মাওলানা মিজানুর রহমান, ইমাম ও খতিব
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৩, ০২:৪৭ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ইসলামের আলো

মোনাজাতের আদব ও সুন্নত

মোনাজাতের আদব ও সুন্নত। ছবি: সংগৃহীত

মোনাজাত মানে আল্লাহর সঙ্গে একান্তে কথা বলা। আর যে কাজে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া হয়, সে কাজে কখনো কখনো বাহ্যিকভাবে ব্যর্থ হলেও এর ফলাফল আল্লাহতায়ালা অন্যভাবে দিয়ে থাকেন। হয়তো আমাদের কোনো গুনাহ মোচন করে দেন কিংবা কোনো বিপদ থেকে বাঁচিয়ে দেন। তাই মোনাজাত আমাদের সঙ্গী হলে আমরা কখনোই ব্যর্থ হবো না। মোনাজাত একটি ইবাদতও। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে—‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’

মোনাজাতের আদব ও সুন্নত

মোনাজাত কবুল হওয়ার জন্য কিছু আদব ও শর্ত রয়েছে। যেগুলো খেয়াল না করলে আমাদের মোনাজাত হয়তো কিছু প্রার্থনা-বাক্য হিসেবেই থেকে যাবে। আল্লাহতায়ালার কাছে কবুল হওয়ার মতো মোনাজাত কখনোই হবে না। তাই কিছু বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। যেমন—শুরুতে যাবতীয় দুনিয়াবি সব চিন্তা থেকে নিজেকে খালি করে পবিত্রমনে আল্লাহর দিকে মনোনিবেশ করা। দুই হাত তুলে প্রথমেই আল্লাহতায়ালার প্রশংসা করা ও নবী (সা.)-এর ওপর দরুদ পড়া। এ ক্ষেত্রে দরুদে ইব্রাহিম পড়াই উত্তম।

নিজের সব গুনাহ অপরাধ ও কমজোরি আল্লাহর কাছে স্বীকার করা এবং আল্লাহর বড়ত্ব ও মহত্ত্ব বর্ণনা করা। প্রথমে নিজের মা-বাবা, ভাইবোন, আত্মীয়স্বজন ও সব মুসলমানের জন্য ব্যাপকভাবে দোয়া করা। তারপর নিজের প্রয়োজন অত্যন্ত কাকুতি মিনতির সঙ্গে আল্লাহর কাছে তুলে ধরা। আল্লাহতায়ালাকে তার শ্রেষ্ঠ নামগুলো দিয়ে ডাকা। যেমন—রহমান, রাহিম, গাফুর, শাকুর। নিজের দোয়া কবুলের জন্যও দোয়া করা। সর্বশেষ ‘আমিন’ বলে এবং নবী (সা.)-এর ওপর দরুদ পড়ে মোনাজাত সম্পন্ন করা।

মোনাজাতের সময় :

মোনাজাতের জন্য নির্ধারিত কোনো সময় না থাকলেও কিছু কিছু সময়ে মোনাজাত করা উত্তম। কারণ তখন কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। যেমন—আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়। এটি একটি দোয়া কবুলের বিশেষ সময়।

হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে নবী (সা.) বলেছেন, ‘আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ের দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।’ (আবু দাউদ : ৫২১)। সিজদায় থাকা অবস্থায়ও দোয়া কবুল হয়। এটি দোয়া কবুলের উত্তম সময়। কারণ এ সময় বান্দা আল্লাহতায়ালার অতি নিকটে থাকে। নবী (সা.) বলেছেন, ‘বান্দা তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী থাকে সিজদার সময়, সুতরাং তখন তোমরা বেশি বেশি দোয়া করো।’ (মুসলিম : ৪৮২)।

রাতের মধ্যভাগে এবং রাতের শেষাংশের দোয়া আল্লাহতায়ালার অনেক প্রিয়। কারণ তখন আকাশ থেকে আহ্বান করা হয়—‘আছে কি কোনো প্রার্থনাকারী যার প্রার্থনা কবুল করা হবে! আছে কি কোনো প্রয়োজনগ্রস্ত যার প্রয়োজন পূর্ণ করা হবে! আছে কি কোনো বিপদগ্রস্ত যার বিপদ দূর করা হবে!’ এভাবে আহ্বান করা হয় ফজর পর্যন্ত। তখন যেই মুসলিম ব্যক্তি কোনো দোয়া করে, আল্লাহতায়ালা তা কবুল করেন।’ (ইবনে মাজাহ : ১৩৮৮)।

জুমার দিন ইমাম সাহেব মিম্বারে বসার পর থেকে নামাজ দাঁড়ানো পর্যন্ত সময় এবং আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়গুলোতে দোয়া কবুলের সম্ভাবনা খুবই বেশি। তাই মুমিনের কর্তব্য সর্বদা প্রভুর দরবারে মোনাজাত বা প্রার্থনা করে যাওয়া।

মাওলানা মিজানুর রহমান, ইমাম ও খতিব

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পাকিস্তানে নতুন সরকার গঠনের পরই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি রোধে ভোক্তাদেরও সতর্ক থাকাতে হবে : খাদ্যমন্ত্রী

এ কেমন শত্রুতা!

বাজার কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রমজানে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী 

পরকীয়ার জেরে ৩ সন্তা‌নের জননী‌কে গলা কেটে হত্যা, আটক ১

আলভেজকে সাহায্য করে বিপাকে নেইমার

‘আইন গরিবের জন্য, বড়লোকরা বিভিন্নভাবে রক্ষা পায়’

আরও ৩৭ জনের করোনা শনাক্ত

বিএনপি নেতা প্রিন্সের বাসায় মঈন খান

১০

ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, পাঁচ শিশুসহ দগ্ধ ৯

১১

খেলার মাঠে ক্রিকেটারের মৃত্যু

১২

সমাপ্তির পথে ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’ ফ্র্যাঞ্চাইজি

১৩

৯৫০ টন কয়লা নিয়ে দুর্ঘটনার কবলে জাহাজ

১৪

চীনে বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৫

১৫

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কানাডায় বৃত্তির সুযোগ

১৬

যুক্তরাষ্ট্রের উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিএনপির বৈঠক

১৭

প্রথম ফুটবলার হিসেবে জনপ্রিয়তার শীর্ষে মেসি

১৮

পোস্তগোলা সেতু বন্ধ, প্রভাব পড়েনি দৌলতদিয়ায়

১৯

‘বঙ্গবন্ধু অ্যাপ’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

২০
X