কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের চরবাকর অংশে দিন দিন বাড়ছে দুর্ঘটনা। এ অংশে সড়কের দুপাশে মাটি নেই। বারবার কার্পেটিংয়ের কারণে সড়কের দুপাশ উঁচু হয়ে গেলেও ফুটপাতে মাটি দিয়ে উচ্চতা সমান করা হয়নি। ফলে দুটি গাড়ির ওভারটেকের সময় চাকা সড়কের পাশে নামলেই গাড়ি উল্টে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। গত এক বছরে এ স্থানে শতাধিক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে যাত্রীবাহী বাসসহ অন্যান্য যানবাহন। এতে ২০ থেকে ২৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। পঙ্গু হয়েছেন পাঁচ শতাধিক।
সম্প্রতি ওই এলাকার স্থানীয়রা সড়কের দুপাশে মাটি ফেলে রাস্তা সমান ভরাট করা ও জেব্রা ক্রসিংয়ের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। এ সময় সওজের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দ্রুত সংস্কারে উদ্যোগ নেবেন বলে জানান। এরপর দুই মাস পার হলেও কোনো ব্যবস্থা নেননি তিনি। ফলে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
গত ৮ সেপ্টেম্বর সকালে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে চরবাকর গিয়ে দেখা যায়, ফারজানা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টো পাশের খাদে পড়ে আছে। এতে কারও প্রাণহানি না ঘটলেও গুরুতর আহত হয়েছেন ২৫ থেকে ৩০ জন। এর দুদিন আগে একই স্থানে নিউ জনতা নামে অন্য একটি বাস উল্টে খাদে পড়ে যায়। এর দেড় মাস আগে ওই একই স্থানে একটি প্রাইভেটকার উল্টে পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা যান।
চরবাকর আলম মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম বলেন, চরবাকরের এ স্থানটি মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। মাদ্রাসার সামনে ঝুঁকিপূর্ণ এ সড়কটি হওয়ায় ছাত্রছাত্রীরাও রাস্তা পারাপারে আতঙ্ক থাকেন। কয়েকদিন আগে এ স্থানে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে ধাক্কা লেগে এক ছাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। দু-এক দিন পর পর একই স্থানে এতবার দুর্ঘটনা দেখতে হয়।
স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সেলিম বলেন, এক বছরে প্রায় ২৫ জন মারা যান। সড়কের পাশে বাড়ি হওয়ায় নিজের চোখে এসব দুর্ঘটনা দেখতে হয়। আমি নিজেও কত মানুষ জীবিত উদ্ধার করেছি, এর হিসাব নেই। যারা দুর্ঘটনার শিকার হন, তখন তাদের আর্তচিৎকারে এ এলাকার আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে যায়। এ ‘ধীরে চলুন’ বা ‘বিপজ্জনক সড়ক’ নামে কোনো সাইনবোর্ড নেই। সড়কের দুই পাশে মাটি না থাকায় এখানে কোনো যানবাহন ওভারটেকিং করার সময় চাকা নিচে পড়ে যানবাহন উল্টে যায়।
এ বিষয়ে কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা বলেন, কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের চরবাকরসহ যেখানে এমন সড়ক রয়েছে, সে কাজের টেন্ডার হয়ে গেছে। বৃষ্টির কারণে কাজ করা যাচ্ছে না। আমি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার জন্য বলব।
মন্তব্য করুন