতে কষ্ট হলে
-হাত বা পায়ে দুর্বলতা বা অবশভাব হলে
-দুর্ঘটনার পর ঘাড়ে ব্যথা শুরু হলে
ঘাড়ের ব্যথা বেশিরভাগ সময়ই আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসের ফল। সঠিক ভঙ্গিতে বসা, নিয়মিত বিরতি নেওয়া এবং হালকা ব্যায়াম করলে এই সমস্যা অনেকটাই এড়ানো যায়। তবে ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। সচেতন থাকলেই ঘাড় থাকবে সুস্থ এবং স্বস্তিতে।
সূত্র : Clivland clinic
মন্তব্য করুন