রাজকুমার নন্দী
প্রকাশ : ২০ মার্চ ২০২৪, ০১:৫৭ এএম
আপডেট : ২০ মার্চ ২০২৪, ০৮:৩২ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

আত্মসমর্পণে প্রস্তুত বিএনপির সাজাপ্রাপ্ত নেতারা

দুই নেতা কারাগারে
বিএনপির লোগো
বিএনপির লোগো

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বিভিন্ন মামলায় দল ও অঙ্গ সংগঠনের সাজাপ্রাপ্ত নেতাদের আত্মসমর্পণ করার নির্দেশনা দিয়েছে বিএনপি। নির্দেশনা অনুযায়ী এখন আত্মসমর্পণ করার প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা। গতকাল মঙ্গলবার থেকেই এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা ধারাবাহিকভাবে চলবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১০ রমজানের আগেই দলের একজন যুগ্ম মহাসচিব এবং একটি অঙ্গ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকসহ অন্তত চারজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছেন। গতকাল বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আকরামুল হাসান মিন্টু আত্মসমর্পণের পর কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

নির্বাচনের পর সাম্প্রতিক সময়ে কারাবন্দি অধিকাংশ নেতার মুক্তি এবং বিভিন্ন মামলায় আত্মগোপনে থাকা অন্য নেতাদের জামিনের পরিপ্রেক্ষিতে সাজাপ্রাপ্ত নেতাদের আত্মসমর্পণের জন্য বর্তমান সময়কেই উপযুক্ত বলে মনে করছে দল। বিএনপির অনেকের অভিমত, নির্বাচনের পর নেতাদের কারামুক্তি ও জামিন ইস্যুতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ‘অনেকটাই’ নমনীয়। যদিও মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় নেতাদের সাজা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ দলটির।

বিএনপির সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন মেজবাহ কালবেলাকে বলেন, দলীয় ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের সাজাপ্রাপ্ত নেতারা পর্যায়ক্রমে আত্মসমর্পণ করবেন। মামলাগুলোর ভিত্তি নেই। আশা করি, জজকোর্টে গেলে সবাই খালাস পাবেন।

সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে গত ১৮ জুলাই থেকে একদফার আন্দোলনে নামে বিএনপি। দলটির দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালের ২৮ জুলাই থেকে ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগপর্যন্ত ২৭ হাজারের অধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিশেষ করে ২৮ অক্টোবর ঢাকার মহাসমাবেশ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের হিড়িক শুরু হয়। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক, দক্ষিণের সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু, ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনসহ অনেককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান অন্যরা।

এমন প্রেক্ষাপটে নির্বাচনের আগে বিভিন্ন মামলায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নানা পর্যায়ের প্রায় দেড় হাজার নেতার বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়। দলটির তখন অভিযোগ ছিল, বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে পরিকল্পিতভাবে তড়িঘড়ি করে নেতাদের সাজা দেওয়া হচ্ছে। তবে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলমান থাকায় সাজাপ্রাপ্ত নেতারা তখন আত্মসমর্পণ করেননি। কারণ, দলের তরফ থেকে তখন তাদের আত্মসমর্পণের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে গ্রেপ্তার এড়িয়ে আন্দোলন সফলের চেষ্টা করেছেন তারা। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তারে তৎপর হয়ে ওঠায় গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতারা আত্মগোপনে থেকে আন্দোলন সংগঠিত করতে ভূমিকা রাখেন।

বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত নেতাদের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজউদ্দিন আহমেদ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মোহাম্মদ শাহজাহান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেল, তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, বর্তমান সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু, যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি মামুন হাসান, সাবেক সহসভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর, বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার, বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সহ-সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন, দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলম রবি, হাবিবুর রশিদ হাবিব ও আকরামুল হাসান অন্যতম।

সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, মোহাম্মদ শাহজাহান এবং আমান উল্লাহ আমান এবং নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া মোহাম্মদ শাহজাহান আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আমান কারাগারে থাকলেও সম্প্রতি হাফিজ উদ্দিন জামিনে কারামুক্ত হয়েছেন। মোহাম্মদ শাহাজাহান কারামুক্ত হয়ে নৌকা এমপি হয়েছেন। মোহাম্মদ শাহজাহানের সঙ্গে আত্মসমর্পণ করা যুগপৎ আন্দোলনের শরিক জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মহাসচিব আহসান হাবিব লিংকনও জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। এ ছাড়া আলতাফ হোসেন চৌধুরী, রফিকুল আলম মজনু, এস এম জাহাঙ্গীর, শামীমুর রহমান শামীম, শেখ রবিউল আলম রবিও জামিনে কারামুক্ত হয়েছেন। সাজাপ্রাপ্ত ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু রয়েছেন বিদেশে।

জানা গেছে, দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে সাজাপ্রাপ্ত নেতারা এখন আত্মসমর্পণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। চলতি সপ্তাহের মধ্যে হাবিব-উন নবী খান সোহেল, আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, রাজীব আহসান ও জহির উদ্দিন তুহিন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভিডিও তৈরির যে অ্যাপ সবার জন্য উন্মুক্ত করল গুগল

ময়মনসিংহে জাপার অফিস ভাঙচুর

গণঅধিকার পরিষদের দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা

স্বাস্থ্য পরামর্শ / মোটরযানের কালো ধোঁয়া ও অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি

নুরের ওপর হামলার নিন্দা / আমরা অত্যন্ত নাজুক সময়ে আছি : তারেক রহমান

নুরের অবস্থা মুমূর্ষু, বাঁচবে কি মরবে জানি না : রাশেদ

নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে নিজ উপজেলায় বিক্ষোভ

ডাচদের সাথে লিটনদের লড়াই দেখবেন যেভাবে

নুরের ওপর হামলা / ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়ক অবরোধ

কী বলে নুরের ওপর হামলা করা হয়, জানালেন ইয়ামিন মোল্লা

১০

আফগানদের হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে শুভ সূচনা পাকিস্তানের

১১

নুরের ওপর হামলার ঘটনায় জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেলের বিবৃতি

১২

আইসিইউতে নুর, ৪৮ ঘণ্টার আগে কিছু বলা যাবে না : চিকিৎসক

১৩

নুরের ওপর হামলা ‘অত্যন্ত ন্যক্কারজনক’: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব

১৪

নুরের ওপর হামলায় ১০১ সংগঠনের বিবৃতি

১৫

নুরকে দেখতে এসে আসিফ নজরুল অবরুদ্ধ 

১৬

আহত নুরকে দেখতে ঢামেকে প্রেস সচিব

১৭

সহিংসতার ঘটনায় সেনাবাহিনীর বিবৃতি

১৮

সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গেলেও ওরা থামেনি : হাসনাত

১৯

মাদুশঙ্কার হ্যাটট্রিকে লঙ্কানদের রুদ্ধশ্বাস জয়

২০
X