

এক সময় এলাকার চিহ্নিত ছিনতাইকারী, পরে মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়া এবং শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে প্রভাবশালী হয়ে ওঠা সাভারের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভয়ংকর এক মাদক সাম্রাজ্যের অবসান ঘটিয়েছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মো. বিল্লাল ওরফে ফান্টু বিল্লালকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাভার পৌরসভার মজিদপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত বিল্লাল ওই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল গনির ছেলে। তিনি সাভার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী ও সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ডিবি পুলিশ কালবেলাকে জানায়, প্রায় দেড় দশক ধরে সাভারের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকের সরবরাহ ও নিয়ন্ত্রণে বিল্লাল নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। তার হাত ধরেই গড়ে ওঠে একটি সংঘবদ্ধ মাদক সিন্ডিকেট, যা দীর্ঘদিন এলাকায় দাপটের সঙ্গে কার্যক্রম চালিয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে থাকায় বিল্লালের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে কেউ সাহস পাননি। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক ছত্রছায়াই তাকে অপরাধ কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে চালানোর সুযোগ করে দেয়।
এ বিষয়ে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. সাইদুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, বিল্লাল সাভার পৌরসভার সাবেক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে কারাবন্দি রুবেল মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এই সম্পর্কই এলাকায় তার প্রভাব আরও জোরালো করে তোলে। ক্ষমতার পালাবদলের পরও নিজের অবস্থান ধরে রাখতে কৌশল বদলান বিল্লাল। অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্টের পর তিনি স্থানীয় এক বিএনপি নেতার ছত্রছায়ায় গিয়ে পুনরায় মাদক নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। গ্রেপ্তারকৃত বিল্লাল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকের বড় সিন্ডিকেট পরিচালনা করছিল।
বিল্লাল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংশ্লিষ্ট দুটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামিসহ মোট তিনটি মামলায় অভিযুক্ত। গ্রেপ্তারের পর তাকে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। শুধু বিল্লাল নয়, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে না পারে সে লক্ষ্যে আওয়ামী দোসরদের আইনের আওতায় আনতে ডিবি পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
বিল্লালের গ্রেপ্তারে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে মাদক কারবারিদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। স্থানীয়দের আশা, এ অভিযান যদি ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকে, তাহলে সাভারে গোপনে গড়ে ওঠা মাদক সাম্রাজ্যে বড় ধরনের ভাঙন সৃষ্টি হবে।
মন্তব্য করুন