আবু তালহা রায়হান
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:০২ পিএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সা ক্ষা ৎ কা র

দেশ পরিচালনায় জামায়াতের অবস্থান জনগণের সঙ্গে প্রতারণা

ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীম | ছবি : খান রুবেল
ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীম | ছবি : খান রুবেল

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়—আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এবার ইসলামপন্থি দলগুলো রাজনৈতিক ময়দানে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে বলে ধারণা ছিল জনমনে। সে লক্ষ্যেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ১১ দলীয় একটি নির্বাচনী সমঝোতা জোটের তৎপরতা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত জোটে না থেকে ২৫৯ আসনে এককভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

কেন জোট থেকে দূরে সরে থাকা? শরিয়াহ আইন ও ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠা নিয়ে দলের বর্তমান অবস্থান কী? নির্বাচন ঘিরে তৈরি হওয়া শঙ্কাই বা কেমন? এসব নিয়ে কালবেলার মুখোমুখি হয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীম।

কালবেলা : ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে না যাওয়ার মূল কারণ কী এবং এর পেছনে কে দায়ী?

মুফতি ফয়জুল করীম : নির্বাচনী ঐক্যের আহ্বায়ক তো আমরাই ছিলাম এবং সে ঐক্যের মূলনীতি ছিল ইসলামের পক্ষে একটি বাক্স। ইসলামী হুকুমত কায়েম করা। আমরা ইসলামী হুকুমত কায়েমের জন্যই মানুষকে আহ্বান করেছিলাম, ইসলামের পক্ষে একটি বাক্স দেব। কিন্তু হঠাৎ করে দেখলাম, আমাদের শরিকরা অনেকেই ইসলামী হুকুমত চান না। তারা বলছেন, ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহভিত্তিক আইন পাস করবে না। এখন যদি আমরা শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন না করি, ইসলামী হুকুমত বাস্তবায়ন না করি, তাহলে তো আমরা মানুষের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করছি। কারণ, আমরা আহ্বান করেছিলাম ইসলামের পক্ষে একটি বাক্স। এজন্য আমরা এক বাক্স রাখছি। এখন আহ্বান করছি যে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ যদি ক্ষমতায় যায়, তবে তারা কোরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবে। এর সঙ্গে যারা ছিল তারা থাকবে, যারা থাকতে চায় না, তারা বের হয়ে যাবে।

কালবেলা : জোট ছাড়ার পর আপনাদের সম্পর্কে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। কেউ বলছেন, চাহিদা মোতাবেক আসন না পাওয়ায় জোটে শামিল হননি। আবার কারও দাবি, তৃতীয় কোনো পক্ষের পরামর্শে আপনারা জোটে যাননি। আসলে বিষয়টি কী?

মুফতি ফয়জুল করীম : আসলে বিষয়টি আদর্শিক। অনেকে অনেক কিছু বলতে পারেন, বিভ্রান্তি ছড়াতে পারেন। কিন্তু আমরা মনে করি, এখানে (জোট) না থাকার আমাদের সবচেয়ে বড় কারণ হলো আদর্শ। তৃতীয় পক্ষের কোনো পরামর্শ নেই। ইসলামী আন্দোলন তৃতীয় কোনো পক্ষের পরামর্শে চলে না।

কালবেলা : আপনারা জোটে শামিল না হওয়ায় ইসলামপন্থিরা একটু দুর্বল হয়ে যাচ্ছে কি না?

মুফতি ফয়জুল করীম : ইসলামপন্থিরা দুর্বল হচ্ছে না, তারা শক্তিশালী হচ্ছে। ইসলামের নামে যারা মানুষকে বিভ্রান্ত করার চক্রান্ত করে, তারা দুর্বল হবে।

কালবেলা : জামায়াতে ইসলামী শরিয়াহ আইনের পরিবর্তে প্রচলিত আইনে দেশ পরিচালনার পক্ষে। ইসলামী আন্দোলন এটাকে কীভাবে দেখছে?

মুফতি ফয়জুল করীম : ইসলামী আন্দোলন মনে করে, এটা জনগণের সঙ্গে স্পষ্ট প্রতারণা।

কালবেলা : তাহলে কি ইসলামী আন্দোলনের দৃষ্টিতে জামায়াত এখন পূর্ণাঙ্গ ইসলামপন্থি দল নয়?

