

মার্কিন নৌ অবরোধ কার্যকর হওয়ার আগে মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কিছুটা বেড়েছে। শিপ-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন প্রণালি অতিক্রম করা অধিকাংশ জাহাজই ইরানের বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল। খবর রয়টার্সের।
তথ্য বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মোট ১১টি জাহাজ চলাচল করেছে, যার মধ্যে ৯টি ইরানি রুট ব্যবহার করেছে।
এসবের মধ্যে একটি আফ্রাম্যাক্স আকারের তেলবাহী জাহাজ এবং দুটি ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার খালি অবস্থায় প্রণালিতে প্রবেশ করে। অন্যদিকে প্রণালি ছেড়ে যাওয়া জাহাজগুলোর মধ্যে ছিল ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহনকারী একটি জাহাজ, পরিশোধিত জ্বালানি বহনকারী একটি মাঝারি আকারের ট্যাংকার, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বহনকারী দুটি ট্যাংকার, একটি মিথানলবাহী জাহাজ এবং লৌহ আকরিক বহনকারী একটি বাল্ক ক্যারিয়ার।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী দেশগুলোর জন্য কোনো তেল বা গ্যাসবাহী ট্যাংকারের প্রবেশ বা প্রস্থানের তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সব বন্দরকে লক্ষ্য করে পুনরায় নৌ অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে বলেন, তেহরান আলোচনায় না ফিরলে আগামী সপ্তাহে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালানো হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে যেত।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, গত এক সপ্তাহে ইরান সাতটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এসব ঘটনায় প্রায় এক ডজন নাবিক নিহত, নিখোঁজ বা আহত হয়েছেন বলে ওয়াশিংটনের দাবি। তবে এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সুপারট্যাংকারে হামলার ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যের স্পট মার্কেটে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। নতুন করে বাড়ছে অন্যান্য খনিজ জ্বালানির দামও।