শাহনেওয়াজ খান সুমন
প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৩, ০৫:২৭ পিএম
আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২৪, ০৩:১৮ পিএম
প্রিন্ট সংস্করণ

সাইফকে এখনো তাড়া করে হায়েনা

সাইফকে এখনো তাড়া করে হায়েনা
জাতীয় চিড়িয়াখানায় হায়েনার কামড়ে হাত হারানো শিশু সাইফ হাসপাতালে চিকিৎসাকালে (বাঁয়ে); বাড়িতে মায়ের সঙ্গে। ছবি : কালবেলা

আড়াই বছরের শিশু সাইফ হাসান এখনো ঠিকমতো কথা বলতেই শেখেনি। চটপটে শিশুটি গত ৮ জুন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়েছিল রাজধানীর মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায়। ঘুরে বেড়ানোর এক ফাঁকে মায়ের হাত থেকে ছাড়া পেয়ে চলে যায় হায়েনার খাঁচার একদম কাছে। কয়েক সেকেন্ড পরই চিৎকার শুনে মা তাকিয়ে দেখেন—খাঁচার ভেতরে থাকা একটি হায়েনা কামড়ে ধরেছে তার সন্তানের হাত।

টানাটানির একপর্যায়ে হায়েনাটি শিশুটির ডান হাত নিয়ে চলে যায়। এ ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে যায় পুরো পরিবার। যন্ত্রণায় কাতর শিশুটিকে প্রায় দুই সপ্তাহ হাসপাতালে কাটাতে হয়েছে। বাসায় ফিরলেও শারীরিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগেই মানসিক সমস্যা দেখা দিয়েছে সাইফের।

হায়েনার সে ভয়ংকর হামলার কথা মনে করে শিশুটি বারবার কেঁদে ওঠে। ডান হাতের অর্ধেকটা হারানো শিশুর সুস্থতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে পরিবার।

গুরুতর অবস্থায় সাইফকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসা শেষে পরিবারের সঙ্গে আশুলিয়ার ভাড়া বাসায় যায় সাইফ। ছেলে এখন কেমন আছে জানতে চাইলে সাইফের বাবা সুমন মিয়া বলেন, আগের চেয়ে এখন কিছুটা সুস্থ। বাসায় ফেরার পর তার কিছু মানসিক সমস্যা হচ্ছে। কয়েকদিন কান্নাকাটি করেছে প্রচুর। হঠাৎ হঠাৎ কান্না করে ওঠে। হায়েনার হামলার ওই সময়ের ভয়টা এখনো তাকে তাড়া করে ফেরে। বিষয়টি আমরা বুঝতে পেরে তাকে মানসিক হাসপাতালে নিয়ে যাই। বর্তমানে আগের চেয়ে ভালো। তবে আগের মতো এখন আর কথা বলছে না সাইফ।

তিনি আরও বলেন, ১৫ দিন সাইফকে নিয়ে হাসপাতালে ছিলাম। বাসায় ফেরার পর গত বুধবার আবার তার হাতের ব্যান্ডেজ ড্রেসিংয়ের জন্য জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল নেওয়া হয়েছিল। সেখানে আমাদের সঙ্গে চিড়িয়াখানার লোকজনও ছিলেন। তারা চিকিৎসার জন্য যাবতীয় সাহায্য করছেন। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ আমাদের আশ্বস্ত করেছে, আমার ছেলের পাশে থাকবেন; কিন্তু ভবিষ্যতে আমার ছেলেকে কি তারা দেখবেন? যদি না দেখেন তাহলে তার কী উপায় হবে? দুশ্চিন্তা তো হচ্ছেই।

