

ভেনেজুয়েলায় হামলার পর দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি তাকে বিচারের মুখোমুখি করার কথা জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। দেশটিতে কয়েক দফায় মাদকবিরোধী অভিযানের নামে নৌযানে হামলার পর এ ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা সম্পর্ক কেমন ছিল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শনিবার (০৩ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে হুগো শাভেজের শাসনামল থেকে একজনকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে।
১৯৯৯ সালে হুগো শাভেজ ক্ষমতা গ্রহণ করেন। সাম্রাজ্যবাদবিরোধী রাজনৈতিক এজেন্ডা নিয়ে তিনি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তিনি ‘বলিভারিয়ান বিপ্লব’ শুরু করেন। সংবিধান সংস্কার ও তেল খাত জাতীয়করণের ফলে দ্রুতই ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েন শুরু হয়।
২০০০-এর দশকের শুরুতে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা ও বৈরিতা দেখা দেয়। শাভেজ রাশিয়া, চীন ও ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুললে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে। ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত এনজিও ও কূটনীতিকদের বহিষ্কার করে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন কারাকাসের বিরুদ্ধে কর্তৃত্ববাদ ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ তোলে।
২০০২ সালে দেশটিতে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা হয়। একটি স্বল্পস্থায়ী সামরিক অভ্যুত্থানে শাভেজ ৪৮ ঘণ্টার জন্য ক্ষমতাচ্যুত হন। ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রকে এই ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ করলেও ওয়াশিংটন তা অস্বীকার করে। এই ঘটনা দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অবিশ্বাস আরও গভীর করে।
২০১৩ সালে নিকোলাস মাদুরোর উত্থান হয়। শাভেজের মৃত্যুর পর নিকোলাস মাদুরো অল্প ব্যবধানে নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রেসিডেন্ট হন। তার শাসনামল শুরু হয় অর্থনৈতিক মন্দা ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও খারাপ সম্পর্কের মধ্য দিয়ে।
২০১৪-১৫ সালে প্রথম বড় মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয় দেশটি। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও ভিসা সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। এতে দেশের অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ে।
২০১৭-১৯ সালে ভেনেজুয়েলায় অর্থনৈতিক সংকট তীব্র হয়। ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলার আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারে প্রবেশ বন্ধ করে দেয় এবং তেল খাতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর মধ্যে দেশটি ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে।
২০১৮ সালে বিতর্কিত নির্বাচনে পুনরায় নির্বাচিত হন মাদুরো। তার পুনর্নির্বাচন ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়। বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদো নিজেকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন এবং যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতি সমর্থন জানায়।
২০২৪ সালে বিতর্কিত ভোট হয়। এ সময়ে এদমুন্দো গনসালেসের বিরুদ্ধে মাদুরো আবারও নির্বাচনে জয়ী হন। জাতিসংঘ ও একাধিক দেশ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
২০২৫ সালে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর ভেনেজুয়েলার ওপর চাপ বাড়ান। জো বাইডেন প্রশাসনের সময়কার সীমিত কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার নীতিও তিনি প্রত্যাহার করেন।
মন্তব্য করুন