

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তারা দুই বছর বয়সী এক শিশুকন্যা ও তার বাবাকে আটক করেছেন। তাকে আটকের পর টেক্সাসে পাঠানো হয়েছে। আদালতের নথি ও পরিবারের আইনজীবীদের বক্তব্যে এমন নৃশংস আচরণের তথ্য উঠে এসেছে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে মিনিয়াপোলিসে দোকান থেকে বাসায় ফেরার সময় এলভিস জোয়েল টিই নামের ওই ব্যক্তি ও তার শিশুকন্যাকে আটক করা হয়। সেদিন সন্ধ্যায় এক ফেডারেল বিচারক শিশুটিকে রাত ৯টা ৩০ মিনিটের মধ্যে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু নির্দেশ অমান্য করে অভিবাসন কর্মকর্তারা বাবা ও মেয়েকে টেক্সাসের একটি ডিটেনশন সেন্টারে পাঠান।
পরিবারের আইনজীবী ইরিনা ভাইনরম্যান জানান, পরে দুজনকেই আবার মিনেসোটায় ফিরিয়ে আনা হয় এবং শিশুটিকে তার মায়ের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে বাবা এখনো মিনেসোটায় আটক রয়েছেন। এ ঘটনা কল্পনাতীত। এর নিষ্ঠুরতা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
আদালতের নথি ও আইনজীবীদের বিবরণে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বাবা ও মেয়ের বাড়িতে পৌঁছানোর সময় কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই অভিবাসন কর্মকর্তারা বাড়ির উঠান ও ড্রাইভওয়েতে প্রবেশ করেন। অভিযোগ রয়েছে, এক কর্মকর্তা শিশুটি গাড়ির ভেতরে থাকা অবস্থায় বাবার গাড়ির জানালার কাচ ভেঙে ফেলেন।
আইনজীবী কিরা কেলি জানান, শিশুটির মা দরজার কাছে ছিলেন এবং কর্মকর্তারা এগিয়ে এলে তিনি ঘরের ভেতরে চলে যান। কিন্তু কর্মকর্তারা বাবাকে শিশুটিকে তার মায়ের কাছে বা ঘরের ভেতরে অপেক্ষমাণ পরিবারের সদস্যদের কাছে দিতে দেননি। এরপর বাবা ও মেয়েকে একটি অভিবাসন কর্মকর্তার গাড়িতে তোলা হয়। তবে গাড়িতে কোনো শিশুসিট ছিল না।
আইনজীবীরা জরুরি আবেদন করলে মিনেসোটার এক ফেডারেল বিচারক রাত ৮টা ১০ মিনিটে সরকারকে তাদের মিনেসোটার বাইরে স্থানান্তর না করার নির্দেশ দেন। পরে আরেকটি আদেশে শিশুটিকে অবিলম্বে তার আইনজীবীর জিম্মায় মুক্তি দেওয়ার কথা বলা হয়। বিচারক বলেন, শিশুটির ক্ষেত্রে ‘অপূরণীয় ক্ষতির ঝুঁকি’ রয়েছে এবং মামলায় আবেদনকারীর জয়ের সম্ভাবনা প্রবল।
তবে আইনজীবীদের অভিযোগ, এসব আদেশের পরও রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাবা ও মেয়েকে টেক্সাসগামী বিমানে তোলা হয়।
আইনজীবীরা জানান, ইকুয়েডর থেকে আসা এলভিস জোয়েল টিই-এর আশ্রয় আবেদন এখনো বিচারাধীন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ নেই। শিশুটি যুক্তরাষ্ট্রে নবজাতক হিসেবে আসার পর থেকেই মিনিয়াপোলিসে বসবাস করছে।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শুক্রবার হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) কোনো জবাব দেয়নি। তবে এক বিবৃতিতে ডিএইচএস দাবি করে, বৃহস্পতিবার একটি ‘টার্গেটেড এনফোর্সমেন্ট অপারেশনের’ সময় তারা ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে। বিভাগটি তাকে ‘অবৈধ অভিবাসী’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করে, তিনি বেআইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পুনঃপ্রবেশ করেছিলেন এবং শিশুকে নিয়ে ‘বেপরোয়া গাড়ি চালাচ্ছিলেন’।
ডিএইচএস আরও দাবি করে, শিশুটিকে মায়ের কাছে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও মা তাকে নিতে অস্বীকৃতি জানান। তবে আইনজীবীরা এটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।
মন্তব্য করুন