

আসছে নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সেটিতে কি অংশগ্রহণ করতে পারবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প? ৩৪টি ব্যবসায়িক নথিপত্রের তথ্যে গরমিলের অভিযোগে বৃহস্পতিবার (৩০ মে) নিউইয়র্কের একটি আদালত সাবেক এই প্রেসিডেন্টকে দোষী সাব্যস্ত করার পর এই প্রশ্ন এখন সবার মনে। এ ছাড়া প্রশ্ন উঠছে, কী সাজা হতে পারে সাবেক এ মার্কিন প্রেসিডেন্টের।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই প্রথম সাবেক কোনো প্রেসিডেন্ট ফৌজদারি কোনো মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলেন। যৌন সম্পর্কের বিষয়টি গোপন রাখতে এক পর্নো তারকাকে ১ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার ঘুষ দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর সেই ঘুষ আদান-প্রদানের তথ্য লুকাতে ৩৪টি ব্যবসায়িক নথিপত্রের তথ্যে গরমিল করেছিলেন এই সাবেক প্রেসিডেন্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দোষী সাব্যস্ত হলেও নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়াই করতে পারবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কারণ সংবিধান অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী এবং সেখানে অন্তত ১৪ বছর বসবাস করা ৩৫ বছর বা তার বেশি বয়সি যে কেউ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা রাখেন। অপরাধী সাব্যস্ত হলে প্রার্থী হওয়া যাবে না, এমন কোনো বিধান দেশটিতে নেই।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ফৌজদারি আদালতে ট্রাম্প অপরাধী সাব্যস্ত হওয়ায় নভেম্বরের নির্বাচনে তার প্রভাব পড়তে পারে। চলতি বছরের শুরুর দিকে ব্লুমবার্গ ও মর্নিং কনসাল্টের এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের দোদুল্যমান রাজ্যগুলোর ৫৩% ভোটার জানিয়েছেন, ট্রাম্প দোষী সাব্যস্ত হলে তারা রিপাবলিকান দলকে ভোটদানে বিরত থাকবেন। এ ছাড়া চলতি মাসে কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটির আরেকটি জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্প অপরাধী প্রমাণিত হলে ৬ শতাংশ ভোটার তাকে ভোটদানে বিরত থাকবেন।
এদিকে প্রশ্ন উঠেছে ট্রাম্পের জেলে যাওয়া নিয়েও। সম্ভাবনা ক্ষীণ হলেও ট্রাম্পের জেলে যাওয়া একেবারে অসম্ভব নয়। তার বিরুদ্ধে যে ৩৪টি অভিযোগ আনা হয়েছে, সেসব অভিযোগ নিউইয়র্ক স্টেট আদালতের মানদণ্ডে ‘ই’ শ্রেণির, যা সর্বনিম্ন অপরাধ। এই রকম প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ চার বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এমনটি হলে ১০০ বছরেরও বেশি সময় কারাদণ্ড হতে পারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের।
তবে বিচারক চাইলে ট্রাম্পের সাজা কয়েকটি কারণে কমাতে পারেন। এর একটি হল ট্রাম্পের বয়স। বর্তমানে সাবেক এই প্রেসিডেন্টের বয়স ৭৭ বছর। এছাড়া পূর্বে আর কখনও আদালতের আদেশে অপরাধী সাব্যস্ত না হওয়া এবং সহিংস অপরাধের সঙ্গে জড়িত না থাকার মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে পারেন বিচারক। এর পাশাপাশি জেলে পাঠানো প্রসঙ্গে ট্রাম্পের সাবেক প্রেসিডেন্ট পদ এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতার বিষয়টিও বিবেচ্য।