

বিএনপি ক্ষমতায় এলে আইনশৃঙ্খলা কঠোরহস্তে নিয়ন্ত্রণ করবে বলে উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের মানুষ যদি বিএনপির পাশে থাকে ইনশাআল্লাহ আগামীতে আমরা একইভাবে কঠোরহস্তে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করব। যাতে দেশের সাধারণ মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে। এ ছাড়া বিএনপি নির্বাচিত হলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা হবে। এটিই বিএনপির কমিটমেন্ট।
গতকাল রোববার দুপুরে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত বিএনপির সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এসব কথা বলেন। মঞ্চে বক্তৃতা করতে উঠেই তিনি সমবেত জনতার উদ্দেশে চাটগাঁইয়া ভাষায় বলেন, ‘আসসালামু আলাইকুম, অনরা ক্যান আছেন?’ এ সময় নেতাকর্মীরা সমস্বরে ‘ভালা আছি’ বলে উত্তর দেন।
এরপর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, এই সেই চট্টগ্রাম, এই সেই পুণ্যভূমি, যেখান থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই সেই চট্টগ্রামের পুণ্যভূমি, যেখানে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শহীদ হয়েছিলেন। এই সেই চট্টগ্রামের পুণ্যভূমি, যেখানে খালেদা জিয়াকে দেশনেত্রী উপাধি দেওয়া হয়েছিল। এই চট্টগ্রামের সঙ্গে আমি ও আমার পরিবারের আবেগের সম্পর্ক রয়েছে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, আমরা যেই পরিকল্পনা গ্রহণ করি না কেন; এই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদের অবশ্যই দুটি বিষয়ে খুব কড়াকড়িভাবে নজর দিতে হবে। কারণ এই দুটি বিষয় বাংলাদেশকে; বাংলাদেশের জনগণকে তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বিগত দিনগুলোতে বঞ্চিত করেছে এবং অতীতে বিএনপি যতবার দেশ পরিচালনা করেছে; বিএনপি প্রমাণ করে দেখিয়েছে যে, এই দুটি বিষয়—একমাত্র বিএনপিই সফলভাবে করতে পারে কাজ। কী সেই বিষয় দুটি—এক. মানুষের নিরাপত্তা। যাতে মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে। নিরাপদে চাকরিবাকরি করতে পারে।
আরেকটি বিষয় আছে, আমরা যতই পরিকল্পনা করি, সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে কোনো পরিকল্পনা সফল হবে না। বিএনপি অতীতে সেই বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে প্রমাণ করেছে যে, একমাত্র বিএনপির পক্ষেই সম্ভব। সেই বিষয় হচ্ছে দুর্নীতি। যে কোনো মূল্যে আগামীর বিএনপি সরকার দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে। এই দুটি হচ্ছে আমাদের কমিটমেন্ট বাংলাদেশের জনগণের কাছে। কারণ, বিএনপি সরকার অতীতেও এটা প্রমাণ করেছে।
তারেক রহমান আরও বলেন, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত যারা দেশে ক্ষমতায় ছিল, তারা দেশকে দুর্নীতিতে নিচের দিকে নিয়ে গিয়েছিল। ২০০১ সালে যখন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আপনাদের সমর্থনে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পান, তিনি তখন দেশকে ধীরে ধীরে দুর্নীতির করালগ্রাস থেকে বের করে নিয়ে আসেন। বিগত সময়ে যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনা করেছেন। আপনারা দেখেছেন, যেই হোক না কেন; তখন আমাদের দলের অনেক লোক, যারা কোনো অনৈতিক কাজে নিজেকে জড়িত করেছে। আমরা তাদেরও ছাড় দিইনি।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা যে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম, ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলন সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে। বাংলাদেশের মানুষ এখন এমন একটি অর্থবহ পরিবর্তন চায়, যার মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিক উন্নত শিক্ষা ও সুচিকিৎসার সুনিশ্চিত সুযোগ পাবে।
চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে: নির্বাচিত হলে চট্টগ্রামকে খালেদা জিয়ার ঘোষিত বাণিজ্যিক রাজধানী বাস্তবায়নে যত দ্রুত সম্ভব উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিগত ১৫ বছরে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ উদ্যোগ যদি গ্রহণ করা হয়, তাহলে শুধু এই চট্টগ্রামের মানুষ নয়, সারা দেশে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙ্গা হবে। মানুষের কর্মসংস্থান হবে। মানুষ চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য করে খেতে পারবে। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে আপনাদের সমর্থনে সরকার গঠনে সক্ষম হলে খালেদা জিয়ার এই উদ্যোগ যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়ন করবে বিএনপি।
