চলন্ত বাসে ডাকাতি ও নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানির ঘটনায় ওই গাড়ির ড্রাইভার, হেলপার ও সুপারভাইজার জড়িত বলে সন্দেহ করছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা। তাদের একজন বলেছেন, বাসের এসব লোকের সম্পৃক্ততা ছাড়া এমন কর্মকাণ্ড কেউ ঘটাতে পারে না। আর এ ঘটনায় মামলার বাদী বলছেন, ডাকাতির সময় কয়েকবার ডাকাতদের কানে-মুখে কথা বলেছিলেন হেলপার।
ঘটনার তিন দিন পর গতকাল শুক্রবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। ওই বাসের যাত্রী নাটোরের বড়াইগ্রামের ওমর আলী মামলাটি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিবুল হাসান রাসেল। এ মামলায় ১০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে। বাদী ওমর আলী বাসের ড্রাইভার, হেলপারদের সন্দেহ করলেও মামলায় তাদের নাম উল্লেখ করেননি।
জানা যায়, গত সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে নাটোরের বড়াইগ্রাম হয়ে রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে যায় রয়েল পরিবহনের একটি বাস। গাবতলী থেকে ছেড়ে যাওয়ার সময় ওই বাসে ৩০ থেকে ৩৫ জন যাত্রী ছিল। এরপর রাত আনুমানিক ২টার দিকে ওই বাসটি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ফুট ওভারব্রিজের কাছে পৌঁছলে সেখান থেকে সাতজন ডাকাত উঠে বাসের যাত্রীদের জিম্মি করে ফেলে। এরপর থেকে বিভিন্ন জায়গায় বাসটি নিয়ে যাত্রীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫ লক্ষাধিক টাকা ছিনিয়ে নেয় তারা। এ সময় দুই নারী যাত্রীকে শ্লীলতাহানিও করা হয়।
এ বিষয়ে গতকাল ওই বাসের যাত্রী সোহান বলেন, ‘বাসের হেলপার, ড্রাইভার ও সুপারভাইজারকে আমার সন্দেহ হয়। এ ঘটনা তাদের সম্পৃক্ততা ছাড়া কেউ করতে পারে না।’ তিনি বলেন, ‘বাসটি যতক্ষণ ডাকাত দলের সদস্যরা যাত্রীদের সবকিছু না নিয়েছে, ততক্ষণ বাসটি নানা জায়গায় দিয়ে ঘোরাঘুরি করেছে।’
মামলার বাদী ওমর আলী বলেন, আমার সিটের পেছনে দুই ডাকাত বসেছিল। তখন বাসের হেলপার দুবার এসে তাদের সঙ্গে কানে-মুখে কথা বলেছে। তিনি আরও জানান, আমরা দুজন ওমর আলী এবং সোহান একসঙ্গে বসা ছিলাম। আমরা দুজনেই গুড়ের ব্যবসা করি। আমার কাছে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ছিল। প্রথমে ডাকাত দলের লক্ষ্য ছিল আমার দিকে। তাই প্রথমেই আমার কাছ থেকে টাকাগুলো নিয়ে নেয় তারা। ব্যবসা করে ৯ দিন পর বাড়ি ফিরছিলাম।
তিনি আরও জানান, বাসের হেলপার সুপারভাইজার ও ড্রাইভারকে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে মামলায় তাদের নাম রাখা হয়নি। কারণ তাদের লক্ষ্য করেই প্রশাসন অভিযান চালাচ্ছে।
টাঙ্গাইলের পুলিশ কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান জানান, বাসে ডাকাতি ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় ওমর আলী নামে এক যাত্রী মামলা করেছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে পুলিশ দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনবে। টাঙ্গাইলের ডিবি ও জেলা পুলিশসহ তিনটি টিম এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে।
বড়াইগ্রাম থানার ওসি ক্লোজড
এ ঘটনায় অভিযোগ না নেওয়াসহ দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে নাটোরের বড়াইগ্রাম থানার ওসি সিরাজুল ইসলামকে পুলিশ লাইনসে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল বিকেলে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান বড়াইগ্রাম থানা পরিদর্শনে এসে সিরাজুল ইসলামকে পুলিশ লাইনসে ক্লোজড করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাটোরের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন।
নাটোরের পুলিশ সুপার জানান, বাসে ডাকাতি ও নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানীর ঘটনায় ভুক্তভোগীরা থানায় সেবা নিতে গিয়ে না পাওয়ার অভিযোগ করেন। এ ছাড়া বিষয়টি তিনি (ওসি) সঠিক সময়ে তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাননি। এ কারণে তার কাছে বিষয়টির কৈফিয়ত চাওয়া হয়েছে এবং সাময়িকভাবে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।