পহেলা আষাঢ় থেকে টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে সৃষ্ট প্লাবনে দুর্দশায় নিপতিত হয়েছে তিস্তা নদীর দুই কূলের অধিবাসীদের জীবন। অধিকাংশ বাড়িঘর পানিতে নিমজ্জিত থাকায় খাওয়াদাওয়া নিয়ে বড় বিপদে পড়েছেন তারা। তাই তো কেউ ত্রাণসামগ্রী নিয়ে আসবে বলে নদীর দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন তারা। এমন দৃশ্যের দেখা মেলে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের তিস্তা পাড়ে গেলে।
সোমবার (৮ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সুন্দরগঞ্জের তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পূর্ব ধারের গ্রামগুলোসহ তিস্তার দুই পাড়ের বিস্তৃত এলাকা বৃষ্টি ও বন্যার জলে থইথই করছে। যদিও রোববার রাত থেকে তিস্তার পানি কমতে শুরু করেছে, তবুও চারদিকে শুধু পানি আর পানি। মাঝখানে থাকা বাড়ি ও পাড়াগুলো এখনো যেন দ্বীপের মতো ভাসছে। বন্যার কবলে পড়েছে ৫৫টি গ্রামের অন্তত ২০ হাজার মানুষ। অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন উঁচু সড়ক, স্কুল ও মাদ্রাসায়।
পথঘাট ডুবে যাতায়াতের পথরুদ্ধ করে দিয়েছে বানভাসিদের। ভরসা একমাত্র নৌকা কিংবা ভেলা। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাওবা কোমরপানি, আবার কোথাওবা বুকপানি থাকায় রান্না করারও অবস্থা নেই অনেকের। কখনো একবেলা খাবার জুটলেও জুটছে না আরেক বেলা। অনেককেই শুকনো খাবার খেয়েই কাটিয়ে দিতে হচ্ছে দিনরাত। টিউবওয়েলগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট।
এ অবস্থায় ত্রাণের আশায় তিস্তার দুই তীরে অপেক্ষমাণ থাকতে দেখা যায় বিভিন্ন বয়সী নারী, পুরুষ ও শিশুদের। কেউবা গামলা, কেউবা বালতি, কেউবা পাতিল আবার কেউবা ব্যাগ হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন দুর্দশা লাঘবে নৌকা ভরে ত্রাণ নিয়ে আসবে বলে। নৌকা কিনারে আসতে দেখলে পানিতেও নামছেন কেউ কেউ।
উপজেলা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা মোহসীন সর্দার নিজ অর্থে ত্রাণ সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন বন্যার্তদের। কাপাসিয়ার ইউনিয়নের লালচামার ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কছিম বাজার, কাজিয়ার চর, চর উজানবুরাইল, বাদামের চরসহ কয়েকটি স্থানে প্রায় দুই হাজার মানুষকে দিয়েছেন ত্রাণ সহায়তা।
অন্যদিকে, গাইবান্ধা-১ আসনের এমপি নাহিদ নিগার সাগর অংশ নিয়েছেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নেওয়া ত্রাণ কার্যক্রমে। সেখানে ৮০০ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে জিআর চাল ও শুকনো খাবার।
মন্তব্য করুন