জুনায়েদ শিশির
প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০২:০৫ এএম
আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৭:৫৫ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

ফাঁপানো হিসাব দেখিয়ে পুঁজিবাজারে আসার চেষ্টায় এগ্রো অর্গানিকা

উৎপাদনও বন্ধ
ফাঁপানো হিসাব দেখিয়ে পুঁজিবাজারে আসার চেষ্টায় এগ্রো অর্গানিকা

সম্পদের মূল্য ও পরিশোধিত মূলধন ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেশের শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছে এগ্রো অর্গানিকা পিএলসি নামে একটি কোম্পানি। এরই মধ্যে এসএমই কোম্পানি হিসেবে ৫ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমতি পেয়েছে তারা। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) জমা দেওয়া আর্থিক প্রতিবেদনের বেশিরভাগ হিসাবের সঙ্গেই বাস্তবতার মিল নেই। এমনকি শেরপুরের বিসিকে কোম্পানির কারখানায় উৎপাদনও বন্ধ রয়েছে বলে সরেজমিন দেখা গেছে।

জানা গেছে, এগ্রো অর্গানিকার মূল ব্যবসা চাল প্যাকেটজাত, জাফরান, ইসপগুল, মসলা, ঘি, জেলি এবং মৌসুমি ফলের আচার উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ। কোম্পানিটির ‘খুশবু’ ব্র্যান্ডের পণ্যের মান নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনে (বিএসটিআই) অভিযোগ জমা হয়। শুনানির পর সত্যতা পাওয়ায় পণ্যের সনদ স্থগিত করে বিএসটিআই।

এসএমই প্রতিষ্ঠান হিসেবে কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর অফারের (কিউআইও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ উত্তোলনের জন্য গত ৩১ মে এগ্রো অর্গানিকার প্রস্তাব অনুমোদন করে বিএসইসি। কোম্পানিটি ১০ লাখ টাকা অভিহিত মূল্যে ৫০ লাখ সাধারণ শেয়ার ছেড়ে ৫ কোটি টাকার মূলধন উত্তোলন করবে। শেয়ারবাজার থেকে টাকা নিয়ে কোম্পানির কারখানার ভবন সম্প্রসারণ, যন্ত্রপাতি ক্রয়, কার্যকরী মূলধন ও ইস্যু ব্যবস্থাপনায় ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য এই কোম্পানির ইস্যু ব্যবস্থাপনার কাজ করছে শাহজালাল ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।

তবে বিএসইসির অনুমোদনের পর প্রায় সাড়ে তিন মাস পার হলেও কিউআইও প্রক্রিয়া শেষ করতে পারেনি কোম্পানিটি। বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে সরবরাহ করা তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। অন্যদিকে কোম্পানির কর্মকর্তাদের দাবি, দাপ্তরিক জটিলতার কারণে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়ায় সময় লাগছে।

জানা গেছে, শেরপুর বিসিকে এ১৪, এ১৫ এবং এস২১ প্লটে এগ্রো অর্গানিকার কারখানা। তিনটি প্লটে মোট জমির পরিমাণ ৩৩ দশমিক ২৮ শতাংশ। ২০১১ সালের ৫ অক্টোবর ৯৯ বছরের জন্য সুদসহ ৫ লাখ ৩০ হাজার ৮৪৫ টাকার বিনিময়ে বিসিকের কাছ থেকে লিজ নিয়েছে তারা। লিজের জন্য নির্ধারিত ওই টাকা পরিশোধ করা হলেও সার্ভিস চার্জ বকেয়া রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শেরপুর বিসিকে বর্তমানে প্রতি শতাংশ জমির চুক্তি মূল্য ২ লাখ টাকা। সেই হিসাবে এগ্রো অর্গানিকার জমির মোট মূল্য ৬৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। কিন্তু কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে ২০২২ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ওই জমির মূল্য দেখানো হয়েছে ১৪ কোটি ৬২ লাখ ৩০ হাজার ৩২৯ টাকা।

আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এই বিসিকের ৩৩ দশমিক ২২ শতাংশ জমি এবং কারখানার যন্ত্রপাতি এনআরবি ব্যাংকে বন্ধক রেখে ৪৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছে এগ্রো অর্গানিকা। একই ব্যাংকে কোম্পানির স্বল্পমেয়াদি ঋণের পরিমাণ ৮ কোটি ১৪ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। শিল্পনগরীর কোনো জমি বন্ধক রেখে ঋণ নিতে হলে বিসিকের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নিতে হয়। তবে এগ্রো অর্গানিকা কোনো এনওসি নেয়নি বলে জানিয়েছেন বিসিক কর্মকর্তারা।

