কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০২৪, ০৫:৩৭ পিএম
আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২৪, ০৬:০২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

মালয়েশিয়া পালাতে গিয়ে আ.লীগ নেতা বাহারুল গ্রেপ্তার

এস এম বাহারুল ইসলাম। ছবি : কালবেলা
এস এম বাহারুল ইসলাম। ছবি : কালবেলা

খুলনার কয়রা উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম বাহারুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৭ নভেম্বর) মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে রাজধানী হজরত শাহজালাল অন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) সকালে তাকে পাইকগাছা থানায় নেওয়া হয়।

জানা যায়, গত ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার গণঅভুত্থানে সরকার পতনের পর বাহারুল ইসলাম পরিবার নিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যান। ওই দিন তার বাড়ি ও গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। এলাকায় তার বিরুদ্ধে জমি ও ঘের দখল ছাড়াও সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।

পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উজ্জল হোসেন জানান, বাহারুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে পাইকগাছা থানার একটি দল গতকাল বুধবার রাতেই ঢাকায় রওনা হয়। আজ সকালে তাকে থানায় আনা হয়েছে। গত ২৬ আগস্ট উপজেলার আগড়ঘাটা এলাকায় ট্রলারে হামলার অভিযোগে ফসিয়ার রহমান নামে এক ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়।

আ.লীগ নেতা ও কয়রা সদরের ইউপি চেয়ারম্যান বাহারুল ইসলাম দলের পদ-পদবি কাজে লাগিয়ে গড়ে তোলেন অঢেল সম্পদ। ২০১৯ সালে কয়রা সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভিপি তালিকাভুক্ত ৪০ বিঘা জমি দখল করে প্লট আকারে বিক্রি করেন। তার বিরুদ্ধে কয়রা সদরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রায় ১০ কাঠা জমি দখলে নিয়ে দোকান ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া কয়রা কপোতাক্ষ কলেজের সামনে সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ১৬ শতক জমির ওপর পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করে হাসপাতাল বানিয়েছেন তিনি।

বিভিন্ন সময়ে তার হাতে লাঞ্ছিত হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, অধ্যক্ষ, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর কয়রা সদরে নিজস্ব বাহিনী গড়ে তোলেন তিনি। তখন বাহারুলের নেতৃত্বে ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে ৬০টি চিংড়ির ঘের দখল করা হয়। সংবাদপত্রে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বাহারুলের নেতৃত্বে কয়রায় প্রেস ক্লাবে হামলা করা হয়। এতে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার সাংবাদিক হুমায়ুন কবির ও সমকাল পত্রিকার হারুনার রশিদ গুরুতর আহত হন।

২০২২ সালে কয়রায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লোনাপানির ঘের বন্ধের নির্দেশনা আসে। এসময় বাহারুল তার বাহিনী দিয়ে প্রথমে লোনাপানি উত্তোলনের পাইপ ভেঙে দেওয়া শুরু করেন। পরে ঘেরপ্রতি পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা নিয়ে লোনাপানি তুলে ঘের করার ব্যবস্থাও করে দেন তিনি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভালুকায় বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

আরাও এক আসন থেকে সরে দাঁড়ালেন জামায়াত প্রার্থী

গভীর রাতে বিসিবি সভাপতি বুলবুলের দেশ ছাড়ার গুঞ্জন!

ডাকসু নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য : দুঃখ প্রকাশ সেই জামায়াত নেতার

আর্সেনালকে হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগ জমিয়ে তুলল ম্যানইউ

তৌহিদ হোসেন ও ইসহাক দারের ফোনালাপ

ইয়ামালের অসাধারণ গোলে আবারও লা লিগার শীর্ষে বার্সা

ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের স্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছে, দাবি তার ভাইয়ের

কিশোরদের কানে ধরে ওঠবস বিতর্ক, ব্যাখ্যা দিলেন ডাকসুর সর্বমিত্র

বাগেরহাটের ডিসি-এসপিকে ফোন করে হুমকি

১০

বিএনপির জনসভার ১৮টি মাইক, ৫ কয়েল তার চুরি

১১

দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বিএনপির রাজনীতি : রিজভী

১২

সিরাজগঞ্জে বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের শীতবস্ত্র বিতরণ

১৩

তারেক রহমানই বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে পারবেন :  সালাম

১৪

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঢামেকে শোক বই, উদ্বোধন করলেন ড্যাব সভাপতি 

১৫

শাকিবের গ্রিন কার্ড পাওয়ার ‘গোপন’ খবর ফাঁস করলেন অমিত হাসান

১৬

ইসিকে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছ ভোট গণনা নিশ্চিত করতে হবে : রবিউল

১৭

ঢাবির মাঠে খেলতে আসায় কানে ধরালেন ডাকসুর সর্বমিত্র

১৮

সোমবার গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

১৯

তারেক রহমানের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই : মঈন খান

২০
X