মুফতি ফয়জুল করীম : তারা যা ঘোষণা দিয়েছে, সে অনুযায়ী অবশ্যই তারা ইসলামপন্থি দল নয়।

কালবেলা : জোট ছাড়ার যে সিদ্ধান্ত, এই সিদ্ধান্তের কারণে আপনাদের মাঠকর্মীদের মধ্যে কোনো বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে কি না?

মুফতি ফয়জুল করীম : আমাদের কর্মীরা ইসলামী হুকুমত চায়। আর যেহেতু আমরা সেই বক্তব্য (হুকুমত বাস্তবায়ন) থেকে সরে আসিনি, তাই তারা ব্যাপক আগ্রহ নিয়ে কাজ করছেন। বিভ্রান্তি নয়, তাদের মধ্যে তীব্র উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ করছি আমরা।

কালবেলা : অতীতে জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাদের মধ্যে অনেক বাহাস লক্ষ করা গেছে। আপনারাও জামায়াত নেতাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন। এমনকি তাদের ইসলাম সঠিক ইসলাম নয়—এমন কথাও আপনারা বলেছেন। তাহলে কোন বিবেচনায় জামায়াতের সঙ্গে জোটে গিয়েছিলেন?

মুফতি ফয়জুল করীম : আমরা তো তাদের বললাম, আসুন বিগত দিনে আমরা যে যা বলেছি, এখন ইসলামকে ক্ষমতায় বাসানোর জন্য ঐক্যবদ্ধ হই। কিন্তু যখন দেখলাম, তারা ইসলামকে ক্ষমতায় বসাতে চায় না এবং এক দলের আমির বলেছেন, ‘ছেলে বন্ধুরা এখন যান, আমরা বৈষম্য দূর করি, মেয়ে বন্ধুরা আসনু’ তো ‘বৈষম্য দূর করি’ এই কথাটা কার বিরুদ্ধে বললেন তিনি? এটা তো কোরআনের ঘোষণা। কোনো ব্যক্তির আইন নয়। খোদ আল্লাহপাক আইনটা নাজিল করেছেন। এখন যদি বলেন, ‘বৈষম্য দূর করি’, তাহলে কার বিরুদ্ধে কথাটা বললেন তিনি?

কালবেলা : আপনারা শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করলে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অবস্থান কী হবে?

মুফতি ফয়জুল করীম : শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন হলে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা থাকতে পারবে না বা হিন্দুরা পূজা করতে পারবে না—এই ব্যাখ্যা বা কথাটি সম্পূর্ণ ভুল। কারণ, শরিয়াহ একটি আইন। একটি আদর্শ। এখানে সব ধর্মের মানুষের বসবাসের সুব্যবস্থা রয়েছে। সবার বিচরণের সুযোগ রয়েছে।

কালবেলা : ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে আপনাদের, ইসলামের স্পষ্ট বার্তা কী?

মুফতি ফয়জুল করীম : ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের যত ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন, ইসলাম তাদের সেই ন্যায্য সুযোগ-সুবিধাগুলো অবশ্যই বাস্তবায়ন করবে। শুধু বাস্তবায়নই নয়, তাদের জান-মাল-ইজ্জত রক্ষার গ্যারান্টিও দেবে। এ ক্ষেত্রে একজন মুসলিম নারীকে ধর্ষণ করলে যেমন বিচার হবে, একজন হিন্দু নারীকে ধর্ষণ করলেও একই বিচার হবে। এখানে কোনো তারতম্য হবে না। এটা সবক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

কালবেলা : জামায়াত আমির বলেছেন, তারা ক্ষমতায় গেলে নারীর ৮ ঘণ্টার কর্মসময়টা ৫ ঘণ্টায় নামিয়ে আনবেন এবং বাকি ৩ ঘণ্টার বেতন বিনিয়োগকারী দেবেন। এ ব্যাপারে আপনাদের চিন্তা কী?

মুফতি ফয়জুল করীম : আমরা আরও ঊর্ধ্বে যেতে চাই। আমি এ রকম পরিস্থিতি তৈরি করতে চাই, যেন নারীদের কাজই করতে না হয়। কোনো বেকার, বিধবা বা অসহায় নারী যদি থাকেন, তাদের যেন কাজই না করতে হয়। সরকার তাদের পে করবে। হ্যাঁ, যদি কেউ কাজ করতে চায়, তার কাজ কমিয়ে দেব, আর যদি সে কাজ করার পরিস্থিতি না হয়, আমি তাকে ঘরে বসিয়ে টাকা দেব। আমরা আরও ঊর্ধ্বে যেতে চাই।

কালবেলা : আপনারা ক্ষমতায় গেলে নারীর পর্দা নিয়ে বিশেষ কোনো আইন করবেন কি?