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনের কথা উল্লেখ করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, চট্টগ্রামের একটি বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। বিভিন্ন খাল-নালা বন্ধ হওয়ার কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে আমরা খাল কাটতে চাই।
সমাবেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির অংশ হিসেবে তারেক রহমান চট্টগ্রামের কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনের (কেইপিজেড) উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই মডেল অনুসরণ করে সারা দেশে নতুন নতুন ইপিজেড গড়ে তোলা হবে, যেখানে লাখ লাখ তরুণের কর্মসংস্থান হবে।
শিল্প, ব্যাংকিং ও বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত যদি চট্টগ্রামকেন্দ্রিক হয়, তাহলে দেশের অর্থনীতিও ভারসাম্য পাবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, চট্টগ্রামে একাধিক ইপিজেড রয়েছে। যেখানে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো বিএনপির আমলে হয়েছিল। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আবার আমাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনেন, তাহলে আরও ইপিজেড করা হবে।
বিএনপি সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সরকারে গেলে আমরা ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করব উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তার আগে আপনাদের একটি দায়িত্ব আছে, বিএনপিকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করলে, তাহলেই আমরা পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে পারব। আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দল যারাই হোক না কেন, তাদের সম্পর্কে অনেক কথাই বলতে পারি, দোষত্রুটি তুলে ধরতে পারি; তাতে কি জনগণের কোনো উপকার হবে? সমালোচনায় দেশের মানুষের পেট ভরবে না। বিএনপিই একমাত্র দল, যারা ক্ষমতায় থেকে দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে কাজ করেছে।
চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক জনসভা থেকে দেশের মানুষের জীবনমান পরিবর্তনে একটি বিস্তৃত রূপরেখা তুলে ধরেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তার বক্তব্যের মূল কেন্দ্রে ছিল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য সার্টিফিকেটনির্ভর শিক্ষার বদলে কর্মমুখী শিক্ষা ও টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্র যদি মানুষের ন্যূনতম স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দিতে না পারে, তাহলে উন্নয়নের সব দাবিই অর্থহীন হয়ে পড়ে। সে কারণেই আগামীদিনে বিএনপির রাজনীতির প্রধান লক্ষ্য হবে মানুষের মৌলিক প্রয়োজনকে রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
বক্তব্যে দেশের তরুণদের বিষয়ে আলাদা গুরুত্ব দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী তরুণ হলেও বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা তাদের জন্য বাস্তব কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করতে পারছে না। তিনি ঘোষণা দেন, প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষাকে কর্মমুখী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে শিক্ষাজীবন শেষ করেই তরুণরা চাকরি বা উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ পায়। তার ভাষায়, ‘শুধু সনদ নয়, শিক্ষা হতে হবে জীবিকা তৈরির হাতিয়ার।’
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-৫ আসনে দলের প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকার, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিছ মিয়া, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, চট্টগ্রাম-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম ১০ আসনের প্রার্থী সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম-১৩ আসনের প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজাম, কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি মোনায়েম হোসেন মুন্না, যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তী, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রমুখ।
সভামঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী নুরুল আমীন, চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর, চট্টগ্রাম-৩ আসনের প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশা, চট্টগ্রাম-১২ আসনে প্রার্থী এনামুল হক এনাম, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের প্রার্থী জসীম উদ্দীন আহমদ, চট্টগ্রাম-১৫ আসনের প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমীন ও চট্টগ্রাম-১৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা।
ফেনীর জন্য একগুচ্ছ পরিকল্পনা: ফেনী প্রতিনিধি জানান, চট্টগ্রামের সমাবেশ শেষে সন্ধ্যায় ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তারেক রহমান। এ সময় তিনি ফেনীতে মেডিকেল কলেজ ও ইপিজেড স্থাপনসহ ফেনীবাসীর জন্য একগুচ্ছ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
তারেক রহমান বলেন, আমরা যুবকদের শুধু স্বপ্ন দেখাতে চাই না, তাদের দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। ফেনীতে একটি ইপিজেড স্থাপিত হলে হাজারো তরুণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এ ছাড়া বিদেশে গমনেচ্ছুক যুবকদের কারিগরি ও ভাষা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য একটি কারিগরি ট্রেনিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হবে। যাতে তারা উচ্চ আয়ের মাধ্যমে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে পারে। তিনি বলেন, ধানের শীষকে বিজয়ী করতে পারলে আমরা জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করে দেশকে একটি আধুনিক ও স্বনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করব।
সম্প্রতি ফেনীতে বয়ে যাওয়া ভয়াবহ বন্যার ক্ষয়ক্ষতির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও কৃষির সুবিধার্থে সারা দেশে ফের খাল খনন কর্মসূচি শুরু করা হবে।
আসন্ন নির্বাচন নিয়ে একটি মহলের ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে তারেক রহমান জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের সিদ্ধান্তের ওপরই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। বৃহত্তর নোয়াখালী ও ফেনী বেগম খালেদা জিয়ার এলাকা, এর সম্মান আপনাদের রক্ষা করতে হবে। এজন্য আগামীতে বিএনপিকে রাষ্ট্র ক্ষমতা আনতে হবে। তবেই জনগণের সব চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহারের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলালের সঞ্চালনায় জনসভায় বৃহত্তর নোয়াখালীর সংসদ সদস্য প্রার্থী বরকত উল্লা বুলু, মোহাম্মদ শাহাজাহান, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, জয়নুল আবদীন ফারুক, জয়নাল আবেদীন ভিপি, ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আশরাফউদ্দিন নিজান, রফিকুল আলম মজনু, মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম ও শাহাদাত হোসেন সেলিম বক্তব্য দেন।
প্রতিপক্ষ দলের সমালোচনা করতে চাই না: চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি জানান, ফেনী থেকে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তারেক রহমান কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে এইচ জে সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ আসনের প্রার্থী কামরুল হুদার নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি বলেন, আমরা আমাদের প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করতে চাই না। কারণ তাদের সমালোচনা করে আমার কোনো লাভ নেই। আমরা ক্ষমতায় গেলে এ দেশের জনগণের জন্য কী করব, মানুষ তা জানতে চায়। অন্যের গিবত করলে কি তাতে পেট ভরবে? অন্য রাজনৈতিক দল শুধু বিএনপির সমালোচনাই করে। আমরা সরকার গঠন করলে ওয়ান, টু, থ্রি করে জনগণকে দেওয়া আমাদের সেই ওয়াদাগুলো বাস্তবায়নে কাজ শুরু করব। কে কী বলল তাতে আমাদের কিছু যায়-আসে না।
তিনি আরও বলেন, এবার নির্বাচনে ভোটের পাশাপাশি আপনাদের আরও কিছু কাজ করতে হবে। নির্বাচনের দিন তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্রের সামনে গিয়ে ফজরের জামাত করবেন, তারপর ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে ধানের শীষে ভোট দেবেন। ভোট দেওয়ার পর ভোট শেষ হওয়া পর্যন্ত সবাই ভোটকেন্দ্রে অবস্থান করবেন, যাতে কেউ ষড়যন্ত্র করতে না পারে। তাই কেন্দ্র এবং ব্যালট বাক্স পাহারা দেবেন।
চৌদ্দগ্রাম আসনে বিএনপির প্রার্থী কামরুল হুদার সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী নাহিদ, কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনের নির্বাচনী সমন্বয়ক আমিনুল রশিদ ইয়াছিন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শাহ আলম, সহসভাপতি হারুন অর রশিদ মজুমদার, পৌর বিএনপির সভাপতি জি এম তাহের পলাশী প্রমুখ।
মন্তব্য করুন