হায়দার ইদ
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৩, ০২:৪৭ এএম
আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৩, ১০:৩৩ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্বের লড়াই

ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্বের লড়াই

নয়নাভিরাম ভূমধ্যসাগরের তীরে ৩২০ বর্গকিলোমিটারের একটি স্বশাসিত ফিলিস্তিনি এলাকার নাম গাজা উপত্যকা। এখানে রয়েছে চারটি শহর, আটটি ফিলিস্তিনি শরণার্থীশিবির। আর সব মিলিয়ে ১১টি গ্রাম, যেখানে ১০ লক্ষাধিক ফিলিস্তিনি ও ১৫ হাজারেরও বেশি ইসরায়েলির বসবাস। কিন্তু এবারের ব্যাপারটা একদম ভিন্ন। বর্ণবাদী ইসরায়েলের গণহত্যা এখানে একটি নিয়মিত কার্যক্রম। কিন্তু এবার এ ধরনের আক্রমণগুলোর বিপরীতে প্রতিক্রিয়া জানানোর পরিবর্তে গড়ে তোলা হয়েছে প্রতিরোধ। এটা তাই একটি নজিরবিহীন ঘটনা, যাকে বলা যেতে পারে গাজাবাসীর পক্ষ থেকে ‘প্রথম’ পদক্ষেপ।

ইসরায়েলের ‘উদারতার’ জন্য অপেক্ষা করার পরিবর্তে যখন মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পৃথিবীর বৃহত্তম উন্মুক্ত কারাগারের সাতটি ফটক খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তখন বন্দিরা সেই ১৯৪৪ সালের ওয়ারশ বিদ্রোহ থেকে শিক্ষা নিয়ে এ ফটক নিজেরাই নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়।

দুঃখজনক ব্যাপার এই যে, ২০০৭ সাল থেকে গাজা উপত্যকায় এক ধরনের মধ্যযুগীয় অবরোধ আরোপ করা হয়েছে। আর এ অবরোধে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন রয়েছে। ইসরায়েল মূলত এ অঞ্চলে নিয়মিত গণহত্যা চালাচ্ছে, যাতে করে গাজায় বসবাসরত ফিলিস্তিনিরা অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলে। যদিও এ প্রচেষ্টা চলছে ধীরে ধীরে এবং তা অত্যন্ত ভয়ানক ও বেদনাদায়ক।

অনেক হয়েছে। আর নয়। গাজা এবার অপ্রতিরোধ্য সংগ্রামে নেমেছে। এবার গাজা চেষ্টা করছে দৃশ্যপট বদলে দেওয়ার। তারা ফিলিস্তিনি সংগ্রামকে একটি নতুন প্রেরণা দিয়েছে, নতুন মাত্রা দিয়েছে, যা মুক্তি ও স্বাধীনতার পথে একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা।