মুফতি ফয়জুল করীম : পর্দা শুধু নারীর জন্য নয়, পুরুষের জন্যও এটা ফরজ। আমরা উভয়কে বলব, তারা সে অনুযায়ী চলবে।

কালবেলা : প্রতিদ্বন্দ্বী দল হিসেবে বিএনপিকে কতটা শক্তিশালী ভাবছেন?

মুফতি ফয়জুল করীম : বিএনপি দল বা জনগণের দিক থেকে শক্তিশালী হলেও আদর্শিক দিক থেকে তারা আর শক্তিশালী নেই। কারণ, ৫ আগস্টের পর তারা যে কাজগুলো করেছে, এতে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

কালবেলা : নির্বাচনের পর বিএনপি সরকারে অংশীদারত্বের প্রস্তাব দিলে বিষয়টিকে কীভাবে দেখবেন?

মুফতি ফয়জুল করীম : দেশ ও ইসলামের কল্যাণের জন্য অবশ্যই শর্ত দেব। যদি আমাদের সরকার গঠন করার সুযোগ হয়, তবে তো আলহামদুলিল্লাহ, ওয়েলকাম। আর যদি সরকার গঠনের মতো সিট না পাই এবং অন্য কারও সঙ্গে অ্যালাইন্স করে সরকারে যেতে হয়, সে ক্ষেত্রে আমরা তখন বিস্তারিত বলব।

কালবেলা : একটি কথা প্রচলিত রয়েছে যে, সরকার পরিচালনা করতে গেলে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে হয়। সে ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে আপনাদের সম্পর্ক কেমন হবে?

মুফতি ফয়জুল করীম : অনেক ভালো সম্পর্ক থাকবে। দেখেন, প্রতিবেশীর সঙ্গে ইসলামের সম্পর্ক যুগে যুগে ভালো ছিল। আমরাও প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখতে চাই, তবে তাদের আধিপত্য চাই না। তাদের হস্তক্ষেপ চাই না। এটুকুই। ভারত এখানে সবচেয়ে বড় ভুল যেটা করে, সেটা হলো তারা আমাদের হস্তক্ষেপ করে। আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তারা হস্তক্ষেপ করতে চায়। এমনকি তারা মনে করে, এটা আমাদের করদ রাজ্য। আমরা করদ রাজ্য হতে চাই না। আমরা স্বতন্ত্র ও স্বাধীনভাবে দেশ পরিচালনা করব এবং প্রতিবেশীর সঙ্গে খুব ভালো আচরণ করব। তারা ভালো থাকবে, আমরাও ভালো থাকব। সব রাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক থাকবে।

কালবেলা : একজন সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট তার ফেসবুকে লিখেছেন, বিগত সরকারের আমলে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা যে পরিমাণ গুম, খুন ও হত্যার শিকার হয়েছেন, চাকরি হারিয়েছেন—সেই জায়গা থেকে ইসলামী আন্দোলনের বর্তমান যে সম্মুখসারির নেতারা আছেন, তারা তখন মায়ের কোলে ছিলেন। বিষয়টিকে আপনারা কীভাবে দেখছেন?

মুফতি ফয়জুল করীম : জামায়াত-শিবির কি শুধু ফাঁসিতে ঝুলেছে? আর কেউ নেই? বিএনপির কেউ গুম-খুন হননি, বাড়িঘর ছাড়েননি? দেখেন, যুগে যুগে জামায়াতের রাজনৈতিক প্ল্যানটা কেমন জানি ছিল। তারা একসময় অমুকের সঙ্গে, আরেক সময় তমুকের সঙ্গে। ব্যাপারটা তারা গুলিয়ে ফেলেছে। আমরা কারও সঙ্গে বন্ধুত্বও করিনি, শত্রুও হইনি। আমরা আমাদের পথে চলেছি। এখানে ক্ষোভটা আমাদের ওপরে আসবে কেন? আমি দেখব, আমি আমার অবস্থানে যে রোল প্লে করেছি, সেখান থেকে বিচ্যুত হয়েছি কি না। আপনারা জানেন, আমি কেইসে পড়েছি, আমাকে নিয়ে তদন্ত করা হয়েছে; কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, আমরা সত্যের ওপর আছি, আমাদের নীতি-আদর্শের ওপর আছি, তাই আওয়ামী লীগ হয়তো চায়নি আমরা কারও সঙ্গে মিশে যাই বা অন্য কোনো দলও চায়নি আমরা কারও সঙ্গে মিশে যাই।

