চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানা এলাকায় এস আলম চিনিকলের আগুন এখনো পুরোপুরি নেভেনি। মঙ্গলবার (৫ মার্চ) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কারখানার গুদামে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। তবে আগুন গুদাম থেকে ছড়ায়নি। নতুন করে আবারও শুরু হওয়া আগুন সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত রিমোট দিয়ে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে।
ঘটনাস্থলে কাজ করা ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা জানান, আগুন নির্বাপণের অত্যাধনিক মানবযন্ত্র লুফ ৬০ দিয়ে রিমোটের সাহায্যে সকাল থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ যন্ত্রটি দিয়ে প্রতি মিনিটে ৩ হাজার লিটার স্পিডে পানি ছাড়া সম্ভব। আমরা এখন পর্যন্ত ১ হাজার লিটার স্পিডে পানি মেরে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, অত্যাধুনিক যন্ত্র লুফ ৬০ দিয়ে রিমোটের সাহায্যে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে সহযোগিতা করছেন ১২-১৫জন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। প্রতি মিনিটে ১ হাজার লিটার খুব স্পিডে মারা হচ্ছে। এটির সক্ষমতা প্রতি মিনিটে ৩ হাজার লিটার। আমরা ইচ্ছা করলে আরও দূরবর্তী স্থান থেকেও এ যন্ত্র কন্ট্রোল করা যাবে।
ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল মালেক বলেন, গতকাল থেকেই আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। মধ্যখানে রাত সাড়ে ১০টায় একবার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। কিন্তু এ আগুন সকাল সাড়ে ৭টায় ফের জ্বলতে শুরু করে। আমাদের টিম কাজ করছে। অত্যাধুনিক যন্ত্র লুফ ৬০ দিয়ে রিমোটের সাহায্যে পানি মারা হচ্ছে। তিনটি পাম্প এক সঙ্গে যে পানি সরবরাহ করতে পারে, এ যন্ত্র একাই সে পরিমাণ পানি সরবরাহ করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, যেখানে আগুনটি লাগে এর দক্ষিণ পাশেই রয়েছে আরেকটি বড় গুদাম। কারখানার অন্যান্য অংশেও যেন আগুন ছড়াতে না পারে সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। প্রায় ৭টি লাইন দিয়ে আমরা তা বাঁধাগ্রস্থ করতে সক্ষম হয়ছি এখন পর্যন্ত। যার কারণে আগুনটি ছড়াতে পারেনি। এ আগুন এখন পর্যন্ত গুদামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে কিছু সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছে ফায়ার সার্ভিস। সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. আবদুল মালেক বলেন, অত্যাধুনিক যন্ত্র লুফ ৬০ দিয়ে আমরা যে পানি ছেটাচ্ছি তা টিনের চালেই ছেটানো যাচ্ছে। টিনের ফাঁকে যতটুকু পানি প্রবেশ করেছে ততটুকু কালো আকার ধারণ করেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তার জন্য আমরা মালিকপক্ষকে অনুরোধ করেছি যেন টিনের চালটি ভেঙে ফেলা হয়। এক পাশ থেকে অপর পাশে যখন পানি দেওয়া সম্ভব হবে তখনই ভেতরের আগুন নিভে যাবে। আমরা যদি ভেতরে প্রবেশ করতে পারি তাহলে বিকেল নাগাদ আপনাদের সুসংবাদ দিতে পারব।
এদিকে আগুন লাগার ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার সার্বিক ও ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার আনোয়ার পাশা।
নগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি) শাকিলা ফারজানা বলেন, ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আনোয়ার পাশা ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর থেকেই ফায়ার সার্ভিস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার। পর্যায়ক্রমে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ির সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না।
প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, রমজানকে সামনে রেখে এ গোডাউনে চার লাখ টন অপরিশোধিত চিনি ব্রাজিল থেকে আমদানি করা হয়েছিল। এর মধ্যে, মজুত করা এক লাখ টন অপরিশোধিত চিনি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
মন্তব্য করুন