বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর প্রশাসনের উপস্থিতিতে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা করেছে বহিরাগতরা। এ সময় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
রোববার (৩১ আগস্ট) রাত পৌনে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মফিদুল আলম, পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলম, বিএনপি নেতা আমজাদ হোসেনের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করা হয় বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা। এ সময় বহিরাগতরা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়ে হাত থেকে মোবাইল ছিনিয়ে নিতে চায়।
নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘যৌক্তিক দাবি চাওয়ায় আমাদের ওপর যেভাবে প্রশাসন বহিরাগতদের লেলিয়ে দিল, তার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। এই ফ্যাসিস্ট প্রশাসন আমাদের ওপর হামলা করেছে আওয়ামী লীগের মতই, তাদের মতামত আমাদের ওপর জোর করেই চাপায় দিয়েছে।’
এতে নারীসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ সময় দীর্ঘ ৭ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর অডিটোরিয়াম থেকে বের হয়ে যান শিক্ষকরা। বহিরাগতদের হামলা চলাকালে শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে আশ্রয় নিলে সেখানেও হামলা ও ভাঙচুর করা হয়।
এর আগে বেলা ১১টায় কম্বাইন্ড ডিগ্রি ইস্যু সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভা শুরু হয়।
এদিন সকাল ৯টা থেকে দুই অনুষদের শিক্ষার্থীরা শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনের আশপাশে জড়ো হতে থাকেন। শিক্ষার্থীদের একটাই দাবি ছিল— ‘এক পেশায় এক ডিগ্রি, কম্বাইন্ড ডিগ্রি’। দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত আশানুরূপ না হওয়ায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে একত্রে অবরুদ্ধ করে তালা লাগিয়ে দেন।
আরও পড়ুন : অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ বাকৃবি
উল্লেখ্য, রোববার কম্বাইন্ড ডিগ্রি বাস্তবায়নে আয়োজিত অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত ফলপ্রসূ না হওয়ায় সভায় উপস্থিত উপাচার্যসহ সব শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে তালা ঝুলিয়ে দেয় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পশুপালন ও ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় ২২৭ জন শিক্ষক অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
মন্তব্য করুন