কালবেলা : ইসলামী আন্দোলনের আমিরকে এক বৈঠকে জামায়াত আমির একটি জরিপের কথা উল্লেখ করেছিলেন। সেই জরিপে শূন্য দশমিক এক শতাংশ মানুষ ইসলামী আন্দোলনকে চায় বলে উল্লেখ করা হয়। জোটবিষয়ক সেই বৈঠকে এ ধরনের একটি জরিপের বিষয় উল্লেখ করা কি কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ মনে করেন?

মুফতি ফয়জুল করীম : অবশ্যই এটা ষড়যন্ত্র। তখন আমাদের আমির স্পষ্ট বলেছেন, তাদের মনের অবস্থান ভালো না।

কালবেলা : সেই জরিপের ফলে বিএনপির পক্ষে ছিল ৬৫ ও জামায়াতের পক্ষে ছিল ২৫ শতাংশ মানুষ। প্রকৃতপক্ষে আপনাদের মতামত কী?

মুফতি ফয়জুল করীম : এগুলো সবই বানানো। যদি ৬৫ শতাংশ থাকেই, তাহলে বিএনপিকে তো এত চেষ্টা করার দরকার নেই। বাক্স দিয়ে এলেই তো হয়। একটি সংবাদপত্র একটা প্রতিবেদন দিয়েছে, সেখানে বিএনপিকে ৩৭ বা এরকম একটি শতাংশ দিয়েছে, জামায়াতকেও ৩৬ দিয়েছে মনে হয়। এ ছাড়া এনসিপিকে ৭ শতাংশ এবং আমাদের ৩ শতাংশ দেখিয়েছে। তো এই জরিপ অনুযায়ী জামায়াতকে ক্ষমতায় যেতে হলে তো আমাদের লাগেই না। কারণ, এনসিপি আর তাদের শতাংশ মেলালে তো বিএনপির চেয়ে বেশি।

কালবেলা : তাহলে জোট, ভোট, দেশ বা সরকার পরিচালনায় জামায়াতের আসল উদ্দেশ্য কী?

মুফতি ফয়জুল করীম : জানি না, কী উদ্দেশ্য। জরিপ দিয়ে কী বোঝাতে চায়, আগামী ১২ তারিখ ইনশাআল্লাহ, এগুলো স্পষ্ট হয়ে যাবে। একটু অপেক্ষা করুন।

কালবেলা : আপনাদের পক্ষ থেকে নির্বাচন বিষয়েও শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এক সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, ‘একটি পাতানো নির্বাচনের শঙ্কা রয়েছে। সেই পথে কেউ হাঁটতে পারেন।’ এমন পরিস্থিতিতে আপনারা কী ধরনের কৌশল নিচ্ছেন?

মুফতি ফয়জুল করীম : আমরা সবাইকে জাগ্রত করেছি। আমরা আগেই বলছি, নিরাপদ নির্বাচন না-ও হতে পারে। এজন্য আমরা আমাদের বয়ান মাঠপর্যায়ে দিয়ে আসছি—নির্বাচনের অবস্থা এই, প্রশাসনের অবস্থা এই, এক দলকে বেশি সাপোর্ট করছে সরকার। দেখা যায়, সে এখনো ক্ষমতায় নেই; কিন্তু তাকে এমনভাবে প্রোটেকশন দেওয়া হচ্ছে, মনে হচ্ছে যে, সে ক্ষমতায় চলে গেছে। এটা আসলে সম্পূর্ণ বেআইনি।

কালবেলা : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ইস্যুতে আপনাদের ট্রল করতে দেখা যায়। বিভিন্ন মাধ্যমে ইসলামী আন্দোলনবিরোধী নানা কনটেন্টও প্রচার হচ্ছে। এসব মোকাবিলায় আপনারা কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন?

