

নতুন বছরের প্রথম লেনদেনেই ঊর্ধ্বমুখী ধারায় রয়েছে মূল্যবান ধাতুর বাজার। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমতে পারে, এমন প্রত্যাশায় স্বর্ণের চাহিদা শক্ত অবস্থানে রয়েছে। ২০২৫ সালে বড় উত্থানের পর ২০২৬ সালের শুরুতেও সেই ধারা বজায় রেখেছে বাজার। খবর রয়টার্সের।
শুক্রবার রাতে সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ছিল প্রতি আউন্স ৪,৩১৩.২৯ ডলার। দিনের একপর্যায়ে দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৪,৪০২.০৬ ডলারে। এর আগে, গত ২৬ ডিসেম্বর স্বর্ণ সর্বকালের সর্বোচ্চ ৪,৫৪৯.৭১ ডলার ছুঁয়েছিল। পুরো ২০২৫ সালে সোনার দাম বেড়েছে প্রায় ৬৪ শতাংশ।
অন্যদিকে, ফেব্রুয়ারি ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচার্স বাজারে দাম ০.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৩২৯.৬ ডলারে লেনদেন শেষ করেছে।
রুপার বাজারেও উল্লম্ফন দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম বেড়েছে ০.৭ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ৭১.৭৭ ডলারে। ২০২৫ সালের শেষ সপ্তাহে রুপা সর্বকালের সর্বোচ্চ ৮৩.৬২ ডলার স্পর্শ করেছিল।
প্লাটিনামের দাম আরও শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। এ ধাতুটির দাম ৩.৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ২,১২৫.৮০ ডলারে পৌঁছায়। গত বছরের শেষে প্লাটিনাম সর্বোচ্চ ২,৪৭৮.৫০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল।
২০২৫ সালে রুপা ও প্লাটিনাম, দুটিই স্বর্ণকে ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ হিসেবে রুপার স্বীকৃতি, সরবরাহ সংকট এবং শিল্প ও বিনিয়োগ চাহিদা বাড়ায় রুপার দাম গত বছর ১৪৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে। একই সময়ে প্লাটিনামের দাম বেড়েছে ১২৭ শতাংশ।
প্যালাডিয়ামও ঊর্ধ্বমুখী। এই ধাতুটির দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১,৬৩৬.৪৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালে প্যালাডিয়ামের দাম বেড়েছিল ৭৬ শতাংশ, যা গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বার্ষিক উত্থান।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নীতিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা এবং শিল্প খাতে ধাতুর বাড়তি ব্যবহার মূল্যবান ধাতুর বাজারে এই শক্তিশালী প্রবণতা ধরে রাখতে পারে।
মন্তব্য করুন