ফিলিস্তিনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস : পাঠকের অনেকের কাছেই আমার এ লেখা দুর্বোধ্য মনে হতে পারে। স্বাভাবিক। কারণ বর্তমানের যেসব ঘটনা, তা উপলব্ধি করার জন্য ফিরে যেতে হবে ৩০ বছর আগে। বিগত ৩০ বছর ধরে চলে আসা ফিলিস্তিনি সংগ্রামের প্রেক্ষাপট মনে রাখা অতি গুরুত্বপূর্ণ। প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন বা পিএলওর নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত ছিল অকল্পনীয়। ইহুদিবাদের সঙ্গে সহাবস্থান। ফলে একটি বিপর্যয় দেখা দেয় এবং তা ক্রমান্বয়ে অসলো চুক্তির দিকে ধাবিত করে। এর ফলে ফিলিস্তিনের ইতিহাস ছোট হয়ে আসে। ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনিদের মাতৃভূমি থেকে তাদের বিতাড়ন করা হয়। একদিকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলিদের দখলদারিত্ব, অন্যদিকে ১৯৬৭ সালে সিনাই মরুভূমি নাকবা থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া।দখলদারিত্বই মূলত তখনকার সময়ে মূল উপজীব্য হয়ে ওঠে। এর পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা ঔপনিবেশিকতা তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারেনি। তথাকথিত ‘শান্তি আলোচনা’ বস্তুত ইসরায়েলি সহিংসতা এবং ফিলিস্তিনে অব্যাহত দখলদারিত্বকে আড়াল করার একটি আবরণ বা ছায়া হিসেবে কাজ করে। ইসরায়েলি ইতিহাসবিদ ইলান পাপ্পে একটি বই লিখেছিলেন, নাম—দ্য বিগেস্ট প্রিজন অন আর্থ (The Biggest Prison on Earth)। সেখানে তিনি বলেছেন, ইসরায়েলের কৌশলবিদরা একটা বিষয় খুঁজে বের করেছেন। আপনি যদি অন্য কোনো উপায়ে জাতিগতভাবে একটা জাতিকে ধ্বংস করতে চান, তাহলে তারা যেখানে বসবাস করে, সেখান থেকে তাদের তাড়িয়ে দিতে হবে। তারা বিতাড়িত হলে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষমতার গণতান্ত্রিক ভারসাম্য থেকে বাদ পড়ে যাবে। তারা তাদের নিজস্ব এলাকার মধ্যে থাকলেও সামগ্রিক জাতীয় জনসংখ্যার মধ্যে তাদের গণনা করা হবে না। কারণ তারা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারবে না। তাদের কোনো বিকাশ বা প্রসারণ হবে না। এ ছাড়া তাদের কোনো মৌলিক নাগরিক ও মানবাধিকারও থাকবে না। ইসরায়েল একটি বর্ণবিদ্বেষী রাষ্ট্র। এ দেশটি এটা পুরোপুরি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, যেহেতু ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকে সম্পূর্ণরূপে পরিত্রাণ পেতে পারবে না, তাই তারা দাস বানিয়ে রাখতে চাইছে। আমরা মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকব, কিন্তু আমাদের কোনো অধিকার থাকবে না। ইসরায়েলি ইহুদিদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে তারা তাদের সরকারের গণহত্যা নীতিকে সমর্থন করে। কারণ বর্ণবাদী ইসরায়েলে বসবাসকারী জায়নবাদী হিসেবে তাদের বিশ্বাস এই যে, তারা সবসময়ই কিছু বিশেষ সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকারী। কিন্তু এ ভূখণ্ডের যারা আদিবাসী, তাদের সেসব সুবিধা প্রদান করা যাবে না। তাই ১৯৪৮ সালে এই বর্ণবাদী আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য জাতিগত নির্মূলই ছিল একমাত্র সমাধান। ১৯৬৭ সালে ফিলিস্তিনিদের দাস বানিয়ে রাখাই তাদের কাছে একমাত্র বিকল্প হয়ে ওঠে।

বাস্তবতা বোঝা গেল। কিন্তু এ বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে ফিলিস্তিনি সেটলার ঔপনিবেশিকতাকে শত্রু হিসেবে গণনার একটি সাধারণ ধারণা পেয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে কীভাবে এ ঔপনিবেশবাদকে এড়িয়ে যেতে হবে বা এটা থেকে পরিত্রাণ পেতে হবে, সেটা বুঝতে এবং সে বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ বিষয়ে কৌশলগত চিন্তাধারায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। এ প্রেক্ষাপটের মধ্যে সত্যিকারের মুক্তির অর্থ হচ্ছে ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনে অভ্যন্তরে প্রকৃত সমতা অর্জন করা। কারণ ১৯৪৮ সালে সব ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তু শহর ও গ্রামে ফিরে এসেছিল। কিন্তু তাদের ফিরে আসার পর বাস্তবায়ন করা হয় জাতিগতভাবে নির্মূল করার নীল-নকশা।