মুফতি ফয়জুল করীম : আমরা আমাদের শক্তি এবং বস্তুনিষ্ঠ যে বক্তব্য, সেটা উপস্থাপন করেছি। আমরা আমাদের লোকদের বলব, তারা যতই মিথ্যা প্রচার করুক, আপনারা মিথ্যার আশ্রয় নেবেন না। অসত্য কোনো বক্তব্য দেবেন না। এটা হারাম। কবিরা গুনাহ। অন্যদের প্রতিও আমাদের আহ্বান, মিথ্যা না ছড়িয়ে আমাদের সত্য কথাগুলো তুলে ধরুন।

কালবেলা : আপনাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে বলা হয়েছে, জামায়াত নেতাদের পেছনে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া বা আত্মীয়তা করা হারাম। আপনারা কি এখনো সেই আদর্শ মানেন?

মুফতি ফয়জুল করীম : আত্মীয়তা করা হারাম—এ রকম কে বলেছেন, আমি জানি না। তবে নামাজের ব্যাপারে শামছুল হক ফরিদপুরী (রহ.) তার সংশোধনীর মধ্যে উল্লেখ করেছেন।

কালবেলা : এককভাবে ২৫৯টি আসনে প্রার্থী দিয়েছেন। হাতপাখা প্রতীকে আপনারা কয়টি আসনে জয়ের আশা করছেন?

মুফতি ফয়জুল করীম : আমরা তো সব আসনেই জয়লাভ করার চেষ্টা করব। জানি না, কতটাতে সফল হব। আর আমাদের বাকি সিটগুলোতে পছন্দনীয়দের সাপোর্ট দেব।

কালবেলা : নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না এলে এটাকে কি ব্যর্থতা হিসেবে দেখবেন?

মুফতি ফয়জুল করীম : যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, আর সেখানে যদি আমরা একটি ভোটও না পাই, তবু আমরা গ্রহণ করব। আর যদি সুষ্ঠু নির্বাচন না হয়, তবে আমরা বর্জন করব।

কালবেলা : যেসব আসনে আপনারা প্রার্থী দিচ্ছেন না, সেখানে সমর্থনের ক্ষেত্রে প্রধান শর্তগুলো কী হবে?

মুফতি ফয়জুল করীম : ইসলামের আলোকে চলবে। দেশের কল্যাণের জন্য কাজ করবে।

কালবেলা : ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদে জামায়াতের কোনো প্রস্তাবে কি ইসলামী আন্দোলন সমর্থন দেবে, নাকি এখানেও আদর্শগত দূরত্ব থাকবে?

মুফতি ফয়জুল করীম : যদি দেশ ও ইসলামের কল্যাণে হয়, অবশ্যই দেব।

কালবেলা : ধন্যবাদ আপনাকে।

মুফতি ফয়জুল করীম : আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এলাকার উন্নয়নে ধানের শীষে ভোট দিন : মিন্টু

একই ক্লাবের ১৭ জন গ্রেপ্তার

ইউজিসিতে জবির শিক্ষক না থাকায় বৈষম্যের শিকার হচ্ছি : জকসু ভিপি

বিএনপির নির্বাচনী ব্যানার পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ

দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পুলিশ কর্মকর্তাকে কান ধরাল বিক্ষুব্ধ জনতা

‘জনতার ইশতেহার’  / ৩৭ হাজারের বেশি মতামত পেল জামায়াত

ডাকসু নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য জামায়াতি রাজনীতির দেউলিয়াপনা : নাছির উদ্দীন

৩৫ লাখ টাকার সম্পদ বাপ দিছে, আমি জেল খাটব কেন : সিয়াম

ভোটকেন্দ্রে কেউ বিশৃঙ্খলা করতে পারবে না : ইসি

মেক্সিকোর ফুটবল মাঠে বন্দুক হামলায় নিহত ১১, আহত ১২

১০

সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাকিরের স্ত্রী-সন্তানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা 

১১

এবার বাংলাদেশের সঙ্গে একই গ্রুপে ভারত-পাকিস্তান

১২

বিয়ের পথে টম-জেনডায়া

১৩

ইডেন মহিলা কলেজে বাঁধন ইউনিটের বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত

১৪

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের জামিন

১৫

কারাবন্দিদের প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে নতুন নীতিমালা জারি

১৬

কোনো বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করব না : ডিসি রায়হান

১৭

জামায়াত প্রার্থীর ওপর ভোট কেনার অভিযোগ বিএনপি নেতার

১৮

বিক্ষোভে উসকানিদাতাদের প্রতি কোনো দয়া দেখানো হবে না : ইরান

১৯

রুমিন ফারহানাকে ইঙ্গিত করে যা বললেন বিএনপির জোট প্রার্থী

২০
X