কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা জিঞ্জিরাম নদীর ওপর ভাসমান সেতুর উদ্বোধন করা হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুলাই) সকালে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য বিপ্লব হাসান পলাশ এ সেতুর উদ্বোধন করেন।
এ সেতুর মাধ্যমে উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার চারটি গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সীমান্তঘেঁষা মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় সংসদ সদস্য সেতুটি নির্মাণ করে দেন।
জানা গেছে, রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের পূর্ব কাউয়ারচর ও চর বোয়ালমারী নামের দুটি গ্রাম। পূর্ব কাউয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে রয়েছে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তিন পাশে জিঞ্জিরাম নদী, অন্যদিকে ভারতের কাঁটাতার বেষ্টিত সীমান্ত। গ্রামগুলোতে প্রায় তিন হাজারের অধিক মানুষের বসবাস।
এ ছাড়া নদী ও সীমান্তবর্তী হওয়ায় ওই এলাকায় পশ্চিম কাউয়ারচর, ধর্মপুর গ্রামের মানুষের জমি রয়েছে। ফসল চাষাবাদের জন্য তাদেরও প্রতিদিন ওই এলাকায় যেতে হয়। যুগ যুগ ধর সীমান্তের লোকজন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মাথায় নিয়ে ঝুঁকির মধ্যে নৌকায় পারাপার হয়ে আসছিলেন। ১২০ ফুট দৈর্ঘ্যের ভাসমান সেতু গ্রামবাসীর জীবনমান উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে আশা স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দা সাজেদুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, সেতুটি নির্মাণ হওয়ার ফলে বিজিবি সীমান্তে তাদের টহল জোরদার করতে পারবে। এতে সীমান্ত দিয়ে মাদক ও চোরাচালান কমে আসবে।
আরেক বাসিন্দা বুলবুলি আখতার বলেন, ছোট ছোট বাচ্চারা নৌকা করে স্কুল যেত। নৌকা না পেলে সময়মতো স্কুল যেতে পারত না। এখন হেঁটে বাচ্চারা ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারবে।
ওই গ্রামের মোখলেস মিয়া বলেন, কৃষিপণ্য নিয়ে বাজারে যাওয়া অনেক কষ্ট ছিল। রোগী নিয়েও ভোগান্তি পোহাতে হতো। সাময়িকভাবে ভাসমান সেতু হওয়ায় এ কষ্ট কমবে। আমরা এখানে স্থায়ী একটি সেতু চাই। এতে করে আমাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব হবে।
কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য বিপ্লব হাসান পলাশ বলেন, প্রত্যন্ত ও সীমান্ত এলাকার মানুষ যেন সরকারের উন্নয়ন বঞ্চিত না হয় সেজন্য ভাসমান সেতু দিয়ে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়েছে। আগামীতে সেখানে স্থায়ীভাবে সেতু নির্মাণ করা যায় কিনা সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন