জুলাই আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) যেভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর কথা ছিল, উল্টো বছর পেরোলেও সংস্কার বা পরিবর্তনের তেমন কিছুই হয়নি এখনো। উল্টো সভাপতি পরিবর্তনসহ নানা ঘটনা মাঝেমধ্যেই বড় বিতর্কের মধ্যে ফেলছে দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে। ঘরোয়া ক্রিকেটের কেলেঙ্কারিগুলোও এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে উন্মুক্ত হয়ে আছে। এসবের মাঝে নতুন নতুন আলোচনার রসদ জোগাচ্ছে বিসিবির বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের নানা বিতর্কিত কার্যকলাপ। এসব কিছুই ছাপিয়ে গেছে বিসিবির দুর্নীতি দমন ইউনিটের (আকু) প্রধান মেজর (অব.) রাইয়ান আজাদের কীর্তি। বিসিবির বেতনভুক্ত কর্মকর্তা হয়েও বিসিবিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ভেরিফায়েড পেজে বেশকিছু নেতিবাচক পোস্ট দিয়েছেন। সেসব পোস্টে বোর্ড সভাপতির নেওয়া সিদ্ধান্তের পাশাপাশি শীর্ষ কর্তাদের যোগ্যতা, দক্ষতা নিয়েও প্রকাশ্যে বক্তব্য রেখেছেন। তার এমন বিস্ময়কর কর্মে ক্রিকেটপাড়ায় শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। নানা দিকে ডালপালা মেলছে… নানা মুখরোচক কথাবার্তাও শোনা যাচ্ছে। বিসিবির আসন্ন নির্বাচন ঘিরে একটি পক্ষ এসব চক্রান্তের পথে হাঁটতে শুরু করেছে।
এ নিয়ে রাইয়ান আজাদের মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘আমার ফেসবুক এডমিনসহ আরও কয়েকজনের নিয়ন্ত্রণে। কে কী এবং কখন পোস্ট করে, সেটা আমি অবগত নই।’ তবে বিষয়টি নিয়ে পরে সময় করে বিস্তারিত বলার কথাও বলেন তিনি।
অথচ লম্বা সময় ধরেই বিসিবির দুর্নীতি দমন ইউনিটে (আকু) চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রাইয়ান আজাদ। এ সময় ঘরোয়া ক্রিকেটে অনেক অনিয়মের খবর গণমাধ্যমে উঠে এলেও বিসিবি কিংবা আকুর পক্ষ থেকে কোনো তদন্তের শুরু বা শেষ করতে তাকে দেখা যায়নি। শুধু এ সময়ই নয়, তার আগেও উল্লেখযোগ্য কোনো কিছু করতে দেখা যায়নি বিসিবিকে। এতে করে বছরের পর বছর ধরেই ঘরোয়া ক্রিকেটে অনিয়মের ডালপালা আরও মেলতে থাকে। কিন্তু ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে এসে বিসিবির নানা ব্যাপারে আলোচনা করতে দেখা গেছে এই কর্মকর্তাকে। তার ফেসবুকে দেওয়া বিভিন্ন পোস্টে বোর্ডের নানা অনিয়মের কথা তুলে ধরলেও স্বপক্ষে কোনো প্রমাণাদি উল্লেখ করতে দেখা যায়নি তাকে। অভিযোগ দিয়েই খালাস।
চলতি বছরের ৮ জুলাই ক্রীড়া উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করে একটি পোস্ট করেছিলেন রাইয়ান আজাদ। সেখানে তিনি ‘বিসিবিতে আর নয় ফ্যাসিস্ট নিয়োগ, সময় এসেছে পরিবর্তনের’—এমন ডাক দেন। ওই পোস্টে বিসিবির প্রধান নির্বাহী (সিইও) থেকে শুরু করে নানা পদে চাকরির বিধিমালাসহ অনেক কিছু নিয়ে কথা বলেন। তার ভাষ্যমতে, সেখানে দুর্নীতির গন্ধ আছে। একই সঙ্গে কে কোন পদে কীভাবে চাকরি করছে, সেসব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিসিবির বেতনভুক্ত এই কর্মকর্তা। দেশের ক্রিকেটের বাজেট, ঘরোয়া ক্রিকেটের অবস্থা, অবকাঠামো থেকে শুরু করে আরও নানা বিষয়ে তার সেই পোস্টে আলোকপাত করতে দেখা গেছে। কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা কোনো কর্মকর্তার পক্ষে এভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার সুযোগ আছে কি না—এমন প্রশ্নও উঠছে ক্রীড়া মহলে। যদিও এসব নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছেন না বিসিবির দায়িত্বশীলদের কেউই।
সম্প্রতি বিসিবির দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটে যোগ দিয়েছেন আইসিসির সাবেক দুর্নীতি দমনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ অ্যালেক্স মার্শাল। বিসিবির কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণে বাংলাদেশে এসেও ঘুরে গেছেন তিনি। বুঝে নিয়েছেন দায়িত্ব। তার এই আসা-যাওয়ার বিষয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাইয়ান দাবি করেন, মার্শাল ঢাকা আসার ব্যাপারে তার বিভাগকে কোনো কিছুই জানানো হয়নি। তবে এসব ছাপিয়ে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচ্য বিষয়বস্তু বিসিবির নানা অনিয়মের খুঁটিনাটি। যেগুলোর তদন্ত দাবি ক্রীড়াপ্রেমীদের।
মন্তব্য করুন