মুক্তির লক্ষ্য : অবাক হওয়ার কিছু নেই। গাজা একটি নজিরবিহীন পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গাজার দুই-তৃতীয়াংশ শরণার্থী ১৯৪৮ সালের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের রেজল্যুশন ১৯৪ অনুসারে তাদের প্রত্যাবর্তনের অধিকারী। তবে একটা গুজব শোনা যাচ্ছে যে, প্রতিরোধ যোদ্ধারা সেদর্তে প্রবেশ করতে পেরেছিলেন, বলা হচ্ছে যে তারা হুজ গ্রামের উদ্বাস্তুদের বংশধর, যাদের ১৯৪৮ সালে ইহুদিবাদী মিলিশিয়ারা জাতিগতভাবে নির্মূল করেছিল। একই সঙ্গে নতুন নাম দিয়েছিল সেদর্ত। হিরবিয়া গ্রামের অন্যদের ইসরায়েলিরা নাম দিয়েছিল জিকিম।

তবে তারা ‘অচিন্তনীয়’ কিছু করার সাহস দেখিয়েছে। অর্থাৎ তারা এখানে প্রত্যাবর্তন করেছে ঔপনিবেশকারীদের অনুমতিপ্রাপ্ত দর্শনার্থী হিসেবে নয়। বরং তারা মুক্তিদাতা হিসেবে তাদের পৈতৃক জমিতে তাদের অধিকার বজায় রাখতে এসেছে। প্রত্যাবর্তনের এ মারাত্মক কাজটি একটি ইহুদিবাদী ভবিষ্যতের দিকে ইঙ্গিত করে। তাই আমাদের বিশ্বাস রাখা উচিত, আমাদের সবার জন্য মুক্তি একদিন আসবেই। আমাদের জন্য মুক্তি মানে ইহুদিবাদী ঔপনিবেশিকতা এবং বর্ণবাদের কাঠামো ধ্বংস হওয়া। শতবছর ধরে ফিলিস্তিনের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর যে বৈষম্য ও অবিচার চলে এসেছে, তা মোকাবিলা করা। আমাদের জন্য মুক্তির লক্ষ্য হচ্ছে ফিলিস্তিনি এবং ইসরায়েলিদের মধ্যে সম্পর্ককে সম্পূর্ণ সমতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে রূপান্তর করা। সেটলার সোসাইটি সব ঔপনিবেশিক সুযোগ-সুবিধা পরিত্যাগ করবে এবং অতীতের অপরাধ ও অবিচারের জন্য দায় স্বীকার করবে। আমরা এটি আশা করতেই পারি। আবার আদিবাসী ফিলিস্তিনিরা যে সমঝোতার প্রস্তাব দেবে, তা হলো জর্ডান নদী এবং ভূমধ্যসাগরের মধ্যবর্তী নতুন রাষ্ট্রে বসতি স্থাপনকারীদের নাগরিক হিসেবে গ্রহণ করা ও সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা। এটা হচ্ছে শান্তি ও নিরাপত্তার পথ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যারা দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধ স্বীকার করেছে, এমনকি তাদের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদেরও এ শর্ত মেনে নিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইতিহাস থেকে আসলে কোনো শিক্ষা নিচ্ছেন না। তাই যেদিন ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা কাঁটাতার পেরিয়ে ইসরায়েলে এসেছিল, সেদিন তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, তার দেশ ইসরায়েলের পেছনে রয়েছে। তিনি তার দেশের সেনাবাহিনীকে গাজার বেসামরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অনুমতিও দিয়ে রেখেছেন। এখন ১৯৪৮ সালের ফিলিস্তিনের অভ্যন্তরে প্রতিরোধ শুরুর তিন দিন পর ইসরায়েল গাজায় ১৪০ জন শিশুসহ ৭৭০ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করেছে। আহত হয়েছে প্রায় চার হাজার বেসামরিক ও সামরিক মানুষ। প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার বা তার চেয়েও বেশি লোকজন তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে। কারণ তাদের আশপাশের এলাকাগুলো ছিল ইসরায়েলি যুদ্ধ বিমানের লক্ষ্যবস্তু। আমিও তাদের একজন।