অন্যদিকে কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে কারখানা ভবন ও অন্যান্য অবকাঠানো নির্মাণে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১১ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ১৯৫ টাকা। গত মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিন শেরপুর বিসিকে দেখা গেছে, এগ্রো অর্গানিকার কারখানাটি মূলত সাইডওয়ালের ওপর উঁচু করে টিন দিয়ে নির্মিত। কারখানার বাইরে কোম্পানির নাম রয়েছে। তবে তালাবদ্ধ।

বিসিকের কর্মকর্তা এবং স্থানীয়রা জানান, কোম্পানিটির এই কারখানায় আপাতত কোনো উৎপাদন কার্যক্রম নেই। অনেকদিন ধরে কোনো শ্রমিক বা কর্মচারীও নেই। বছরের বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকে। ভেতরে যন্ত্রপাতি ও মালপত্র ঠিক আছে কি না, সে সম্পর্কে তাদের ধারণা নেই।

কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কারখানা ও করপোরেট কার্যালয়ের যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য মালপত্রের মূল্য ২০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১৪ কোটি ৫৪ লাখ ১৯ হাজার ৬১৫ টাকার প্লান্ট ও যন্ত্রপাতি, ১ কোটি ৬৬ লাখ ১৬ হাজার ৫০৩ টাকার জেনারেটর, ৬১ লাখ ৯৭ হাজার ৩৩৩ টাকার আসবাব, ৮৪ লাখ ২ হাজার ৬৮৮ টাকার কম্পিউটার ও কম্পিউটার যন্ত্রপাতি, ৬১ লাখ ৩৫ হাজার ৭৯৩ টাকার অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা, ৭৪ লাখ ২ হাজার ৯৮৬ টাকার অফিস সরঞ্জাম এবং ১ কোট ৫৮ লাখ ৪৯ হাজার ৫২০ টাকার মোটরযান রয়েছে। তবে ভবন তালাবদ্ধ থাকায় কারখানার ভেতরে যন্ত্রপাতি ও মালপত্রের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়নি।

তবে কোম্পানির সব ইউনিট বর্তমানে চালু আছে বলে দাবি করেছেন এগ্রো অর্গানিকা পিএলসির পরিচালক মাহাবুবুল করিম। আর্থিক প্রতিবেদন ও কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘খুশবু ব্র্যান্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করা হচ্ছে। বিসিকের জমির মূল্য ও যন্ত্রপাতির মূল্য সঠিকভাবে নির্ণয় করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক যথাযথভাবে যাচাই শেষে সম্পদ মূল্যের ভিত্তিতে ঋণ দেওয়া হয়েছে। সম্পদের কোনো অতি মূল্যায়ন করা হয়নি।’

কোম্পানির ইস্যু ব্যবস্থাপক শাহজালাল ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. আলমগীর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ব্যস্ততার কারণে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ময়মনসিংহে জাপার অফিস ভাঙচুর

গণঅধিকার পরিষদের দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা

স্বাস্থ্য পরামর্শ / মোটরযানের কালো ধোঁয়া ও অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি

নুরের ওপর হামলার নিন্দা / আমরা অত্যন্ত নাজুক সময়ে আছি : তারেক রহমান

নুরের অবস্থা মুমূর্ষু, বাঁচবে কি মরবে জানি না : রাশেদ

নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে নিজ উপজেলায় বিক্ষোভ

ডাচদের সাথে লিটনদের লড়াই দেখবেন যেভাবে

নুরের ওপর হামলা / ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়ক অবরোধ

কী বলে নুরের ওপর হামলা করা হয়, জানালেন ইয়ামিন মোল্লা

আফগানদের হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে শুভ সূচনা পাকিস্তানের

১০

নুরের ওপর হামলার ঘটনায় জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেলের বিবৃতি

১১

আইসিইউতে নুর, ৪৮ ঘণ্টার আগে কিছু বলা যাবে না : চিকিৎসক

১২

নুরের ওপর হামলা ‘অত্যন্ত ন্যক্কারজনক’: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব

১৩

নুরের ওপর হামলায় ১০১ সংগঠনের বিবৃতি

১৪

নুরকে দেখতে এসে আসিফ নজরুল অবরুদ্ধ 

১৫

আহত নুরকে দেখতে ঢামেকে প্রেস সচিব

১৬

সহিংসতার ঘটনায় সেনাবাহিনীর বিবৃতি

১৭

সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গেলেও ওরা থামেনি : হাসনাত

১৮

মাদুশঙ্কার হ্যাটট্রিকে লঙ্কানদের রুদ্ধশ্বাস জয়

১৯

নুরের ওপর হামলার কড়া প্রতিবাদ ছাত্রদলের

২০
X