নিজের স্বার্থে জনসাধারণের ফোনে আড়িপাতা নতুন কিছু নয়। বিভিন্ন সরকার বছরের পর বছর, নিজ দেশের জনগণের ওপর গোপনে চালিয়ে এসেছে এই কার্যক্রম। আর এই গোয়েন্দা নজরদারিতে এসব সরকারের প্রধান সহযোগী হয়েছে টেলিকম কোম্পানিগুলো। এবার গোপন নথি টেলিকম কোম্পানির এমন নজরদারির গোমর ফাঁস করেছে। কীভাবে এসব কোম্পানি বছরের পর বছর জনগণের ওপর নজরদারি চালিয়েছে, তার একটা প্যাটার্নও খুঁজে পাওয়া গেছে।
অপরাধীরা দেশের ক্ষতি করতে পারে, এমন অজুহাতে ফোনে আড়িপাতাকে বৈধ করতে চেয়েছে বিভিন্ন দেশের সরকার। এ নিয়ে অবশ্য বিতর্কের শেষ নেই, বিশেষ করে এতে করে ব্যক্তি স্বাধীনতা খর্ব হতে পারে বলেই মত অনেকের। সম্প্রতি অ্যাপলকে আইক্লাউডের এনক্রিপ্টেড ডাটা অ্যাকসেস করতে দিতে নির্দেশ দেয় ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরপর ফোনে আড়িপাতার বিষয়টি নতুন করে সামনে আসতে শুরু করে।
যদিও ব্রিটেনের ন্যাশনাল আর্কাইভস বলছে, ফোনে আড়িপাতা নতুন কিছু নয়। সেখানে বলা হচ্ছে, দশকের পর দশক ব্রিটিশ সরকার এই কাজ করে গেছে গোপনে। টেলিকম কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যোগসাজশ চালিয়ে যাওয়া এই অপারেশনের ব্যাপারে জনগণ ও পার্লামেন্টকে রাখা হয়েছে পুরোপুরি অন্ধকারে। ২০১৩ সালে এমন গোপন নজরদারির বিষয় ফাঁস করে দিয়ে দেশছাড়া হয়েছিলেন সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা এডওয়ার্ড স্নোডেন।
ফোনে আড়িপাতা নিয়ে ব্রিটেনের GCHQ গোয়েন্দা সংস্থার বড় ধরনের কর্মসূচি চলমান রয়েছে। আর এজন্য ব্রিটেনের টেলিকম জায়ান্ট বিটি ও ভোডাফোনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল GCHQ। এই দুই টেলিকম সংস্থা GCHQ-কে সমুদ্রের তলদেশে থাকা তাদের ক্যাবলের গোপন আনলিমিটেড অ্যাকসেস দিয়েছে। এই ক্যাবলই বিশ্বের বেশির ভাগ ইন্টারনেট ও ফোন ট্রাফিকের যোগান দেয়।
এই ক্যাবলগুলো সমুদ্র তলদেশের ওপর বিছানো ফাইবার-অপটিক লাইন, যা হাজার হাজার মাইল বিস্তৃত এবং বিভিন্ন দেশ ও মহাদেশকে সংযুক্ত করেছে। এগুলো বিশ্বব্যাপী যোগাযোগের মেরুদণ্ড। কারণ ইমেইল, ফোন কল এবং ইন্টারনেট ট্র্যাফিকসহ ৯৫ ভাগেরও বেশি আন্তর্জাতিক ডেটা প্রেরণ করা হয় এই ক্যাবল ব্যবহার করে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্তব্য জানাতে অস্বীকৃতি জানায় বিটি। তবে ভোডাফোন নাকি সেই ১৯৬০-র দশকের শেষ দিক থেকে এমন কুকর্মের সঙ্গে জড়িত।
মন্তব্য করুন