

পুরো চট্টগ্রাম যেন সমাবেশের নগরীতে পরিণত হয়েছে। চকবাজার গোলজার মোড়, কাজির দেউড়ি কিংবা নিউমার্কেট- যে পথ দিয়েই মানুষ চলেছে, তার কানেই বেজেছে তারেক রহমানের আগমনী সংবাদ।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড ময়দানে দীর্ঘ প্রায় ২১ বছর পর কোনো জনসভায় ভাষণ দেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত এক সপ্তাহ ধরে নিরবচ্ছিন্ন প্রস্তুতি, প্রচারণা শেষে এখন পুরো চট্টগ্রাম অপেক্ষা করে আছে তারেক রহমানকে বরণে।
সমাবেশে অংশ নিতে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাত ৮টায় তারেক রহমান চট্টগ্রাম এসে পৌঁছান। হযরত শাহ আমানত (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি নগরীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে আসেন তিনি। সেখানে কিছুক্ষণ বিশ্রামের পর চট্টগ্রামের বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০০ শিক্ষার্থীকে নিয়ে ‘ইউথ পলিসি টক’-এ অংশ নেবেন তারেক রহমান। সেখানে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, কৃষি, স্বাস্থ্য, নারী ক্ষমতায়ন ও পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিএনপির নীতিমালা তুলে ধরবেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি। এরপর তিনি চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেবেন।
এদিকে নগরজুড়ে পোস্টার, ব্যানার আর ট্রাকে করে মাইকিং- কোনোকিছুই বাকি রাখেননি আয়োজকরা। রোববার (২৫ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিতব্য সমাবেশকে আসন্ন নির্বাচনের মোক্ষম প্রচারণা হিসেবে দেখছেন বৃহত্তর চট্টগ্রামের প্রার্থীরা। চট্টগ্রাম জেলার ১৬ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ছাড়াও কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রার্থীরা উপস্থিত থাকবেন। ভোটের প্রচারণার পাশাপাশি তারেক রহমানের সমাবেশের প্রচারণাও তাই চলেছে পাল্লা দিয়ে।
চট্টগ্রাম থেকেই বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্বাচনী প্রচার শুরু হতে যাচ্ছে।
শনিবার সন্ধ্যায় সমাবেশস্থল ঘুরে দেখা গেছে, ৫ দিন আগে শুরু হওয়া মঞ্চের নির্মাণ কাজ পুরোপুরি শেষ হয়েছে। সার্বক্ষণিক মাঠ সজ্জার দেখভাল করেছেন মঞ্চসজ্জা কমিটির প্রধান ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি জানান, চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠেয় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মহাসমাবেশ সফল করতে সব কার্যক্রম সুসম্পন্ন হয়েছে।
শনিবার দুপুরে ঐতিহাসিক এ মহাসমাবেশকে সফল করতে গৃহীত প্রস্তুতি কার্যক্রম তদারকির অংশ হিসেবে মেয়র পলোগ্রাউন্ড মাঠ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি মাঠের সার্বিক অবস্থা, মঞ্চ স্থাপন, প্রবেশ ও বহির্গমন পথ, পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা, নিরাপত্তা প্রস্তুতি এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আয়োজকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন, যাতে মহাসমাবেশে আসা বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নির্বিঘ্ন, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ হয়।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন কালবেলাকে বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে নানা ষড়যন্ত্র চললেও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বরাবরের মতোই গণতন্ত্রের পক্ষে ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছে, রোববারের মহাসমাবেশ সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।
তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশে মহাসমাবেশ আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। নগরবাসীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেবেন, এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করে মেয়র সবাইকে সমাবেশে উপস্থিত হয়ে গণতন্ত্রের পক্ষে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করার আহ্বান জানান।
ডা. শাহাদাত বলেন, চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিতব্য এই মহাসমাবেশ শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে জনগণের শক্তিশালী অভিপ্রায়ের বহিঃপ্রকাশ। এই সমাবেশের মাধ্যমে গণতন্ত্রের পক্ষে জনতার ঐক্য আরও সুদৃঢ় হবে।
মহাসমাবেশকে ঘিরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা জনদুর্ভোগ যেন সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলাবাহিনী সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি সোয়াত টিম ও এপিবিএন সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন।
মন্তব্য করুন