জো বাইডেনের মতো বিশ্ব মোড়লদের ব্রাজিলের শিক্ষাবিদ এবং দার্শনিক পাওলো ফ্রেয়ারের কথা মনে রাখা উচিত। তিনি বলেছিলেন, ‘নিপীড়নের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমেই সহিংসতা শুরু হয়। ইতিহাসে কখনো নির্যাতিতদের দ্বারা সহিংসতার সূচনা হয়নি। যারা নিপীড়ন করে, যারা শোষণ করে, যারা অন্যকে মানুষ হিসেবে চিনতে ব্যর্থ হয় তাদের দ্বারাই সহিংসতা শুরু হয়—যারা নিপীড়িত, শোষিত এবং অচেনা, তাদের দ্বারা নয়।’

গাজা ও জেনিনে আমরা ভেড়ার পালের মতো ইসরায়েলের মৃত্যুকক্ষে যেতে অনিচ্ছুক। গাজা ও জেনিনে প্রকৃতপক্ষে সব ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনি অর্থাৎ আমরা একটা ব্যাপার একদম সুস্পষ্ট করে দিয়েছি। আমরা চাই, জর্ডান নদী ও ভূমধ্যসাগরের মধ্যে বসতি স্থাপনকারী, ঔপনিবেশিক, বর্ণবাদী শাসনকে প্রতিহত করতে এবং তা অবশ্যই করব।

আমরা একই সঙ্গে এটাও আশা করি যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আমাদের ন্যায়বিচার ও স্বাধীনতার সংগ্রামকে ঠিক একইভাবে সমর্থন করবে, যেভাবে তারা রাশিয়ার আক্রমণের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতিরোধকে সমর্থন করেছে ও সম্মান জানিয়েছে। আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার কিংবা প্রত্যাবর্তনের অধিকারসহ আমাদের অন্যান্য মৌলিক অধিকারগুলোর সঙ্গে কখনো আপস করতে পারি না।

লেখক : গাজার আল-আকসা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক। নিবন্ধটি আলজাজিরার মতামত বিভাগ থেকে ভাষান্তর করেছেন আমরিন খান

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণায় শঙ্কা দূর হয়েছে : যুবদল নেতা আমিন

আহত নুরের খোঁজ নিলেন খালেদা জিয়া

বাংলাদেশ পুনর্নির্মাণে ৩১ দফার বিকল্প নেই : লায়ন ফারুক 

চবির নারী শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, উত্তপ্ত ক্যাম্পাস

অবশেষে জয়ের দেখা পেল ম্যানইউ

আ.লীগের নেতাদের বিরুদ্ধে সাংবাদিককে লাঞ্ছিতের অভিযোগ

আসিফের ঝড়ো ইনিংসও পাকিস্তানের জয় থামাতে পারল না

খুলনায় জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলা, আহত ১৫

বাবা-মেয়ের আবেগঘন মুহূর্ত ভাইরাল, মুগ্ধ নেটিজেনরা

ডাচদের বিপক্ষে জয়ে যে রেকর্ড গড়ল লিটনরা

১০

সাকিবের রেকর্ডে ভাগ বসালেন লিটন

১১

বিএনপিপন্থি ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নতুন কমিটি নিয়ে নানা অভিযোগ

১২

জয়ের কৃতিত্ব কাদের দিলেন লিটন?

১৩

চায়ের দোকানে আ.লীগ নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

১৪

ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে যা বললেন তাসকিন

১৫

বগুড়ায় বিক্ষোভ মিছিল থেকে জাপা অফিসে ভাঙচুর

১৬

প্রতিটি জেলা থেকে ট্যালেন্ট হান্ট চালু করবে বিএনপি : আমিনুল হক 

১৭

ফুল হয়ে ফোটে খাদ্য-অর্থের অভাব মেটাচ্ছে শাপলা

১৮

এফইজেবি’র নতুন সভাপতি মোস্তফা কামাল, সম্পাদক হাসান হাফিজ

১৯

নুরের শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ তথ্য জানালেন চিকিৎসকরা

২০
X