বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩
ড. আতিউর রহমান
প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৪, ০৩:৪৩ এএম
আপডেট : ০৮ জুন ২০২৪, ০৮:৪০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবানুগ

প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবানুগ

প্রস্তাবিত বাজেটটি প্রাথমিকভাবে দেখে একে বাস্তবতার প্রতি অনেকটাই সংবেদনশীলই মনে হচ্ছে। একই সঙ্গে এ বাজেটটিতে কিছু কিছু ক্ষেত্রে আরেকটু কল্যাণমুখী হওয়ার সুযোগ যে ছিল সেটিও মানতে হবে। ২০১৯-২০-এ বাংলাদেশের প্রস্তাবিত বাজেট ছিল ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা, যা ২০২৩-২৪-এ এসে বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৭ লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকার বেশিতে। অর্থাৎ এ সময়কালে গড়ে বছরে বাজেটের আকার বেড়েছে ৭.৬ শতাংশ হারে। আসন্ন ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও চলতি বছরের প্রস্তাবিত চেয়ে বাজেট বেড়েছে। তবে আগের হারে বাড়েনি। মাত্র ৪.৬ শতাংশ বেড়ে ৭ লাখ ৯৭ হাজার টাকা হয়েছে। ফলে বাস্তবতার প্রতি সংবেদনশীল বাজেট-প্রণেতারা সংকোচনের পথেই এগোতে চাইছেন, তা দৃশ্যমান।

মুদ্রানীতির সঙ্গে সমন্বয় করে রাজস্বনীতিকে সংযত রাখার অংশ হিসেবে বাজেট ঘাটতি ৪.৫ শতাংশ রাখার আকাঙ্ক্ষাটিও বাস্তবতার নিরিখে মোটামুটি গ্রহণযোগ্য। তবে ৬.৭৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা উচ্চাভিলাষী। মূল্যস্ফীতির হার সাড়ে ৩ শতাংশের মতো কমিয়ে সাড়ে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা মোটেও সহজ হবে না। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য বাজেট ঘাটতি আরও কমিয়ে ব্যাংক খাত থেকে ঋণের পরিমাণ কমানোর কোনো বিকল্প নেই।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো সামাজিক খাতে বরাদ্দ, কৃষির জন্য বরাদ্দ এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে সহায়ক খাতে/কর্মসূচিতে/প্রকল্পে বরাদ্দে এ কাটছাঁটের প্রভাব যতটা সম্ভব কম ফেলা যায় ততই কল্যাণকর। প্রায় এক দশক ধরেই আমাদের মোট জাতীয় বাজেটের ১৫-১৭ শতাংশ যাচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাবদ। বরাদ্দের এ ধারাবাহিকতার প্রভাবেই দারিদ্র্য ও অতিদারিদ্র্য হার নাটকীয় মাত্রায় কমিয়ে আনা গেছে। এবারও বাজেটের ১৭ শতাংশের বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাবদ। তবে লাগামহীন মূল্যস্ফীতির হাত থেকে নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে এখানেও বরাদ্দের ক্ষেত্রে কিছুটা প্রবৃদ্ধি আশা করেছিলাম। মূল্যস্ফীতি যেহেতু ১০ শতাংশের আশপাশে, তাই সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ অন্তত ১০ শতাংশ বাড়ালে কার্যক্রমটির উপকারভোগীরা মূল্যস্ফীতি মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট জোর পেত।

মোট রাজস্ব আদায়ে ৫ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটি সময়োচিত মনে করলেও এ লক্ষ্য বাস্তবায়ন খুবই চ্যালেঞ্জিং হবে। সব মিলিয়ে প্রাথমিক বিচারে এবারের বাজেটটি অনেকটাই বাস্তবমুখী ও সময়োচিত হিসেবেই দেখতে হবে। তবে যেহেতু অনেকখানি কাটছাঁট করতে হয়েছে, তাই এ সংকুচিত বাজেট বাস্তবায়নে আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি দক্ষতা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিতে হবে।

লেখক: ইমেরিটাস অধ্যাপক, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, উন্নয়ন সমন্বয়; সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন

অপ্রতিরোধ্য ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে নিখুঁত স্পেন

পোরোর গোলে কপাল পুড়ছে ফ্রান্সের

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি / চট্টগ্রামে সাদিয়া’স কিচেনকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা

অনিচ্ছাকৃত ফাউলে কপাল পুড়ল ফ্রান্সের, সেমির মাঝপথে পেল আরও বড় দুঃসংবাদ

ফার্মের মুরগি বলা জেন-জিই করেছে মহাকাব্যিক বিপ্লব: তাজুল ইসলাম

এই কারণেই কি আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিততে পারবে না?

এমবাপ্পেদের জালে বল পাঠিয়ে ওইয়ারসাবালের নতুন ইতিহাস

চট্টগ্রামে চাপাতি ও বাটালিসহ দুই ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে বন্যার্তদের মাঝে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ত্রাণ বিতরণ

১০

রেকর্ডের জোয়ারে শেষ বয়সভিত্তিক সাঁতার

১১

পেনাল্টির আশীর্বাদে শুরুতেই এগিয়ে স্পেন

১২

সেমির আগে নতুন বল, কিন্তু কেন?

১৩

আয়াতুল্লাহ খামেনির নির্দেশেই হরমুজ বন্ধের পরিকল্পনা হয়েছিল

১৪

দেশে অস্থিতিশীলতার সুযোগ নেবে ফ্যাসিবাদী শক্তি: মাওলানা রাব্বানী

১৫

স্পেন-ফ্রান্সের মহারণ, ইতিহাসের সবচেয়ে দামী ম্যাচ

১৬

ফ্রান্সের বিপক্ষে স্পেনের শক্তিশালী একাদশ ঘোষণা

১৭

ফেসবুক পোস্টে মাহদী আমিন / চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া দেশের সকল কেন্দ্র পরীক্ষার উপযোগী

১৮

স্পেনের বিপক্ষে ফ্রান্সের একাদশ ঘোষণা

১৯

চট্টগ্রামে প্রাইম মুভার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ধর্মঘটের ডাক

২০
X