হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়ার হত্যাকাণ্ডে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে। এ হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে বলে মনে করছে দেশগুলো।
ফিলিস্তিন: ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস হামাস ইসমাইল হানিয়া হত্যার তীব্র নিন্দা করে একে ‘কাপুরুষোচিত কাজ ও বিপজ্জনক ক্রমবৃদ্ধি’ বলে মন্তব্য করেছেন। ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ওয়াফাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি ফিলিস্তিনিদের ‘ধৈর্য ধরার ও ঐক্যবদ্ধ থাকার’ আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরান: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের খানানি বলেছেন, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়ার রক্ত কখনোই বৃথা যাবে না। তেহরানে হানিয়ার শাহাদাতবরণের ঘটনা ইরান, ফিলিস্তিন ও প্রতিরোধের মধ্যে বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করবে।
রাশিয়া: রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মিখাইল বোগদানভ বলেছেন, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের প্রধান রাজনৈতিক নেতা ইসমাইল হানিয়া নিহত হওয়ার ঘটনাটি ‘একেবারেই অগ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড’। বুধবার দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আরআইএকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। বোগদানভ বলেন, এ ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেবে।
চীন: হামাস নেতা হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেছেন, এ ঘটনার পর গাজায় শিগগির স্থায়ী যুদ্ধবিরতি দেওয়া উচিত।
তুরস্ক: হানিয়া হত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দেশ তুরস্ক। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই হত্যার মধ্য দিয়ে আবার এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, ইসরায়েলের নেতানিয়াহু সরকারের শান্তি প্রতিষ্ঠার কোনো ইচ্ছা নেই।
কাতার: কাতার বলেছে এ হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সব ধরনের আন্তর্জাতিক ও মানবাধিকার আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রলালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, এই গুপ্তহত্যা ও গাজায় গণহত্যা শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে।
মালয়েশিয়া: এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়বে উল্লেখ করে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মালয়েশিয়া এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত তদন্ত দাবি করছে।’ যারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে দেশটি।