কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৩:২০ এএম
আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:২৫ এএম
অনলাইন সংস্করণ

ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে খেলাপি ঋণ বাড়ছেই

বাংলাদেশ ব্যাংকের লোগো। ছবি : কালবেলা গ্রাফিক্স
বাংলাদেশ ব্যাংকের লোগো। ছবি : কালবেলা গ্রাফিক্স

দেশের ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দুরবস্থা কাটছেই না। বরং দিন দিন খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বাড়ছে। বহুল আলোচিত আর্থিক খাতের ব্যক্তিত্ব প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারের রেখে যাওয়া অনিয়মের প্রভাব এখনো বহন করছে এই খাত। তার মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় থাকা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে খেলাপি ঋণের হার সবচেয়ে বেশি। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও খেলাপি ঋণ ক্রমেই বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত জুন শেষে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩৫ দশমিক ৭২ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে খেলাপি ঋণ ছিল ২৪ হাজার ৭১১ কোটি টাকা বা মোট ঋণের ৩৩ দশমিক ১৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষে এই খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২১ হাজার ৫৬৭ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ২৯ দশমিক ২৭ শতাংশ।

খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ব্যাংকের অবস্থাও ভালো নয়। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তুলনায় ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ দ্রুত বাড়ছে। কারণ, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ব্যাংক খাতে কঠোর তদারকি শুরু হয়েছে, ফলে লুকানো খেলাপি ঋণ ধীরে ধীরে সামনে আসছে। অন্যদিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কয়েক বছর ধরেই প্রকৃত খেলাপি ঋণ দেখিয়ে আসছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে অস্থিরতা এখনো কাটেনি। কয়েকটি ব্যাংকের তারল্য সংকটের কারণে তাদের অবস্থাও নড়বড়ে হয়েছে। যখন কিছু ব্যাংক গ্রাহকের আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়, তখন অনেক গ্রাহক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকেও টাকা তুলে নেন। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ বিতরণ কমে যায়, ফলে আমানত ও ঋণ উভয়ই হ্রাস পাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, তহবিল সংকটের কারণে নতুন ঋণ বাড়ছে খুব ধীরগতিতে। ২০২৫ সালের জুন শেষে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে ৭৭ হাজার ১৪২ কোটি টাকা। এর আগে মার্চ শেষে এই ঋণের পরিমাণ ছিল ৭৬ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে ঋণ বেড়েছে মাত্র ১৮৬ কোটি টাকা। গত বছরের জুনে এই ঋণ ছিল ৭৪ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে ঋণ বেড়েছে মাত্র ২ হাজার ২২৪ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, আমানতের পরিমাণেও খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানত ছিল ৪৮ হাজার ২৫ কোটি টাকা। চলতি বছরের মার্চ শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৯ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা এবং জুনে আরও সামান্য বেড়ে হয় ৪৯ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকা।

খাত বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খেলাপি ঋণের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা ও আমানত বৃদ্ধির ধীরগতি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। এই অবস্থায় কার্যকর সংস্কার ও কঠোর নজরদারি ছাড়া খাতটি স্থিতিশীল হওয়া কঠিন হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আলুবোঝাই পিকআপে ৪০ কেজি গাঁজা, আটক ৩

৩,৩২৪ টাকা কমার পর আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ

ইরানের বিরুদ্ধে বড় হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করলেন ট্রাম্প

পুলিশের অভিযানে হামলা, এসআইকে ছুরিকাঘাত

বন্যায় চকরিয়ায় ১২ হাজারের বেশি পশু-পাখির মৃত্যু

পিএসসির অধীনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের একাধিক পদে নিয়োগ, আবেদন শুরু আজ

নিউজউইকের পর্যালোচনা / ট্রাম্পকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে ইরান যুদ্ধ, কমেছে জনপ্রিয়তা

সকালের মধ্যে বিভিন্ন অঞ্চলে হবে ঝড়, আছে বজ্রবৃষ্টির শঙ্কাও

আওয়ামী লীগ নেতার পদত্যাগ

২৬ জুলাই / ইতিহাসের এই দিনে যা ঘটেছিল

১০

৮-২২ জুলাই / মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি আইআরজিসির

১১

রোববার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ

১২

গাজীপুরে আবাসিক হোটেলে অভিযান, আটক ৭

১৩

২৬ জুলাই / আজকের নামাজের সময়সূচি

১৪

ফিলিস্তিনিদের ব্যক্তিগত গাড়ি ছিনিয়ে নিচ্ছেন ইসরায়েলিরা

১৫

ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে পান করুন এই তিন পানীয়

১৬

ভিসা ছাড়া এশিয়ার যে ৬ দেশ ভ্রমণ করতে পারবেন বাংলাদেশিরা

১৭

এবার গাঁজা গাছসহ গ্রেপ্তার ইয়াবাকাণ্ডে বহিষ্কৃত পুলিশ সদস্য

১৮

সীতাকুণ্ডে যুবককে তুলে নিয়ে নির্যাতনের পর হত্যা, থানায় মামলা

১৯

মেজর লিগের অল-স্টার ম্যাচে খেলবেন না মেসি

২০
X