ড. আতিউর রহমান
প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৪, ০৩:৪৩ এএম
আপডেট : ০৮ জুন ২০২৪, ০৮:৪০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবানুগ

প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবানুগ

প্রস্তাবিত বাজেটটি প্রাথমিকভাবে দেখে একে বাস্তবতার প্রতি অনেকটাই সংবেদনশীলই মনে হচ্ছে। একই সঙ্গে এ বাজেটটিতে কিছু কিছু ক্ষেত্রে আরেকটু কল্যাণমুখী হওয়ার সুযোগ যে ছিল সেটিও মানতে হবে। ২০১৯-২০-এ বাংলাদেশের প্রস্তাবিত বাজেট ছিল ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা, যা ২০২৩-২৪-এ এসে বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৭ লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকার বেশিতে। অর্থাৎ এ সময়কালে গড়ে বছরে বাজেটের আকার বেড়েছে ৭.৬ শতাংশ হারে। আসন্ন ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও চলতি বছরের প্রস্তাবিত চেয়ে বাজেট বেড়েছে। তবে আগের হারে বাড়েনি। মাত্র ৪.৬ শতাংশ বেড়ে ৭ লাখ ৯৭ হাজার টাকা হয়েছে। ফলে বাস্তবতার প্রতি সংবেদনশীল বাজেট-প্রণেতারা সংকোচনের পথেই এগোতে চাইছেন, তা দৃশ্যমান।

মুদ্রানীতির সঙ্গে সমন্বয় করে রাজস্বনীতিকে সংযত রাখার অংশ হিসেবে বাজেট ঘাটতি ৪.৫ শতাংশ রাখার আকাঙ্ক্ষাটিও বাস্তবতার নিরিখে মোটামুটি গ্রহণযোগ্য। তবে ৬.৭৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা উচ্চাভিলাষী। মূল্যস্ফীতির হার সাড়ে ৩ শতাংশের মতো কমিয়ে সাড়ে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা মোটেও সহজ হবে না। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য বাজেট ঘাটতি আরও কমিয়ে ব্যাংক খাত থেকে ঋণের পরিমাণ কমানোর কোনো বিকল্প নেই।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো সামাজিক খাতে বরাদ্দ, কৃষির জন্য বরাদ্দ এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে সহায়ক খাতে/কর্মসূচিতে/প্রকল্পে বরাদ্দে এ কাটছাঁটের প্রভাব যতটা সম্ভব কম ফেলা যায় ততই কল্যাণকর। প্রায় এক দশক ধরেই আমাদের মোট জাতীয় বাজেটের ১৫-১৭ শতাংশ যাচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাবদ। বরাদ্দের এ ধারাবাহিকতার প্রভাবেই দারিদ্র্য ও অতিদারিদ্র্য হার নাটকীয় মাত্রায় কমিয়ে আনা গেছে। এবারও বাজেটের ১৭ শতাংশের বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাবদ। তবে লাগামহীন মূল্যস্ফীতির হাত থেকে নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে এখানেও বরাদ্দের ক্ষেত্রে কিছুটা প্রবৃদ্ধি আশা করেছিলাম। মূল্যস্ফীতি যেহেতু ১০ শতাংশের আশপাশে, তাই সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ অন্তত ১০ শতাংশ বাড়ালে কার্যক্রমটির উপকারভোগীরা মূল্যস্ফীতি মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট জোর পেত।

মোট রাজস্ব আদায়ে ৫ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটি সময়োচিত মনে করলেও এ লক্ষ্য বাস্তবায়ন খুবই চ্যালেঞ্জিং হবে। সব মিলিয়ে প্রাথমিক বিচারে এবারের বাজেটটি অনেকটাই বাস্তবমুখী ও সময়োচিত হিসেবেই দেখতে হবে। তবে যেহেতু অনেকখানি কাটছাঁট করতে হয়েছে, তাই এ সংকুচিত বাজেট বাস্তবায়নে আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি দক্ষতা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিতে হবে।

লেখক: ইমেরিটাস অধ্যাপক, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, উন্নয়ন সমন্বয়; সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রতিহিংসা নয়, ইতিবাচক রাজনীতির চর্চা করুন: শিমুল বিশ্বাস

সংসদে শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ

এবার বাংলাদেশে ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’র আত্মপ্রকাশ!

উন্নয়নের নামে অপরিকল্পিতভাবে পরিবেশ ধ্বংস করা হয়েছে: রিজভী

এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নে ত্রুটি: চার শিক্ষককে শোকজ

যুদ্ধ চলাকালে যেভাবে মার্কিন সেনাদের ওপর নজরদারি করেছে ইরান

দুই মাসের শিশুর পা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চাচির, গোপন ক্যামেরায় ধরা

জাহিদ হাসানের নতুন নাটক ‘পথহারা মন’

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের টিকিট সর্বনিম্ন সাড়ে ৩ লাখ টাকা, সর্বোচ্চ কত?

মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্তকে পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ

১০

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে সংসদের সামনে শিক্ষার্থীরা

১১

জলাবদ্ধতার কারণ অনুসন্ধানে মাঠে চসিক মেয়র, দ্রুত সমাধানের নির্দেশ

১২

কুমিল্লায় একটি কলেজ ছাড়া কোথাও কোনো দুর্যোগ হয়নি: শিক্ষামন্ত্রী

১৩

শিগগিরই বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র খোলা হবে: জেলা প্রশাসক

১৪

ঢাবি আইবিএ ও বেক্সিমকো ফার্মার মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

১৫

বিশ্বকাপের ‘সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা ম্যাচ

১৬

লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার নিয়ে আসছে নতুন সিদ্ধান্ত

১৭

কুড়িগ্রামে সব নদ-নদীর পা‌নি বৃ‌দ্ধি, বন্যার শঙ্কা

১৮

আধুনিক প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত  / বাজারে এলো নতুন প্রজন্মের ‘যমুনা ওয়াশিং মেশিন’ 

১৯

ধৈর্য সম্পর্কে পবিত্র কোরআনের ১০ আয়াত

২০
X