হাসান আজাদ
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০১:৫১ এএম
আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০১:২৭ পিএম
প্রিন্ট সংস্করণ
চলতি মাস থেকেই কার্যকর

বিশ্ববাজারের সঙ্গে মূল্য সমন্বয় করে বিক্রি হবে জ্বালানি তেল

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মূল্য সমন্বয় করে দেশের বাজারে জ্বালানি তেল বিক্রি করা হবে। পরিকল্পনার শুরুতে তিন মাস অন্তর অন্তর বিশ্ববাজারের সঙ্গে মূল্য সমন্বয়ের চিন্তা করা হলেও এখন তা করা হবে প্রতি মাসেই। এটি কার্যকর করা হচ্ছে চলতি মাস থেকেই। আগামী সপ্তাহে জ্বালানি বিভাগের এক বৈঠকের পরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে যে শর্তগুলো দিয়েছিল, তার একটি ছিল স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ। গত ৩০ জুন বাংলাদেশে সফরে যাওয়া আইএমএফ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে ১ সেপ্টেম্বর থেকে মূল্য সমন্বয়ের বিষয়টি কার্যকর করার কথা বলা হলেও প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে না পারায় দেরি হচ্ছে বলে জ্বালানি বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান। ওই কর্মকর্তা জানান, অক্টোবরে আইএমএফের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে আসবে। এর আগেই বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণের ঘোষণা দেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, চলতি মাসে মূল্য সমন্বয় কার্যকরের নির্দেশনা দিয়েছি। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে। এখন ডিজেলে লিটারপ্রতি ১৩ থেকে ১৪ টাকা লোকসান হচ্ছে। ফলে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, গত মাসে মূল্য সমন্বয়ের ফর্মুলা চূড়ান্ত করে জ্বালানি বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এখন জ্বালানি বিভাগ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। প্রতি মাসে দাম সমন্বয় করার কথা বলা হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, বিপিসি থেকে পাঠানো মূল্য সমন্বয়ের প্রস্তাবটি নিয়ে একাধিক সভা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি সভা হবে। সেখানে বিশ্ব বাজারের সঙ্গে দেশের বাজারের জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। তার পরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।

জানা গেছে, বিশ্ব বাজারের সঙ্গে মূল্য সমন্বয়ের প্রক্রিয়াতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ভোক্তা পর্যন্ত জ্বালানি তেল পৌঁছাতে বিভিন্ন ধাপের খরচ হিসাব করা হবে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে মূল্য সংযোজন কর, আমদানি ভ্যাট, উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যয় এবং বিপিসির মুনাফা। এসব যোগ করে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হবে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে দেশেও বাড়বে। আর কমলে দেশে স্বয়ংক্রিয় ভাবে কমে যাবে। স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে দাম নির্ধারণ করা হলে এ খাতে সরকারের কোনো লোকসান বা ভর্তুকি থাকবে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বয়ংক্রিয় ফর্মুলা বাস্তবায়ন হলে বিশ্ববাজারে ঘন ঘন জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি দেশের বাজেটের ওপর চাপ ফেলবে না। তখন এ খাতে ভর্তুকি দিতে হবে না। বিপিসির লোকসান বলে কিছু থাকবে না। এতদিন মূল্য নির্ধারণে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকায় বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রি করতে হয়েছিল। নতুন পদ্ধতি বাস্তবায়ন হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমার সুবিধা সরাসরি ক্রেতারা পাবেন। আর বৃদ্ধি পেলে তাও ভোক্তাদের দিতে হবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি নির্ধারণ করা হলে সবার জন্যই ভালো। ২০১৯-২০ সালে জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড কমলেও দেশের বাজারে দাম খুব একটা কমেনি। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে, সরকার একটা পর্যায়ে ডিজেল পেট্রোলের দামও বাড়িয়ে দিত; কিন্তু জ্বালানি তেলের দাম কমলেও সেভাবে কমানো হয়নি। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে যদি দাম নির্ধারণ করা হয়, আমার মতে তাতে সবচেয়ে লাভবান হবেন ক্রেতারা।

সরকারের হিসেব বলছে, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় ২০২১-২২ অর্থবছরে বিপিসি প্রায় ২ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা লোকসান করেছে। একই কারণে ২০২২-২৩ অর্থবছরেও লোকসানের আশঙ্কা করছে বিপিসি। গত বছরের ৬ আগস্ট লোকসান কমাতে হুট করেই জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়। এদিন ডিজেল ও কেরোসিন লিটারে ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ৮০ থেকে ১১৪ টাকা, অকটেন লিটারে ৪৬ টাকা বাড়িয়ে ৮৯ থেকে ১৩৫ টাকা, পেট্রোল লিটারে ৪৪ টাকা বাড়িয়ে ৮৬ থেকে ১৩০ টাকা করা হয়।

প্রতিবেশী দেশ ভারতে বহুদিন ধরেই ডায়নামিক ডেইলি প্রাইসিং মেথড অবলম্বন করা হচ্ছে। সেখানে মাসিক হিসাবে নয়, প্রতিদিন বেন্ট ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বিবেচনায় দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয়। আবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ঘণ্টায় তেলের দাম নির্ধারণ হয়ে থাকে। যুক্তরাজ্যে প্রতিদিনই জ্বালানি তেলের দাম ওঠানামা করে; কিন্তু সেখানে সরকারি কোনো সংস্থা সেটা নির্ধারণ করে না। ক্রুড অয়েলের দাম, সরকারি কর, ভ্যাট ইত্যাদির সঙ্গে নিজেদের মুনাফা মিলিয়ে পাম্প মালিকরাই প্রতিদিন সেটা ঠিক করেন। ফলে একই দিন একেক এলাকায় তেলের দাম একেক রকমও হতে পারে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ে অবস্থান করা দুঃখজনক: চসিক মেয়র

এসআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করায় বাদীকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ

ইবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মিথুন, সদস্য সচিব রাফিজ

জলাবদ্ধ বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রাখার নির্দেশ চট্টগ্রামে

বিমানবন্দরে যাত্রীদের জন্য ফ্রি শাটল সার্ভিস চালু 

র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান হারাল আর্জেন্টিনা

এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে গুজব বিশ্বাস না করার আহ্বান

‘আমি বিশ্বের সবচেয়ে বড় জায়নবাদী রাষ্ট্রপ্রধান’  / ইসরায়েলের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ২৫ কেজি পচা গরুর মাংস জব্দ

যুব মহিলা লীগের জেলা সভাপতি গ্রেপ্তার

১০

কালবেলায় সংবাদ প্রকাশ / ৬০ টাকার সড়কবাতি ৯১০: সেই পৌর কর্মচারী বদলি

১১

যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে ৪ দেশ

১২

৩ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর, হুমকিতে হবিগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ

১৩

এমবাপ্পের বিরুদ্ধে মামলার হুমকি

১৪

ব্যাংক লুটেরাদের ‘ডিম থেরাপি’ দেওয়ার পরামর্শ এমপি রেহানার

১৫

বাউবিতে চা-চক্র / ‘মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পরিচয় সংকট বিশ্লেষণ’

১৬

জাবেরের পর ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার ছাড়ার ঘোষণা জুমার

১৭

মাছের ড্রামে মিলল অর্ধকোটি টাকার ভারতীয় শাড়ি

১৮

বঙ্গোপসাগরে তিন ট্রলারডুবি, ১৩ জেলে নিখোঁজ

১৯

রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা

২০
X