লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৩, ০৪:৪০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

গ্রেপ্তার আতংকে পুরুষশূন্য গ্রাম

গ্রেপ্তার আতংকে পুরুষশূন্য গ্রাম

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার বালাপুকুর গ্রামে বিদ্যুৎ অফিসের সরকারি গাড়ি ভাঙচুর মামলায় ৩৪ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আতংকে এখন পুরুষশূন্য গ্রাম।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে জেলার আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ী ইউনিয়নের বালাপুকুর এলাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ চুরির খবর পেয়ে অভিযান পরিচালনা করেন ম্যাজিস্ট্রেট আ. হালিমসহ বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মচারীগণ। অভিযানকালে এজাহার নামীয় ১নং আসামি বাদশা আলমগীর লিটনের গোডাউন ঘরে মিটার কারসাজি করে বিদ্যুৎ চুরির পাশাপাশি বাজারের বেশকিছু দোকানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করার সত্যতা পান ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট। এতে সরকারের ২৭ লাখ ৬১ হাজার ২২৫ টাকা ভ্যাটসহ লোকসান হয় বলে জানা যায়।

উপস্থিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে আলামতসহ বিদ্যুৎ চুরির কারণে কয়েকজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দেন। এ সময় আসামি বাদশা আলমগীর লিটনের প্ররোচনায় কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি বিদ্যুৎ অফিসের গাড়ি ভাঙচুর করে আসামিদের ছিনিয়ে নেয়। এ সময় তারা বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মচারীদের মারধর করে। পরে পরিস্থিতি শান্ত করতে ম্যাজিস্ট্রেটসহ বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

পরদিন ২৭ এপ্রিল বিকেলে আদিতমারী থানায় চারজনের নামসহ ৫০ থেকে ৬০ জন অজ্ঞাতনামা দেখিয়ে একটি এজাহার জমা দেন বিদ্যুৎ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী উমর ফারুখ। যার নং-২৮/১০৪, তারিখ ২৭ এপ্রিল ২৩ ইং। এ মামলায় এখন পর্যন্ত একজন জামিনে এবং ৭ জন জেলহাজতে রয়েছেন।

স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল জলিল অভিযোগ করেন, ইউপি সদস্য মঞ্জুরুল আলম বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রশান্ত কুমারের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করে মামলায় মূল আসামির নাম দেওয়ার জন্য জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতের কাছে গত ৩০ এপ্রিল আবেদন করেন। পরে ২ মে বিদ্যুৎ আদালতে ওই ইউপি সদস্যের প্রতিপক্ষ সাবেক ইউপি সদস্য আ. জলিলসহ ৩৪ জনের নাম উল্লেখ করে এজাহার জমা দেন। আর ওই এজাহারে স্বাক্ষর করেন নির্বাহী প্রকৌশলী প্রশান্ত কুমার রায়। এজাহারে যে ৩৪ জনের নাম দেওয়া হয়েছে তাদের বেশিরভাগই ঘটনাস্থলে ছিলেন না।

এ মামলার প্রথম এজাহারে বাদী উমর ফারুখ চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৫০ থেকে ৬০ জনকে দেখানো হয়। কিন্তু মামলার তদন্তকারী সংস্থা থানা পুলিশকে তদন্ত করার সুযোগ না দিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রশান্ত কুমার ও ইউপি সদস্য আলমের সঙ্গে যোগসাজশ করে ৩৪ জনের নামে নতুন করে এজাহার দাখিল করেন। গ্রামের সাধারণ মানুষকে হয়রানি করতে মামলা দেওয়া হয়। এখন গ্রেপ্তার আতংকে পুরো গ্রাম পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। ওই বালাপুকুর গ্রামের পুরুষ মানুষগুলো বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

লালমনিরহাট পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৩৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। জেলহাজতে আছেন কয়েকজন। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কালবেলা/এনএএস
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যমুনার ভয়ংকর ভাঙনে নির্ঘুম চরাঞ্চলবাসী, বিলীন দুই শতাধিক ঘরবাড়ি

নতুন করে জ্বালানির দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী

আল আকসায় ইসরায়েলিদের অনুপ্রবেশের নিন্দা ৮ মুসলিম ও আরব দেশের

ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে পাঠানো মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করছেন, কখন নিশ্চিত না

ইরাকের এরবিল বিমানবন্দর এলাকায় বিস্ফোরণ

ম্যাজিক চুলায় রান্না করতে গিয়ে গৃহবধূর মৃত্যু

ওটামেন্ডির পর অবসরের ইঙ্গিত দিলেন পারেদেস

কবে যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসছেন চীনের প্রেসিডেন্ট, জানালেন ট্রাম্প

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে ‘গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার’ আহ্বান মির্জা ফখরুলের

১০

বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে দিনাজপুরে রথযাত্রায় হাজারো ভক্তের ঢল

১১

সিকৃবির কৃষি অর্থনীতি ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে ছাত্র সমিতির নতুন কমিটি 

১২

২৩তম কমনওয়েলথ গেমস উদ্বোধন / টেকসই পৃথিবী গড়ার আহ্বান রাজা চার্লসের

১৩

মেহেদির রং না মুছতেই প্রাণ গেল যুবকের

১৪

জনগণের পালস বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার: চরমোনাই পীর

১৫

মোহাম্মদপুরে পুলিশ কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাত

১৬

বিয়ের ৩ দিন পর প্রাণ গেল যুবকের

১৭

ময়নাতদন্তের ফল প্রকাশ / লন্ডনে অতিরিক্ত মাদক ও অ্যালকোহল সেবনে সৌদি যুবরাজের মৃত্যু

১৮

আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে যেসব স্থানে

১৯

ময়মনসিংহে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ

২০
X