আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ২০টি পশুর হাটে আনুষ্ঠানিক বেচাকেনা শুরু হচ্ছে আজ রোববার। তবে সিটি করপোরেশনের শর্ত অমান্য করে তিন-চার দিন আগেই হাটগুলো কোরবানির পশুতে ভরে উঠতে শুরু করেছে। সারা দেশ থেকে সড়ক ও নদীপথে কোরবানির পশু ঢুকছে হাটগুলোতে। এদিকে এখন হাটে ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থীর সংখ্যাই বেশি। দরদাম যাচাই করে বলছেন, এবারের বাজার কিছুটা চড়া।
গতকাল শনিবার রাজধানীর বেশ কয়েকটি হাট ঘুরে দেখা গেছে, পশুতে হাটগুলো প্রায় ভরে গেছে। ছোট, বড় ও মাঝারি এবং দেশি-বিদেশি সব ধরনের গরুই উঠেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ক্রেতারা আসছেন; কিন্তু দাম জিজ্ঞাসা করেই চলে যাচ্ছেন। রাজধানীর সবচেয়ে বড় হাট গাবতলীতেও কোরবানির ঈদ উপলক্ষে লাখ লাখ পশু বেচাকেনা হয়। এ হাটের স্থায়ী অংশের পাশাপাশি অস্থায়ী অংশেও করা হয় পশু বিক্রির ব্যবস্থা। গতকাল দেখা গেল, দুই অংশই কোরবানির পশুতে ভরে গেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছোট-বড় গবাদি পশু নিয়ে এসেছেন ব্যাপারীরা। এর পরও ঢুকছে পশুবাহী ট্রাক। হাটে আসা ক্রেতার সংখ্যাও নেহাতই কম নয়। তবে তাদের অধিকাংশই বাজার যাচাই করতে আসছেন বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। ঈদের আগের দুদিন হাট পুরোপুরি জমে উঠবে বলে আশা বিক্রেতা ও হাট কর্তৃপক্ষের। গাবতলী হাটের ব্যবস্থাপক আবুল হাসেম বলেন, শুক্রবার রাত থেকে হাট জমে উঠতে শুরু করেছে। বেচাকেনাও ধীরে ধীরে বাড়ছে। ঈদ যত এগিয়ে আসবে, বেচাকানাও তত বাড়বে। ঈদের আগের দুদিন হাট পুরো জমে উঠবে। এখন পর্যন্ত ৭ হাজার পশু এসেছে। আরও পশু আসছে। আশা করছি, এবার ২০ থেকে ২৫ হাজার পশু বিক্রি হবে।
বিক্রেতারা বলছেন, হাটে বড় এবং মাঝারি গরু বেশি এসেছে। সেগুলোই এখন বিক্রি হচ্ছে। ছোট গরু এখনো তেমন আসেনি। শেষের দিকে ছোট গরু এলে সেগুলোই বেশি বিক্রি হবে। ব্যবসায়ী আমান উল্লাহ বলেন, কুষ্টিয়া থেকে ৩০টি গরু এনেছি। এর মধ্যে ১৫টি বিক্রি হয়ে গেছে। সবই বড় সাইজের। হাটে অনেক মানুষ এলেও বেশিরভাগই দেখতে এসেছেন। দাম শুনলেও নিজেরা কিছু বলছেন না। যাদের রাখার জায়গা আছে, তারাই এখন গরু কিনছেন। যাদের জায়গা নেই, তারা ঈদের এক-দুই দিন আগে কিনবে। ধানমন্ডি থেকে ৯ বন্ধু মিলে হাটে এসেছেন শিক্ষার্থী সাজিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাজার পরিস্থিত দেখতে এসেছি। বাসায় রাখার সমস্যা, তাই আজ কিনব না। ঈদের আগে কিনব। এখন শুধু দেখে যাচ্ছি। এবার গরুর দাম বেশি। শেষের দিকে কমতে পারে। মোহাম্মদপুরের বসিলা কোরবানির পশুরহাটে ১৮টি গরু নিয়ে এসেছেন ঝিনাইদহের আব্দুল আজিজ। এর মধ্যে একটি গরু ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ক্রেতারা হাটে এসে শুধু দরদাম করছেন। কেনার আগ্রহ এখনো কম দেখাচ্ছেন। তা ছাড়া এখনো সময় আছে। আরও দুই-তিন দিন পর হাটে পশু বিক্রি জমতে পারে। গরুর দাম প্রতিটিতে ২০ হাজার টাকা বেড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পশু প্রতিপালনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় গরুর দামও বেড়ে গেছে।
প্রতিবছরই আফতাবনগরে বিশাল জায়গাজুড়ে বসে অস্থায়ী পশুর হাট। রামপুরার ইস্ট-ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের সড়কটি আফতাবনগরে প্রবেশের পথ। সেখানে বড় করে হাটের প্রবেশপথ সাজানো রয়েছে। এখান থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার পরই হাটের শুরুর অংশ। আফতাবনগরের লোহার ব্রিজ থেকে বটতলা হয়ে তালতলা পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার সড়কজুড়ে এ হাটের অবস্থান। হাটে প্রবেশ করলেই দেখা যায় রাস্তার দুই পাশে ও মাঝ দিয়ে সারি সারি গরু রাখা হয়েছে। এ ছাড়া আশপাশের খালি জায়গা কিংবা সড়কেও গরু সাজিয়ে রাখা হয়েছে। কিছুক্ষণ পর পরই ট্রাকভর্তি গরু আসছে।
এ হাটের ইজারাদার প্রতিনিধি আকাশ জানান, হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা রেখেছেন। ঢাকায় গরু রাখার জায়গা না থাকায় সবাই ঈদের আগের দিন গরু কিনতে চান। তাই এখনো বেচাকেনা জমে ওঠেনি। রোববার থেকে বেচাকেনার চাপ বাড়বে। এদিক অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা রোধে হাটে থাকছে সিটি করপোরেশনের মনিটরিং সেল। রাজধানীর প্রতিটি পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তের মেশিনও রাখা হবে। হাটের সার্বিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী সেলিম রেজা বলেন, ডিএনসিসি এলাকার ১০টি হাটের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে তদারকির জন্য ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের কমিটি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি হাটেই থাকবেন ভ্রাম্যমাণ আদালত ও সার্বক্ষণিক পশু চিকিৎসক। এবার হাটের প্রধান আকর্ষণ ক্যাশলেস লেনদেন। ক্রেতা-বিক্রেতার আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রতিটি হাটে ব্যাংকের বুথ থাকবে, যেখানে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে। এ ছাড়া ভিসা কার্ড, মাস্টারকার্ডে কেনাকাটা করার সুবিধার পাশাপাশি থাকবে এটিএম বুথও। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন বলেন, এবার ডিএসসিসি এলাকায় ১০টি হাটের জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও একটি করে তদারকি দল রাখা হয়েছে। পাঁচ সদস্যের তদারকি দলের মধ্যে থাকবেন একজন আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, নির্বাহী প্রকৌশলী, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রতিনিধি, সম্পত্তি বিভাগের প্রতিনিধি ও একজন পশু চিকিৎসক।
মন্তব্য করুন