কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
প্রিন্ট সংস্করণ

এখনো ‘সিন্ডিকেটে’ আটকে ৩০ লাখ পাঠ্যবই

নতুন শিক্ষাবর্ষের এক মাস পার
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার পর এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো ৩০ লাখের বেশি পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়নি। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) ভেতরে গড়ে ওঠা কর্মকর্তা-প্রেস সিন্ডিকেটের কারণে বই ছাপা ও বিতরণে এমন ভরাডুবি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এনসিটিবির দাবি, এ বছর আগের চেয়ে দ্রুত বই পৌঁছেছে। তবে বই ছাপার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এনসিটিবির এই দাবি সঠিক নয়। যেসব বছরে বই বিতরণে বিলম্ব হয়েছে সেসব ক্ষেত্রে প্রতিবারই বড় ধরনের কারণ ছিল। কিন্তু চলতি বছর তেমন কোনো কারণ নেই।

এনসিটিবির বিতরণ শাখার তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার রাত পর্যন্ত মাধ্যমিকের ৩০ কোটি ২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫৩ কপি বইয়ের বিপরীতে উপজেলা পর্যায়ে বিতরণ হয়েছে ২৯ কোটি ৭১ হাজার ৮০ হাজার ৮৫৯ কপি। অর্থাৎ এখনো বিতরণ বাকি রয়েছে ৩০ লাখ ৫৮ হাজার ৭৯৪ কপি বই। এ হিসাবে সার্বিক বিতরণ হার ৯৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ। তবে স্বস্তির খবর প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক (সাধারণ) স্তরের শতভাগ পাঠ্যবই বিতরণ করা হয়েছে। মাধ্যমিকে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি ছিল ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির বইয়ে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৯৯ শতাংশ পাঠ্যবই সরবরাহ হলেও সপ্তম শ্রেণিতে এখনও ৫ শতাংশ ও অষ্টম শ্রেণিতে ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী এখনো বই পায়নি।

বই ছাপার এই সংকটের মূলে এনসিটিবির সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান অধ্যাপক রবিউল কবির চৌধুরী এবং বর্তমান সদস্য রিয়াদ চৌধুরীর সিন্ডিকেটকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, এ চক্রটি আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ নির্দিষ্ট কিছু প্রেসকে কাজ পাইয়ে দিতে নানা অনিয়ম করেছে। এর আগে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির ৬০৩ কোটি টাকার দরপত্র বাতিলের পর পুনরায় টেন্ডার হলে ‘প্রিন্ট মাস্টার’ ও ‘মাস্টার সিমেক্স’ নামের দুটি প্রতিষ্ঠান প্রাক্কলনের চেয়ে ৪৫ শতাংশ কম দরে কাজ পায়। এই দুই প্রেসের সরবরাহ করা নিম্নমানের কাগজের বই সহজেই ছাড়পত্র পেলেও অন্য মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নানা অজুহাতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। এই বৈষম্যের ফলে বই ছাপার স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়েছে এবং বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে মানসম্মত বই তুলে দেওয়ার সরকারি লক্ষ্যমাত্রা মুখ থুবড়ে পড়ে।

এনসিটিবির সূত্র বলছে, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির বইয়ের দরপত্রে অনিয়মের দায়ে সদস্য রিয়াদ চৌধুরীকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও তিনি কৌশলে পদে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন। তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন চলতি বছরের বই ছাপার কাজ শেষ হলে গত ১৫ জানুয়ারির মধ্যে চলে যাবেন। তবে জানুয়ারি পেরিয়ে গেলেও তিনি পদে বহাল আছেন। অভিযোগ উঠেছে, সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠান ‘মাস্টার সিমেক্স’ তাকে পদে টিকিয়ে রাখতে পর্দার আড়ালে নানা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

এনসিটিবি চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মাহবুবুল হক পাটওয়ারী বলেন, শিক্ষার্থীদের হাতে ১ জানুয়ারি বই পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু হলেও নানা কারণে সম্ভব হয়নি। এরপর ১৫ জানুয়ারি টার্গেট ঠিক হলেও সেটাও সম্ভব হয়নি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ফিলিপাইনে ফেরিডুবির ঘটনায় মৃত্যু বেড়ে ১৮

ঢাকা-১৮ আসনে ১০ দলীয় জোট প্রার্থীর ওপর হামলা, এনসিপির নিন্দা

নৌকা থাকলে গণতান্ত্রিক অবস্থা বিরাজ করত : মির্জা ফখরুল

যুক্তরাষ্ট্রে ৮ আরোহী নিয়ে ব্যক্তিগত জেট বিমান বিধ্বস্ত

ভারী খাবারের পর মিষ্টি নাকি টক দই ভালো

‘পদ্মশ্রী’ সম্মান পেলেন প্রসেনজিৎ-মাধবন

সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে : তুলি

৪ পুলিশ সদস্যের সাজায় অসন্তুষ্ট প্রসিকিউশন, আপিলের সিদ্ধান্ত

মোংলায় ৩ শতাধিক হিন্দু-খ্রিস্টানের বিএনপিতে যোগদান

সাত বছরের সাবিহা বাঁচতে চায়

১০

মক্কা-মদিনায় ইতিকাফের জন্য মানতে হবে নতুন নিয়ম

১১

আগুনে পুড়ে ছাই ৭ দোকান

১২

মারা গেছেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সভাপতি

১৩

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এনবিআরের সংস্কার নিয়ে যা জানা গেল

১৪

ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুরের মৃত্যুদণ্ড

১৫

অর্থের অভাবে চিকিৎসা বন্ধ শিশু তামিমের

১৬

নির্বাচন উপলক্ষে তিন দিনের সরকারি ছুটির প্রজ্ঞাপন

১৭

চানখাঁরপুলে হত্যার ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

১৮

এ বছর কোন দেশে কত ঘণ্টা রোজা, জেনে নিন

১৯

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বিস্ফোরণ

২০
X