পূর্বশত্রুতার জেরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আওয়ামী লীগ নেতা কামাল আহমেদকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা পুলিশের। এরই মধ্যে হামলাকারীদের ধরতে গ্রেপ্তার অভিযান চালাচ্ছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।
সোমবার রাত ৯টার দিকে কামাল আহমেদের ওপর হামলা হয়। মোহাম্মদপুরের কাটাসুর তিন নম্বর সড়কে বাসার সামনে লুডু খেলা অবস্থায় মাস্ক পরিহিত চার থেকে পাঁচজন যুবক এসে অতর্কিত হামলা চালায়। গুরুতর আহত কামালকে জাতীয় অর্থোপেডিক ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে (পঙ্গু হাসপাতাল) নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত কামাল ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের (সাবেক ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড) ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরে তিনি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। সবশেষ তিনি ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। ইট-বালু ব্যবসা রয়েছে তার।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গের সামনে গিয়ে দেখা যায়, ছেলের শোকে বাকরুদ্ধ বাবা আলম চান। তাকে ঘিরে রয়েছেন অন্য স্বজনরা। সবাই মরদেহের অপেক্ষায়। স্বজনরা বলছেন, কামালের কোনো শত্রু ছিল না।
চার ভাইবোনের মধ্যে কামাল আহমেদ সবার বড়। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তিনি পরিবার নিয়ে কাটাসুর এলাকার তিন নম্বর রোডে বাস করতেন। কামালের বাবা আলম চান বলেন, আমার ছেলের সঙ্গে কারও বিরোধ নেই। কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে, সেটাই তো বুঝতে পারছি না। সে আমার ইট-বালুর ব্যবসা দেখাশোনা করত। সে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কমিটিতেও ছিল। রাজনৈতিক পদ-পদবি নিয়ে তার কোনো প্রতিপক্ষ ছিল না।
সোমবার রাতে হামলার সময় কামালের সঙ্গে ছিলেন অটোরিকশাচালক আবুল হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমি আর কামাল ভাই বাসার সামনে বসে লুডু খেলছিলাম। হঠাৎ চার থেকে পাঁচজন ধারালো অস্ত্র হাতে দৌড়ে আসে। সবার মুখেই মাস্ক ছিল। সে কারণে তাদের চিনতে পারিনি। অস্ত্র হাতে দৌড়ে আসতে দেখে আমরাও দৌড় দিই। এরই মধ্যে কামাল ভাইয়ের ওপর হামলা করে তারা। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা কামাল ভাইকে মৃত ঘোষণা করেন।’
মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কামালের বাম হাত, ডান হাত ও বাম পায়ে ধারালো অস্ত্রের কোপের চিহ্ন রয়েছে।
আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে জানিয়ে মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, পরিবার কাউকে সন্দেহ করছে না। তবে আমরা বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে কাজ করছি। এখন পর্যন্ত তথ্যে পূর্বশত্রুতা বলে মনে হচ্ছে। আমাদের একাধিক টিম জড়িতদের ধরতে কাজ করছে।