কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৮:৩২ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

যে সূত্রে হলো শুল্ক নির্ধারণ

যে সূত্রে হলো শুল্ক নির্ধারণ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বুধবার বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছেন। বাংলাদেশের ওপরও তিনি ৩৭ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছেন। আগে বাংলাদেশি রপ্তানিপণ্যে শুল্কহার ছিল ১৫ শতাংশ। এ ছাড়া ভিন্ন ভিন্ন দেশের ওপর ভিন্ন পরিমাণ শুল্ক আরোপ করেছেন তিনি। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন কোন পদ্ধতিতে এই শুল্ক-কর নির্ধারণ করেছে।

বিষয়টি বুঝতে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্কারোপ সূত্রটি লক্ষ করা যেতে পারে। বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। মূলত বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি এবং দেশটিতে রপ্তানির পরিমাণ বিবেচনায় এনে এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয় কম। তবে রপ্তানি হয় বেশি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি বেশি। বাংলাদেশ বাণিজ্যে উদ্বৃত্ত। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি যদি কমে, তাহলে সামনে বাংলাদেশের ওপর শুল্ক কর কমতে পারে। আবার বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে গেলে শুল্কহার আরও বাড়তে পারে। অবশ্য ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র এই পর্যালোচনা করবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট করেনি দেশটি।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তরের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করেছে ৮৩৬ কোটি ডলারের পণ্য। বিপরীতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করেছে ২২১ কোটি ডলারের পণ্য। এই হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি ৬১৫ কোটি ডলার। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাণিজ্য ঘাটতিকে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানির পরিমাণ দিয়ে ভাগ করে যা পাওয়া যায়, তার শতাংশ ধরে ট্যারিফ নির্ধারণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ সূত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এর হার হয় ৭৪ শতাংশ। এর অর্ধেক বা ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে বাংলাদেশের পণ্যে।

এ বিষয়ে ফেসবুকে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন জার্মানপ্রবাসী অর্থনীতিবিদ জিয়া হাসান। তিনি লিখেছেন, ‘যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, পাল্টাপাল্টি হারে শুল্ক ও অশুল্ক বাধার ওপর রিসিপ্রোক্যাল ট্যারিফের ভিত্তিতে এই শুল্কের হার নির্ধারণ করা হয়েছে; কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, আমেরিকা হিসাব করেছে, তার সঙ্গে কোন দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কত, সেই ঘাটতিকে আমেরিকার ওই দেশ থেকে আমদানির পরিমাণ দিয়ে ভাগ করে একটি কো-এফিশিয়েন্ট দিয়ে গুণ করে শুল্কহার নির্ধারণ করা হয়েছে।’

হিসাবটা এভাবে হচ্ছে, আমেরিকার বাংলাদেশ থেকে ২০২৪ সালে রপ্তানি ছিল ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার এবং আমদানি ছিল ৭ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার, যার ফলে বাণিজ্য ঘাটতি ভাগ আমদানি দাঁড়িয়েছে ৬৯ শতাংশ, কিন্তু বাংলাদেশের ডিউটি নির্ধারিত হয়েছে ৩৭ শতাংশ। কারণ শূন্য দশমিক ৫৪ কো-এফিশিয়েন্ট দিয়ে গুণ করা হয়েছে। এই কো-এফিশিয়েন্ট হিসাবটা এক্স্যাক্টলি কীভাবে করা হয়েছে, তা কেউ জানে না।

ট্রাম্পের সূত্র যুক্তিসংগত নয় উল্লেখ করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ট্রাম্পের সূত্র ব্যবহার করলে বাংলাদেশ ভারত থেকে পণ্য আমদানিতে ৮৫ শতাংশ এবং চীন থেকে পণ্য আমদানিতে ৯৫ শতাংশ শুল্ক বসাতে পারবে। এভাবে হলে তো বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থা ভেঙে যাবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সিলেটে কঠোর নিরাপত্তা

জনসভা সকালে, রাত থেকে জড়ো হচ্ছেন নেতাকর্মীরা

আগামী প্রজন্মকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান সেলিমুজ্জামানের

শ্বশুরবাড়ি গিয়ে ধানের শীষে ভোট চাইলেন তারেক রহমান

বিএনপির নির্বাচনী থিম সং প্রকাশ

ক্রিকেটারদের সঙ্গে জরুরী বৈঠকে বসবেন ক্রীড়া উপদেষ্টা

শ্বশুরবাড়িতে তারেক রহমান

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ঢাকায় আসছে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৭ সদস্য

সোনাগাজী উপজেলা ও পৌর বিএনপির সঙ্গে আব্দুল আউয়াল মিন্টুর মতবিনিময়

মেহেরপুরে জামায়াতের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ

১০

শ্বশুরবাড়ির পথে তারেক রহমান

১১

ভোজ্যতেলে পুষ্টিমান নিশ্চিত করতে হবে

১২

পে-কমিশনের প্রস্তাবে কোন গ্রেডে বেতন কত?

১৩

নারায়ণগঞ্জে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

১৪

শাহজালালের মাজার ও ওসমানীর কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান

১৫

বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের বার্ষিক ব্যবসায়িক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

১৬

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হাফিজ উদ্দিন মারা গেছেন

১৭

বিশ্বকাপ খেলতে মিরাকলের আশা বিসিবি সভাপতির

১৮

প্রতীক পেয়েই প্রচারণা, হাতপাখার প্রার্থীকে জরিমানা

১৯

সবার জন্য সমান শিক্ষার সুযোগ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব : রাবি উপাচার্য

২০
X