কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৪, ১২:২৯ এএম
আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৪, ০৮:০৮ এএম
অনলাইন সংস্করণ

রাতে খোলা হয়নি কাপ্তাই বাঁধের গেট

কাপ্তাই বাঁধের গেইট। ছবি : কালবেলা
কাপ্তাই বাঁধের গেইট। ছবি : কালবেলা

কাপ্তাই বাঁধের গেইট শনিবার রাত ১০ টায় খোলার কথা থাকলেও তা খোলা হয়নি। ১৬টি জলকপাটে ৬ ইঞ্চি করে খুলে দেওয়া হতে পারে রোববার (২৫ আগস্ট) সকাল ৮ টায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাপ্তাই জল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক এ টি এম আব্দুজ্জাহের।

তিনি জানান, প্রত্যাশিত পানির ফ্লো না থাকায় এবং রাতে বাঁধ খোলা আতঙ্কিত হওয়ায় সম্ভাবনাসহ সব দিক বিবেচনা করে রোববার সকাল ৮ দিকে বাঁধ খুলে দেওয়া হবে।

এর আগে দুপুরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ম্যানেজার এটিএম আব্দুজ্জাহের জানান, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আজ রাত ১০টায় কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১৬টি স্পিলওয়ের গেট ৬ ইঞ্চি করে খুলে দেওয়া হবে। এ জন্য ভাটি অঞ্চলকে জরুরি সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়।

গত কয়েক দিনের ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে পানি বেড়ে সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা বা বিপৎসীমার কাছাকাছি এসে পৌঁছেছে। পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোর ফলে হ্রদ সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ইতোমধ্যে কাপ্তাই হ্রদের পানিতে হ্রদের নিম্নাঞ্চলের অনেকের ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। দ্রুত সময়ে যদি কাপ্তাই বাঁধের পানি ছাড়ার ব্যবস্থা করা না হয়, তবে কাপ্তাই হ্রদসংলগ্ন অনেক ঘরবাড়ি ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

এদিকে কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়াতে দেশের একমাত্র পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদনও বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রে দৈনিক পাঁচটি ইউনিটে সর্বোচ্চ ২১৯ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কাপ্তাই বাঁধ বাংলাদেশের রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলায় অবস্থিত ও চট্টগ্রাম থেকে ৬৫ কিলোমিটার উজানে কর্ণফুলি নদীর উপর নির্মিত একটি বাঁধ। কাপ্তাই হ্রদ নামে পরিচিত এটির একটি কৃত্রিম জলাধার রয়েছে যার পানি ধারণক্ষমতা ৫২,৫১,০০০ একর (২১,২৫,০০০ হেক্টর)। বাঁধ ও হ্রদটি নির্মাণের প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা। ১৯৬২ সালে এটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়। বাঁধের সঞ্চিত পানি ব্যবহার করে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। ১৯৬২ ও ১৯৮৮ সালের মধ্যে এখানে সর্বমোট ২৩০ মেগাওয়াট (৩,১০,০০০ অশ্বশক্তি) বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটর বসানো হয়। এটি বাংলাদেশের বৃহত্তম বাঁধ ও একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র।

এ ছাড়া এখানে ‘কাপ্তাই ৭.৪ মেগাওয়াট সোলার পিডি গ্রিড কানেকটেড বিদ্যুৎকেন্দ্র' নামে দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হয়। পানিবিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরে বাঁধের পাশে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের এই সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের অবস্থান।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৪ বছরে বিকাশে ৫০ লাখ ডিপিএস

লোকজন কী সুন্দর বিয়ে করছে, আমি একটা প্রেমও করতে পারছি না : শ্রীলেখা

প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমা চাইলেন নেতানিয়াহু

আদালতের সামনে দুজনকে গুলি করে হত্যা, ভিডিও ফুটেজে যা দেখা গেল

অজুর সময় কথা বললে কি অজু মাকরুহ হয়ে যায়?

সুন্দরবনে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ২০ বনদস্যু বাহিনী

গোপনে জমি লিখে নিলেন দলিল লেখক, বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার

এবার আফ্রিদির রেকর্ড ভাঙলেন রোহিত শর্মা

পদ্মায় ধরা পড়ল ৭ কেজির বিরল শাপলাপাতা মাছ

বিপিএলের নিলামে অংশ নিতে পারবেন না ৯ ক্রিকেটার

১০

মেহেরপুরে আইন ভঙের প্রদর্শনী!

১১

যে কারণে জাকের-মাহিদুলকে দলে নিতে বাধ্য হলো নোয়াখালী

১২

আওয়ামী লীগ ছাড়াই নির্বাচন হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

১৩

নোবিপ্রবির পার্শ্ববর্তী এলাকায় বালু উত্তোলন, ঝুঁকিতে স্থাপনা

১৪

যাত্রীবাহী বাস থেকে সাড়ে ১২ মণ অবৈধ শাপলাপাতা মাছ জব্দ

১৫

কর্মস্থলে যাওয়া হলো না, সড়কেই প্রাণ গেল সাংবাদিকের

১৬

পাকিস্তানসহ ৩ দেশে দূতাবাস বন্ধের সিদ্ধান্ত, কারণ জানাল ফিনল্যান্ড

১৭

আদালতে এনামুলদের রিট খারিজ

১৮

শেখ হাসিনাকে ফেরত না দিলে ভারতের সঙ্গে যে সম্পর্ক হবে

১৯

সৌমেনের ক্যারিয়ারে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে অনির্বাণ!

২০
X