

সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার পর দুই দেশের সংঘাত আবারও নতুন মোড় নিয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় উভয় পক্ষই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি করেছে। এতে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এপ্রিলে দুই দেশ একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর জুনে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছিল, যার লক্ষ্য ছিল স্থায়ীভাবে সংঘাতের অবসান। তবে সাম্প্রতিক হামলার পর সেই উদ্যোগ বা শান্তিচুক্তি কার্যত ভেঙে পড়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে ইরানও কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে পাল্টা জবাব দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতেও পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। সাম্প্রতিক হামলা ইরানের সামুদ্রিক রুটে হুমকি সৃষ্টির সক্ষমতা পুরোপুরি নষ্ট করতে পারেনি।
যদিও সর্বশেষ হামলাগুলোর তীব্রতা ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর সময়ের তুলনায় কিছুটা কম, তবুও শান্তি প্রক্রিয়া টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় কমান্ডের সাবেক গোয়েন্দা কেন্দ্রের পরিচালক কার্ল শুস্টার বলেন, যুদ্ধবিরতির টিকে থাকার সম্ভাবনা শুরু থেকেই খুব কম ছিল। কারণ, যে ইরানি সরকার সমঝোতায় সই করেছে, তাদের ওপর দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ নেই।
তিনি বলেন, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তারা সরাসরি সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কাছে জবাবদিহি করে। ফলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে বাহিনীটির আগ্রহ খুবই সীমিত।