সাইফের বাবা সুমন গার্মেন্টে কাজ করেন। সংসারের হাল ধরতে সুমনের স্ত্রীরও গার্মেন্টে চাকরি শুরুর কথা ছিল। চাকরিও হয়েছিল; কিন্তু সেটা আর তার করা হলো না। একমাত্র সন্তানের এমন দুর্ঘটনার পর ভেঙে পড়েছেন মা। সারা দিন ছেলেকেই সময় দিচ্ছেন তিনি। সবসময় সাইফের সঙ্গে থাকতে হচ্ছে তাকে। ভয়াবহ ওই ঘটনার পর শিশু সাইফকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও প্রথমে নার্স ও চিকিৎসকরা গুরুত্ব দেননি। গণমাধ্যমকর্মীরা হাসপাতালে যাওয়া শুরু করলে তারা গুরুত্ব দেন বলে জানান শিশুটির বাবা। এ জন্য মিডিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সুমন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাইফকে দেখতে গিয়েছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তার হাতে ১ লাখ টাকা তুলে দেন। তখন শিশুটিকে সরকারের পক্ষ থেকে কৃত্রিম হাত লাগিয়ে দেওয়ার আশ্বাসও দেন মন্ত্রী। সরকারের পক্ষ থেকে হাসপাতালকে বলা হয়েছে সুমনের যখন বয়স ১৮ বছর হবে তখন তার কৃত্রিম হাত লাগিয়ে যেন দেওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মোহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, আমরা ঘটনার প্রথম দিন থেকেই তার (সাইফ) খেয়াল রাখছি। সামনের দিনগুলোতেও তার যে কোনো সমস্যায় আমরা পাশে আছি। গত সপ্তাহে হাসপাতালে তার ড্রেসিং করা হয়েছে, তখনো আমাদের লোক সেখানে উপস্থিত ছিল। যখন যেটা প্রয়োজন সেটি আমরা করার চেষ্টা করছি। মা-বাবা শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন, চিড়িয়াখানার পক্ষ থেকে স্থায়ীভাবে কোনো সহযোগিতা করা হবে কি না—এমন প্রশ্নে পরিচালক বলেন, আমরা তো বলেছি তার খোঁজ-খবর রাখব। আমরা তার পাশে থাকব।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শবে মেরাজের ঘটনা থেকে গুরুত্বপূর্ণ ১২ শিক্ষা

‘হ্যাঁ’ ভোটে জনগণের আশার প্রতিফলন ঘটবে : অর্থ উপদেষ্টা

খালেদা জিয়া মানুষ ও দেশের নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন : নূরুল কবীর

যশোর সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার কার্যনির্বাহী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত

শান্তিময় অহিংস শরীয়তপুর গড়তে দোয়া চাইলেন নুরুদ্দিন অপু

চীনা-কানাডিয়ান সম্পর্ক নতুন মোড়ে, শুল্কে ছাড় ঘোষণা

কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এলো মৃত ডলফিন

শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে বেফাকের ৪৯তম কেন্দ্রীয় পরীক্ষা

ষাটগম্বুজ মসজিদ ও বাগেরহাট জাদুঘরের ই-টিকিটিং সেবা চালু

জাপার সঙ্গে জোটে যাওয়া নিয়ে যা বলল ইসলামী আন্দোলন

১০

ফাইনালে না হারা ‌‘এলিট’ কোচ তারা

১১

‘নেতানিয়াহুর সঙ্গে ছবি তুলতেও এখন আর কেউ আগ্রহী নন’

১২

একক নির্বাচনের সিদ্ধান্ত ইসলামী আন্দোলনের, তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাল জামায়াত

১৩

বায়রার নির্বাচনের তপশিল স্থগিত 

১৪

উত্তরায় বহুতল ভবনে আগুনের সূত্রপাত যেভাবে

১৫

বিমানবন্দর থেকে ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

১৬

সবার আগে বিপিএল থেকে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিদায়

১৭

গাড়িচাপায় পাম্প শ্রমিকের মৃত্যু, যুবদলের সাবেক নেতা আটক

১৮

বিএনপি সবসময় ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাস করে : সেলিমুজ্জামান

১৯

বিশ্বকাপের আগেই বড় চমক দেখাল বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ

২০
X